প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে ১৯ লাখ আবেদন

আগের সংবাদ

সোম-মঙ্গল সারাদেশে বৃষ্টি

পরের সংবাদ

অবহেলায় প্রসূতির মৃত্য, চিকিৎসককে ২০ লাখ রুপি জরিমানা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮ , ৮:৫৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ২, ২০১৮, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ

চিকিৎসক আগেই জানিয়েছিলেন, সেই অস্ত্রোপচার অত্যন্ত ঝুঁকির। সুস্থ সন্তানের জন্ম দিলেও ওই অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে মৃত্যু হয় প্রসূতির। ৭ বছর পর সেই মামলায় এক চিকিৎসককে ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য ক্রেতা সুরক্ষা আদালত।

পূর্ব কলকাতার পার্শ্ববর্তী পঞ্চসায়র ইএম বাইপাসের ধারে যে হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয়েছিল প্রসূতির, সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও আদালত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সম্প্রতি বিচারপতি ঈশান চন্দ্র দাস ও বিচারপতি তারাপদ গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে, এই ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি মামলার খরচ বাবদ আরও ২০ হাজার রুপি দিতে হবে মামলাকারীকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত চিকিৎসক এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী।

ঘটনাটি ২০১১ সালের। বাগুইআটির বাসিন্দা দেবাশিষ গোস্বামীর সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর চিকিৎসা করছিলেন ডোভার লেনের এক চিকিৎসক। তিনি আবার বাইপাসের ধারে ওই বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গেও যুক্ত।

২০১১ সালের মার্চে স্ত্রীকে ভর্তি করা হয় ওই বেসরকারি হাসপাতালে। পর দিন স্পাইনাল অ্যানেসথেসিয়ার পাশাপাশি জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া করে তার অস্ত্রোপচার হয়। এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন তিনি। তারপর থেকেই ক্রমাগত তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। ১৯ মার্চ হাসপাতালেই মৃত্যু হয় তার। এরপরই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হন দেবাশিষ।

তাদের অভিযোগ ছিল, স্ত্রী মারা গেছেন ‘টক্সেমিয়া’য়। সে জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের গাফিলতিই দায়ী।

তাদের তরফ থেকে আইনজীবী এসকে ঘোষ আদালতে জানান, ‘হাই রিস্ক প্রেগন্যান্সি’ হওয়া সত্ত্বেও সন্তানের জন্ম দেয়ার আগে ও পরে যেভাবে নজর দেয়ার প্রয়োজন ছিল, তা করেননি ওই চিকিৎসক। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তার রক্তে শ্বেত কণিকার পরিমাণ সংক্রান্ত কোনও পরীক্ষানিরীক্ষাও করা হয়নি। তারই ফলশ্রুতিতে মাত্র ২৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয়েছে রোগীর। যে কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি, সেও বরাবরের জন্য মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো। তাই চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ৬৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করে আদালতের দ্বারস্থ হন দেবাশিষ।

অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতালের তরফে আইনজীবী জয়ন্তরঞ্জন দাস অবশ্য দাবি করেন, গাফিলতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। এটা একটি দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা মাত্র। এই ধরনের ঘটনায় প্রোটোকল মেনে যে ধরনের চিকিৎসা হওয়া উচিত, তাই করা হয়েছে। আর মামলাকারীরা শ্বেত কণিকার মাত্রা নির্ণয়ের যে পরীক্ষা না-করানোর অভিযোগ তুলেছেন, তা শুধুমাত্র রোগীর শরীরে কোনও অস্বাভাবিকত্ব দেখা গেলেই করা হয়। এ ক্ষেত্রে তার প্রয়োজন ছিল না।

অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে আদালত রাজ্যের ডেপুটি ডিরেক্টর অব হেলথ সার্ভিসেসকে (প্রশাসন) একটি প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়।

সেই প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়, ‘রোগী যে হৃদরোগে আক্রান্ত হন, তা অ্যানেসথেসিয়ার বিরূপ প্রভাবজনিত হয়ে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না।’

এই প্রতিবেদনেও তুলে ধরেও হাসপাতাল ও চিকিৎসকের নজরদারির অভাবের অভিযোগ তোলে দেবাশিষের পরিবার।

দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে আদালত জানায়, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও মৃতার মৃত্যু সনদ থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার।তা হলো, সিজারের সময় অ্যানেসথেসিয়া দেয়ার ক্ষেত্রে যে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল, সেটা হয়নি। এর দায় চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উড়িয়ে দিতে পারে না।

একটি শিশু জন্মের পর মায়ের স্নেহ-পরিচর্যা থেকে যে চিরতরে বঞ্চিত হলো, তার দায় বর্তায় চিকিৎসক ও হাসপাতালের ওপরই।