‘৭ মার্চ ভবন’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

বর্ষসেরা মড্রিচ

পরের সংবাদ

ক্রিকেটারদের নৈতিকতা শেখাবে বিসিবি

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ১:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮, ১:৩৮ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি ক্রিকেটারদের অনৈতিক কাজে বেশ বিরক্ত বিসিবি। ক্রিকেটারদের নৈতিকতা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের আগে রুবেল হোসেন থেকে শুরু করে এশিয়া কাপের আগে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ব্যক্তিগত জীবনের ঝামেলায় জড়িয়ে নেতিবাচকভাবে খবরে এসেছেন। যার ফলে কলুষিত হয়েছে ক্রিকেট দলের সুনামও। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন একটা বিষয় খুব জোর দিয়ে বলেছেন। তার বক্তব্য, মানুষের ব্যক্তিগত জীবন তো আর বিসিবি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। বিয়ে, তালাক- এসব বিষয় তো ব্যক্তিগত। এখানে তো বিসিবির কিছু করার নাই। কেউ যদি কাউরে ডিভোর্স করতে চায় এটা নিয়ে আমরা কী করব? কেউ যদি একাধিক বিয়ে করে সেটাও আমাদের কিছু করার নেই। আমরা তো বলতে পারি না, ক্রিকেট যারা খেলে তারা একাধিক বিয়ে করতে পারবে না। তবুও, বিসিবি সতর্ক রয়েছে। যদি কারও কোনো দোষ খুঁজে পাওয়া যায়, তাহলে বিসিবিও কঠোর শাস্তির পথে হাঁটবে।

বিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ক্রিকেটারদের ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে ডেকে তাদের বক্তব্য নেয়া হবে এবং এরপর প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে। পাপন আরো বলেন, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমাদের বলার বেশি কিছু নেই। আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হলে আমরা সর্বোচ্চ তাকে দল থেকে বাদ দিয়ে দিতে পারি। তবে তাদের এসব ব্যাপারে ট্রেনিং দেয়ার জন্য আমরা একজন মনোবিদ নিয়ে আসার কথা ভাবছি। যে কিনা প্লেয়ার এসব ব্যাপারে ট্রেনিং দেবে। আমরা তো আমাদের ক্যাম্পে শুধু খেলায় জেতার ব্যাপারে ট্রেনিং করাই। এখন ওই নৈতিকতার বিষয়ে কিছু করা যায় কি না, সেটা নিয়েও কথা বলেছি। সংশ্লিষ্ট কমিটি এ ব্যাপারে যোগাযোগ শুরু করে দেবে।

নৈতিকতার বিষয় নিয়ে দলের পাঁচ সিনিয়র খেলোয়াড়ের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা যায় না। কিন্তু উঠতি বয়সের তরুণ খেলোয়াড়রা সাফল্য পেয়ে খ্যাতির চ‚ড়ায় উঠলেই শুরু হয় বিপথে যাওয়া। তাদের ঠিক পথে রাখতে বিসিবির মনোবিদ আনার সিদ্ধান্ত যে খুবই কার্যকরী একটি ব্যাপার হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মোসাদ্দেক সম্পর্কে বিসিবি সভাপতি বলেন, মোসাদ্দেকের বিষয়টি যেহেতু আদালতে গড়িয়েছে, তখন সেটার সমাপ্তি কি হয় সেদিকেও দেখতে হচ্ছে বিসিবিকে।

তবে পাপন মনে করেন, ক্রিকেটাররা হচ্ছে এ দেশের তরুণদের আইডল। তাদের অবশ্যই ভালো মানুষ হতে হবে। তিনি বলেন, আমরা মনে করি ক্রিকেট প্লেয়াররা ডেফিনেটলি আইডল। তাদের অনেকে অনুসরণ করে। অবশ্যই তাদের ভালো মানুষ হতে হবে। এটার জন্য যা যা করা দরকার করতে হবে। তবুও অপরাধ করলে তাদের শাস্তি দিতে হবে। বিসিবি সভাপতিও সেটা মনে করেন। তিনি জানান, বিসিবিও অপরাধীদের ছাড় দেবে না। তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছে যাদের আমরা শাস্তি দিচ্ছি। যদি দেখি তা দিয়েও কোনো ইমপ্যাক্ট হচ্ছে না, তখন তো আমাদের কড়া শাস্তি দিতেই হবে। যদি আমরা মনে করি একটা জিনিস করা উচিত না কোনো খেলোয়াড়ের, সে যদি বারবার তা করতে থাকে- তখন কড়া সিদ্ধান্ত নিতেই হয়, নিব। আবার কিছু জিনিস আছে না জেনেও নিতে পারি না (সিদ্ধান্ত)। একটা হচ্ছে অভিযোগ করতেই পারে একজন। অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার আগেই যদি বিচার করে বসি। তারপর আদালতে দেখা গেল এটা ঠিক না, তাহলে তো অন্যায় হয়ে গেল। কাজেই নিশ্চিত হতে হবে। প্রমাণ হলে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমার কাছে একটাই, সে জাতীয় দলে খেলতে পারবে না।