টঙ্গীতে আনসার সদস্যের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার

আগের সংবাদ

হুয়াওয়ে ‘ম্যাজিক ২’ নামে ফোনটি পুরোপুরি বেজেলহীন

পরের সংবাদ

আ.লীগে একাধিক প্রার্থী, সাঈদী পুত্র চান ২০ দলের মনোনয়ন

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ , ১:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮, ১:০০ অপরাহ্ণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে পিরোজপুরের রাজনৈতিক অঙ্গন। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত সব জায়গায়ই একই আলোচনা কোন দল থেকে কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন। পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর-১ আসনে রয়েছে ২টি পৌরসভা ও ২৬টি ইউনিয়ন। ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ২ হাজার ১০৮।
এ আসনে কোনো দলেরই একক আধিপত্য ছিল না কখনো। ১৯৯১ সালে এখানে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুধাংশু শেখর হালদার। ১৯৯৬ সালে নির্বাচিত হন জামায়াতের দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। ২০০১ সালেও আসনটি থাকে সাঈদীর দখলে। ২০০৮ সালে জাতীয় পার্টির নেতা মোস্তফা জামাল হায়দারকে মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলেও নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে নামেন তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম এ আউয়াল। সাঈদীকে পরাজিত করে এমপি হন তিনি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনেও তাকেই মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ এবং তিনিই জয়ী হন। সাঈদীকে হারানোয় কেন্দ্রের সুনজরে আসেন এমপি আউয়াল। ইতোমধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আউয়ালকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে গত প্রায় দুবছর ধরে নিজের ভাইদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন এমপি আউয়াল। এ সুযোগে মনোনয়নের আশায় মাঠে নামেন এখানকার অন্তত হাফ ডজন আওয়ামী লীগ নেতা। তারা ব্যানার, ফেস্টুন সাঁটিয়ে নিজেদের মনোনয়নের দাবিদার হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন। সভা-সমাবেশ করে নিজেদের উপস্থিতির কথা জানান দিচ্ছেন। এতে দলে দেখা দেয় বিভক্তি ও বিশৃঙ্খলা। এ আসনে একাধিকবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল ছাড়াও মনোনায়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. গোলাম হায়দার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও পিরোজপুর পৌরসভার মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, সাবেক এমপি অধ্যক্ষ শাহ আলম, সাবেক এমপি প্রয়াত এনায়েত হোসেন খাঁনের মেয়ে ও শেখ পরিবারের পুত্রবধূ শেখ এ্যানি রহমান।
এ প্রসঙ্গে এমপি আউয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে জানপ্রাণ দিয়ে কাজ করছি। দল নিশ্চয়ই মূল্যায়ন করবে। মো. গোলাম হায়দার বলেন, ৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের হয়ে মানুষের সেবা করছি, রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সংগঠনে সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে দক্ষিণাঞ্চলে শিক্ষা প্রসারে ভ‚মিকা রেখেছি। এ সব কিছু বিবেচনায় আমি মনোনয়ন লাভে আশাবাদী।
পৌর মেয়র মো. হাবিবুর রহমান মালেক পিরোজপুর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদের প্রত্যন্ত এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। এখানে জোট নেতাদেরই প্রাধান্য। এ আসনে ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। বর্তমানে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আমৃত্যু কারাবাসে আছেন তিনি। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় নির্বাচনে জামায়াতের অংশ নেয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও যে কোনো উপায়ে নির্বাচন করতে চান সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী। তিনি বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন প্রশ্নে পিরোজপুর-১ আসনটি জামায়াতের। আর এখানে দল আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি অবশ্যই নির্বাচন করব। জোটের হয়ে মনোনয়ন দৌড়ে শক্ত অবস্থানে আছেন জাতীয় পার্টির (জাফর) কেন্দ্রীয় মহাসচিব ৬০ দশকের তুখোড় ছাত্রনেতা সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার।
বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী নেছারাবাদ উপজেলার সন্তান ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা জিয়া গবেষণা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. এমাজ উদ্দিন আহম্মেদের স্নেহভাজন অমর চন্দ্র মিস্ত্রী (ভূট্টো) বলেন, আজন্ম বিএনপি করছি। আমার উপজেলায় আমি একা মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং এখানে ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজারেরও বেশি। দীর্ঘদিন দলের জন্য যা করেছি তার বিনিময়ে দল আমার কথা বিবেচনা করবে এবং এটাই আশা করি। জামায়াত থেকে সাঈদী পরিবারের কাউকে প্রার্থী করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাঈদী সাহেবের বাড়ি তো এখন পিরোজপুর-২ আসনে। তারা কেন এখানে মনোনয়ন চাইবেন?
এর বাইরেও বিএনপির মনোনয়ন চাচ্ছেন দলের জেলা সভাপতি সাবেক এমপি গাজী নুরুজ্জামান বাবুল ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন। মনোনয়ন প্রশ্নে গাজী নুরুজ্জামান বাবুল বলেন, পিরোজপুরে দল সংগঠিত করেছি আমি। আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছি। ওয়ান-ইলেভেনে দল যখন চরম সংকটে, তখন শক্ত হাতে দলের হাল ধরেছি। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে, এটুকুই প্রত্যাশা।
আওয়ামী লীগ, জামায়াত ও বিএনপির পাশাপাশি এখানে আগামী নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে আরো যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ইনুর কেন্দ্রীয় সদস্য ও পিরোজপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসানুল কবির বাদল। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত জেলা সভাপতি ইয়াহইয়া হাওলাদার এবং সিপিবির জেলা সভাপতি ডা. তপন বসু। নির্বাচন প্রশ্নে তারাও চালাচ্ছেন গণসংযোগ এবং নানা কৌশলী প্রচার।