ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়: এরশাদ

আগের সংবাদ

সৈয়দ আহমদুল হকের রচনা ও চিন্তা চেতনার ধারা

পরের সংবাদ

মিয়ানমারের এ কেমন মিথ্যাচার!

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ৮:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮, ৮:২১ অপরাহ্ণ

শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। উল্টো রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে তাদের। এবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রকাশিত নতুন বইটিতেও সে চেষ্টা করা হয়েছে। মিয়ানমারে যা ঘটেছে, সেই কঠিন সত্য বিশ্ববাসী আর এড়িয়ে যেতে পারে না। হাস্যকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকাশিত এই বইয়ের লেখক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করছি।

রোহিঙ্গা গণহত্যার বিষয়টি গোটা পৃথিবী অবগত। জাতিসংঘ বলেছে, জাতিগত নিধনের উদাহরণ হিসেবে পাঠ্যবইয়ে স্থান পাওয়ার মতো ঘটনা এটি। এত কিছুর পরেও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর মিথ্যাচার থামছে না। গত মাসে ‘ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক রিলেশনস এন্ড সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ থেকে প্রকাশিত Myanmar Politics and the Tatmadaw: Part I. ‘মিয়ানমারের রাজনীতি ও সেনাবাহিনী : প্রথম পর্ব’ এই বইয়ে তিনটি ছবি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বাংলাদেশে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। মিয়ানমারের এমন মিথ্যাচারে আমরা হতবাক না হয়ে পারি না। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে নিন্দা প্রকাশ করছি।

রয়টার্স উদঘাটিত ৩টি ছবির সূত্র ধরে যুক্তরাজ্যের দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকায় শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ভুয়া ছবি ব্যবহার করে রোহিঙ্গা সংকটের ইতিহাস নতুন করে লেখার চেষ্টা করছে। মিয়ানমার বাহিনীর প্রপাগান্ডা ইউনিট প্রকাশিত ছবিগুলোকে রাখাইন রাজ্যের বলে দাবি করা হলেও সেগুলো আসলে বাংলাদেশ ও তাঞ্জানিয়ার। গতকাল ভোরের কাগজসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে ছবি তিনটির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদে বলা হয়েছে, বুড়িগঙ্গা নদীর স্রোতে ভেসে এসেছে কয়েকটি লাশ। লুঙ্গি পরা একজন কৃষক লম্বা নিড়ানি দিয়ে লাশগুলো তীরে তোলার চেষ্টা করছেন। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসরদের নৃশংসতার ছবিটি তুলেছিলেন আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেন, যা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ই-আর্কাইভেও রয়েছে। এই ছবিকে মিয়ানমারে বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার ছবি হিসেবে প্রচার করছে দেশটির সামরিক বাহিনী। মিয়ানমার সেনাবাহিনী দ্বিতীয় ছবিটিতে যে মিথ্যাচার করেছে, সেটিও ভয়ঙ্কর। রোহিঙ্গারা রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনী ও মগ দস্যুদের নির্মম সহিংসতার শিকার হয়ে প্রাণে বাঁচতে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে। অনুপ্রবেশের একটি ছবি তুলে ধরে ওরা উল্লেখ করেছে, এটি নাকি বাংলাদেশ থেকে ‘বাঙালিদের’ মিয়ানমারে অনুপ্রবেশের চিত্র! তৃতীয় ছবির ক্যাপশন হাস্যকর। রুয়ান্ডার শরণার্থীদের একটি ছবি তুলে ধরে লেখা হয়েছে, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে অনুপ্রবেশ করছে। ১৯৯৬ সালে রুয়ান্ডার শরণার্থীদের ছবিটিকে দেখানো হয় ব্রিটিশ শাসনামলের সময় বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে অনুপ্রবেশের দৃশ্য হিসেবে! এই বইয়ে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতন-নিপীড়নের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সহিংসতার জন্য ‘বাঙালি’ সন্ত্রাসীদের দোষারোপ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের আগস্টে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব পরিকল্পিত ও সংঘটিত সহিংসতা জোরদার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম ওই অভিযানে জাতিগত নিধনযজ্ঞের আলামত পেয়েছে। তবে শুরু থেকেই রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। উল্টো রোহিঙ্গাবিরোধী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে তাদের। এবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী প্রকাশিত নতুন বইটিতেও সে চেষ্টা করা হয়েছে। মিয়ানমারে যা ঘটেছে, সেই কঠিন সত্য বিশ্ববাসী আর এড়িয়ে যেতে পারে না। হাস্যকর মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকাশিত এই বইয়ের লেখক, প্রকাশকসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার দাবি করছি।