জয়পুরহাটে সাড়ে ২২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস

আগের সংবাদ

সাফের জন্য বাংলাদেশ দল ঘোষণা

পরের সংবাদ

আ.লীগ ধরে রাখতে চায় নৌকার বিজয় : দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ , ৩:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮, ৩:২৮ অপরাহ্ণ

বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলা, দুটি পৌরসভা ও ৩৩টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বান্দরবান সংসদীয় এলাকা। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রায় আড়াই লাখ ভোটার অধ্যুষিত বান্দরবান আসনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে। যোগ দিচ্ছেন সভা-সমাবেশ ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মাঝেও আগ্রহের কমতি নেই। আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। এখানে সব জাতীয় নির্বাচনেই বিজয়ী হয়েছেন নৌকার প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিং। আগামী নির্বাচনেও তিনি দলের শক্তিশালী প্রার্থী। বীর বাহাদুর দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে একটানা এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকায় ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে বান্দরবান জেলায়। তার হাত দিয়েই এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। বান্দরবান আসন নৌকার ঘাঁটি হওয়ায় এবারো এখানে কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই নৌকার প্রার্থী বিজয়ী হতে পারবেন বলে মনে করেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।
তবে বান্দরবান পার্বত্য জেলায় আওয়ামী লীগ ছাড়াও রয়েছে বিএনপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) অবস্থান। এর মধ্যে বিএনপিতে রয়েছে দন্দ্ব। ইউপিডিএফ-জেএসএস দ্বন্দ্বে রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় হচ্ছে খুনাখুনি ও হানাহানি। এ কারণে আঞ্চলিক দলগুলো খুব একটা জনসমর্থন ধরে রাখতে পারছে না।
প্রতিবারে মতো এবারো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। তবে এ নির্বাচনেও দলটিতে কোন্দলের আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, কোন্দল নিরসন করতে কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় চেষ্টা করেও দুই মামা-ভাগিনার বিবাদ মেটাতে সক্ষম হননি। আগামী নির্বাচনে দলের সম্ভাব্য দুই প্রার্থী হলেন সাচিংপ্রু (জেরী) ও মাম্যাচিং।
আগামী নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর (উশৈসিং) এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচংগ্যা ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবুর রহমান। অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির একপক্ষের নেতা সাচিংপ্রু জেরী এবং আরেক পক্ষের নেতা মাম্যাচিং।
আগামী নির্বাচনে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) আলাদা প্রার্থী নাও থাকতে পারে বলে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায় সূত্রে জানা গেছে।
মনোনয়ন বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, দলের একটা গঠনতন্ত্র আছে। কেন্দ্রীয় অনুমোদন ছাড়া আমাকে কেউ বহিষ্কার করতে পারে না। গত মাসে কেন্দ্রীয় কমিটির মিটিংয়ে সভানেত্রীর শেখ হাসিনা ওবায়দুল কাদেরসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের বলে দিয়েছেন বান্দরবানে মুজিব, প্রসন্নকে নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। কমিটি নিয়ে যা ইচ্ছা তা করবে না। সুতরাং শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগ কারো পৈতৃক সম্পত্তি নয়। বহিষ্কারের কোনো কাগজপত্র আমার হাতে আসেনি। আমি এখনো জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। আমিও দলের হয়ে মনোনয়ন চাইব।
এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রসন্ন কান্তি তংচংগ্যা ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মজিবুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কারের পর প্রকাশ্যে না হলেও ভেতরে ভেতরে অনেকটা কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে দলের মধ্যে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক লক্ষীপদ দাস বলেন, দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে ষষ্ঠবারের মতো নৌকার প্রার্থী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের মনোনয়ন চাইতে সবাই একমত। বীর বাহাদুরই নিশ্চিত মনোনয়ন পাবেন। বীর বাহাদুরের বিকল্প কেউ হতে পারেন না। আওয়ামী লীগে আর কোনো বিকল্প প্রার্থী নেই। তিনি একক প্রার্থী। বীর বাহাদুর পাহাড়ি-বাঙালি সবার নেতা। এ অঞ্চলের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয়।
প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে জেলা বিএনপির একাংশের সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ রেজা বলেন, নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকার ছাড়া নির্বাচনে যাবেন না তারা। অন্যদিকে জেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি মাম্যাচিংয়ের নেতৃত্বে তৃণমূলে সংগঠিত হচ্ছে দলটি। তিনি বলেন, আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তারেক রহমানের নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি।