ল্যাকাজেতের বীরত্বে জিতল আর্সেনাল

আগের সংবাদ

প্লাস্টিক ব্যাগে পাওয়া গেল ১৪ শিশুর দেহাবশেষ

পরের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় গেলে নির্যাতিত হতে হবে: ওবায়দুল কাদের

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ , ১০:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮, ১০:২৯ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সহায়তা চেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, এই অপশক্তি ক্ষমতায় গেলে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর নির্যাতন নেমে আসবে।

রবিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পলাশী মোড়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার আগে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের ঘটনা তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের কি ২০০১ সালের কথা মনে আছে? তখন বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর মতো সাম্প্রদায়িক শক্তি ক্ষমতায় আসার পরপরই সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নেমে এসেছিল। সংখ্যালঘু নারীরা ধর্ষিতা হয়েছিলেন। এরা আবারও ক্ষমতায় গেলে আপনাদের জন্য অতীতের চেয়েও ভয়াবহ রক্তাক্ত সময় ঘনিয়ে আসবে।

বর্তমান সরকারকে ‘সনাতন ধর্মাবলম্বী-বান্ধব’ হিসেবে অভিহিত করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আপনাদের আপনজন ছিলেন। এখন তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের আপনজন। যদি নিজেদের আত্মমর্যাদা, সম্মান ও অধিকার রক্ষা করতে চান, তা হলে আপনাদের শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অশুভ সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে পরাজিত করার শপথ নিতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর আঘাত হেনে ভারতের সঙ্গে বর্তমান সরকারের সুসম্পর্ক নষ্ট করার ষড়যন্ত্র করতে পারে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে নবগঠিত জোটের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি-জামায়াত এদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জাতীয় ঐক্যের নামে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অপচেষ্টা করছে। এই ফাঁদে পা না দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। তিনি বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের রাজনীতি করতে গিয়ে যারা ব্যর্থ হয়েছেন, তারাই আগামী নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করছে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর বর্তমান জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশন বসবে। এর পর চলতি সংসদের অন্য কোনো অধিবেশন বসবে না। নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হওয়ার পর মন্ত্রী ও এমপিরা কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না, কোনো সুযোগ-সুবিধাও পাবেন না।

মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদারের সভাপতিত্বে এ শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে হাজী মো. সেলিম এমপি, ডিএমপির পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জি প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

পরে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে একটি বিশাল শোভাযাত্রা বের করা করা হয়। এটি পলাশী মোড় থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন পথ ঘুরে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়। এ ছাড়া সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান উদযাপিত হয়েছে। চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, খুলনা, রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ সারাদেশে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।