নাফটায় কানাডার প্রয়োজন নেই : ট্রাম্প

আগের সংবাদ

অনাগ্রহী তারুণ্য ও রাজনীতির ভবিষ্যৎ

পরের সংবাদ

আবারো চলন্ত বাসে ধর্ষণ

এই পাশবিকতার শেষ কোথায়?

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ , ৭:১৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮, ৭:১৯ অপরাহ্ণ

এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাধারণত শ্রমিক, দরিদ্র ও দুর্বল ঘরের মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে মামলা চালানোর মতো অর্থ ও সময় তাদের পরিবার দিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী নয়। গণপরিবহনে মেয়েদের চলাচল নিরাপদ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর রুপা ধর্ষণ ও হত্যার বছর না ঘুরতেই আবারো চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুগামী বাসে বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছে। ওই নারীর বয়স আনুমানিক ২৮ বছর হবে। ইদানীং চলন্ত বাসে ধর্ষণ এক কঠিন ও কুৎসিত বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে আমাদের। বাসে নারীর নিরাপত্তার দায়িত্ব চালক, হেলপার, সুপারভাইজারদের। অথচ তাদের দ্বারা নারী যাত্রীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই জঘন্য অপরাধ যে মাত্রায় বেড়েছে, লাগাম টেনে না ধরা গেলে তা সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নেবে।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইল থেকে একটি লোকাল বাস যাত্রী নিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে বাসস্ট্যান্ডে আসে। বাসের চালক বাসস্ট্যান্ডে ঘুরতে থাকা ওই প্রতিবন্ধী নারীকে গাড়িতে তুলে নিতে বলে। হেলপার তাকে গাড়িতে তুলে পেছনের আসনে বসিয়ে রাখে। গাড়ির সব যাত্রী নেমে গেলে বাসের চালক ওই নারীকে ধর্ষণ করে। হেলপার গেট আটকে পাহারায় থাকে। এ সময় মহিলার চিৎকারে পাথাইলকান্দি বাজারের পাহারাদার গাড়ির কাছে গিয়ে ঘটনা দেখতে পান। তিনি টহলরত পুলিশকে জানান। টহল পুলিশ দ্রুত সেখানে গিয়ে বাসের হেলপার নাজমুলকে আটক করে, কিন্তু ধর্ষক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় বাসের চালক ও হেলপারকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। হঠাৎ করে বাসে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে নারী লাঞ্ছনা-ধর্ষণের ঘটনা। গত বছরের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে বহুজাতিক কোম্পানির কর্মী রূপা খাতুন চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। দুর্বৃত্তরা তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে যায়। এর আগে ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সাভার ও ময়মনসিংহে বাসে, মাইক্রোবাসে পোশাক শ্রমিক ধর্ষণের ঘটনা জানা গেছে গণমাধ্যম মারফত। এ ধরনের ঘটনা আমাদের সামাজিক সুস্থতা এবং নারীর নিরাপত্তা দুটোকেই প্রশবিদ্ধ করে। সাধারণত শ্রমিক, দরিদ্র ও দুর্বল ঘরের মেয়েরাই ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে মামলা চালানোর মতো অর্থ ও সময় তাদের পরিবার দিতে পারে না। সামাজিকভাবেও তাদের অবস্থান শক্তিশালী নয়। বিপরীত দিকে অর্থবিত্ত বা সামাজিকভাবে প্রবাবশালীরা বা তাদের মদদপুষ্টরাই ধর্ষণের মতো অপরাধ করে। ফলে এসব ক্ষেত্রে পুলিশ মামলা নিতে গরিমসি করে, মামলা নিলেও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা করে, অপরাধীদের বাঁচিয়ে প্রতিবেদন দেয় কিংবা অপরাধী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের দেখতে পায় না। এরকম অভিযোগ অজস্র। আমরা মনে করি, গণপরিবহনে মেয়েদের চলাচল নিরাপদ করতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ধর্ষণ প্রতিরোধে অপরাধীর যথার্থ শাস্তি নিশ্চিত করা, দুর্বল ভিকটিমদের পক্ষে রাষ্ট্রকেই এগিয়ে আসতে হবে। অপরাধ তদন্তে ও অপরাধীদের বিচারাধীন করায় পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ ঘটনার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হবে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে এমনটাই দেখতে চাই।