নয়াপল্টনে বিএনপির জনসভা শুরু

আগের সংবাদ

বিমা খাতে তৈরি হচ্ছে অভিন্ন বেতন কাঠামো

পরের সংবাদ

মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন তিন বড় দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ৩:৪৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছেন দিনাজপুর-৫ আসনের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন এবং ২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এ আসন। তবে আসনটিতে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়ালেও সক্রিয় ভ‚মিকায় দেখা যাচ্ছে না রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের।

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে এটাই এখন মূল বিষয়। তবে দলের হাইকমান্ড থেকে নির্র্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিলে তারা কোমর বেঁধে মাঠে নামবেন। জেলা বিএনপির আহবায়ক এ জেড এম রেজওয়ানুল হক একমাত্র প্রার্থী হওয়ায় তার মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ফুলবাড়ী-পার্বতীপুর উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ব্যাপক ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন তিনি। এদিকে জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি এডভোকেট নুরুল ইসলামেরও মনোনয়ন প্রায় চ‚ড়ান্ত। তিনি বলেন, পল্লী বন্ধু এরশাদের আমলে মানুষজন সুখে-শান্তিতে ছিলেন। তাই এ দেশের মানুষ আবারো জাতীয় পার্টিকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হবেন বলে জানান।

এ আসনে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী এডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার রয়েছেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। স্বাধীনতার পর এ আসনটিতে পর পর ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়ে চমক সৃষ্টি করেন তিনি। তার নির্বাচনী এলাকা ফুলবাড়ী-পার্বতীপুরের রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ-কালভার্ট ও মসজিদ-মাদ্রাসার উন্নয়ন করে ও ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়ে ইতোমধ্যেই এলাকার ভোটারদের মন জয় করে নিয়েছেন। এ ছাড়া এলাকার লোকজন কোনো কাজে তার কাছে গেলে তিনি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন এমন মন্তব্য অনেকের। ফলে এ আসনটিকে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি বলা হয়। জনপ্রিয় এই নেতা দলীয় হাইকমান্ডের নজরে থাকায় এবারো নৌকার টিকেট তিনিই পাবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়। এদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন জেলা আহবায়ক এ জেড এম রেজওয়ানুল হকই দলের একমাত্র যোগ্য প্রার্থী। জনপ্রিয় এই নেতা বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সর্বোচ্চ ভোটে বিজয়ী হয়ে এ আসনটি বিএনপিকে উপহার দিতে পারব। যদিও এ আসনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপির বিকল্প কোনো প্রার্থী তৈরি হয়নি, তারপরও বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলের প্রার্থীরা আসনটি পুনরুদ্ধারে বদ্ধপরিকর। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি (জাপা) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি এডভোকেট নুরুল ইসলাম ও তরুণ নেতা সোলায়মান সামি। তবে নুরুল ইসলাম মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও সোলায়মান সামি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকার নেতাকর্মী ও দলীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

এ আসনটিতে স্বাধীনতার পর বার বার আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে এলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বিএনপি জয়লাভে শতভাগ আশাবাদী। দিনাজপুরের এই আসনটিতে স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ৬ বার, বিএনপি ১ বার এবং জাতীয় পার্টি জয়লাভ করেছে একবার। ভোট বেশি হওয়ায় প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ভর করে পার্বতীপুর উপজেলার ভোটারদের ওপর।

এ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের এডভোকেট সরদার মোশারফ হোসেন, ১৯৭৯ সালে বিএনপির মনসুর আলী সরকার, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির এডভোকেট শোয়েব আহমেদ এবং ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার জয়লাভ করেন। নির্বাচনে বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে এবারো এ আসনে বিজয়ী হতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

পার্বতীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম ও পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এ জেড এম মেনহাজুল হকও বলেন, দলীয় টিকেট পেলে জয় সুনিশ্চিত। এদিকে এলাকার সাধারণ ভোটাররা চান উন্নয়ন। তাই যোগ্য ব্যক্তিকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন বলে তারা জানান।

জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য মতে, এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৮ ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৪ হাজার ৩৩৪ জন।