শিল্পকর্মে জাতীয় সংস্কৃতি তুলে ধরুন: রাষ্ট্রপতি

আগের সংবাদ

বিএনপিকে তিন প্রশ্ন ওবায়দুল কাদেরের

পরের সংবাদ

খালেদার মুক্তি ছাড়া নির্বাচন নয়: বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ৯:২৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮, ৯:২৭ অপরাহ্ণ

নির্বাচনে অংশ নিতে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির শর্ত দিয়েছে বিএনপি। এ দাবি পূরণ না হলে জনগণ দেশে নির্বাচন হতে দেবে না বলে সরকারকে হুঁশিয়ার করেছে দলটি।

নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়াও সংসদ ভেঙে নিদর্লীয় সরকার গঠন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ভোটে সেনা মোতায়নের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার নয়াপল্টনে কার্যালয়ের সামনে জনসভা থেকে এসব দাবি জানান বিএনপি নেতারা। গণতন্ত্র, মৌলিক অধিকার রক্ষায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের আহ্বান জানান তারা। সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষদেরকে এই জাতীয় ঐক্যে আসার আহ্বান জানানো হয় জনসভা থেকে।

২৬ মাসের বিরতিতে গত ২০ জুলাই ঢাকায় প্রথমবারের সমাবেশ করার সুযোগ পায় বিএনপি। ৪১ দিনের মাথায় জনসভা করেছে দলটি। দুপুরে জনসভার কার্যক্রম শুরু কথা থাকলেও সকাল ১০টা থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও আশেপাশের জেলার নেতাকর্মীরা নয়াপল্টনে জমায়েত হন। ছিল ভোটের আমেজ। আর চার মাসে বাদে সংসদ নির্বাচন; তাতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা জনসভায় দলেবলে যোগ দেন।

বেলা বাড়ার সঙ্গে ভিড় বাড়ে। বিকেলের আগে কাকরাইল মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। পরে তা বিভিন্ন অলিগলি পর্যন্তও ছড়িয়ে পড়ে। খালেদা জিয়ার মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও শ্নোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা।

সভাস্থলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষ ছাড়া বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সকাল থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিলেন নয়াপল্টন এলাকা ঘিরে। বিভিন্ন জেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচিতে পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের বাধার খবর এলেও ঢাকায় নির্বিঘ্নে শেষ হয় ২৩ শর্তে অনুমতি পাওয়া জনসভা।

এতে সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াসহ দলের আরো অনেক নেতাকর্মী কারাগারে বন্দি রয়েছেন। অবিলম্বে তাদের মুক্তি চাই। নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার আগে দেশের সব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে গণতন্ত্রকে মুক্তি দিতে হবে। এজন্য সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার গঠন করতে হবে। জাতীয় সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে। নির্বাচনের নিাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে পূনর্গঠন করতে হবে।

এসময়ে মির্জা ফখরুল দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সব রাজনৈতিক দল, ব্যাক্তি সবাই মিলে আসুন সব ভেদাভেদ ভূলে, কাল বিলম্ব না করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, বাংলাদেশকে রক্ষা করার জন্য দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী কারাগারে যাওয়ার আগে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেছিলেন। জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে বলেছিলেন। সেই জাতীয় ঐক্য হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। তাদেরকে স্বাগত জানাই যারা আজকে এই ঐক্য গড়ছেন। তাদেরকেও আহ্বান জানাই- আসুন বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে এই অপশাসনকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করি। এ সময় গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য যুক্তফ্রন্ট আর গণফোরামের জাতীয় ঐক্য গঠনকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি কিছুদিন আগে কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি খুব অসুস্থ। তাকে অন্যান্য সাধারণ বন্দির সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে না। চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। বিএনপিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় দেশবাসীর কাছে ফরিয়াদ করতে চাই- যে খালেদা জিয়া আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছেন, ত্যাগ তিতিক্ষা করেছেন তার মুক্তির জন্য বুকে সাহস নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আর কারাগারে দেখতে চাই না। তার মুক্তি নিশ্চিত করতে পারলে দেশের গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। এসময় তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। নইলে এর জন্য আপনাদেরকেই দায় নিতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ রাতে বিএনপি, খালেদা জিয়া আর তারেক রহমানকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে। তাদের ভিতরে জিয়া পরিবারের ভীতি কাজ করছে। এর থেকে বাঁচার জন্য এখন নানারকম ফন্দিফিকির করছে। আওয়ামী লীগ এরকমটা করে এখন একটা দেউলিয়া রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলে লুটপাটের দেশ পরিণত হয়েছে। আগে বড়াই করে বলতো, তরুণ যুবকরা তাদের সাথে আছে। কিন্তু এই ডিজিটাল কারসাজীর কারনে এখন দেশের তরুণ, যুবক আর শিশুরা এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি চায়। তাদের ন্যায্য আন্দোলনে যেভাবে রাজপথে হামলা করেছে, নির্যাতন করেছে তাতে তারা আর এই সরকারকে দেখতে চায় না। দেশের তরুন যুবকরা আবার আজ জেগে উঠেছে। তারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশের গণতন্ত্রকে মুক্ত করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে।

পুলিশ, সিভিল ও আইন বিভাগের ব্যক্তিদেরকে অতীতের কথা ভূলে গিয়ে ভালো হওয়ার পরামর্শ দিয়ে খন্দকার মোশাররফ বলেন, নির্বাহী বিভাগকে বলবো, যারা মালয়েশিয়ার সেকেন্ড হোম করেছেন, তারা যাতে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করুন।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। আপনারা রাজপথের জন্য প্রস্তত হোন। একদিকে নির্বাচন আর অন্যদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন হবে।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, খালেদা জিয়াকে নি:শর্ত মুক্তি দিতে হবে। কারণ তাকে ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। আর নির্বাচন যদি সুষ্ঠু হয় এবং বিএনপি যদি নির্বাচনে যায় তাহলে তারা ক্ষমতায় আসবে। এর ফলে দেশে সুশাসন, সুশৃঙ্খল ও জনগণের মধ্যে শান্তি আসবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের গণতন্ত্র এখন নিখোঁজ, ঠিকানাবিহীন। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আর এই গণতন্ত্রকে ফিরে পেতে হলে খালেদা জিয়াকেও মুক্ত হতে হবে। তার মুক্তির সঙ্গেই গণতন্ত্রের মুক্তি মিলবে। আর খালেদা জিয়ার ও গণতন্ত্রের মুক্তির আন্দোলন একসঙ্গেই চলবে।

তিনি বলেন, সব মানুষ নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। শুধু চায় না বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আর এরশাদ। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চাটুকর বেহুদা- হুদা নির্বাচন কমিশন।

তিনি আরও বলেন, এখন আর বসে থাকার সময় নয়। আন্দোলনে নামতে হবে। এখন আর নিরবে, নিভৃতে মার খাওয়ার সময় নয়। বাধা আসলে দুই হাত চালাতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে গয়েশ্বর বলেন, এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি করবেন না যাতে খালেদা জিয়ার কিছু সময়ের মধ্যে আপনাকেও কারাগারে থাকতে হয়। যেখানে খালেদা জিয়া বের হবেন আর আপনি প্রবেশ করবেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে জনভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সেলিমা রহমান, বরকত উল্লাহ বুলু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমদ আযম খান, জয়নাল আবেদীন, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, ফজলুল রহমান, আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিব উন-নবী-খান সোহেল, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য রাখেন।