স্লাইডিং ক্যামেরা ফোন আনছে শাওমি

আগের সংবাদ

বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না: প্রধানমন্ত্রী

পরের সংবাদ

এবার শিশুরাই আমাদের আয়োজনের কেন্দ্রে

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ৫:০০ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮, ৫:০০ অপরাহ্ণ

প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পূর্ণ করেছে দেশের অন্যতম নাট্য সংগঠন ‘বটতলা’। গত ২৭ আগস্ট ছিল বটতলার জন্মদিন। এ দিন ঘরোয়া আয়োজনে দলটির সদস্যরা কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করেছেন। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় রাজধানীর নাটক সরণির (বেইলি রোড) মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে বটতলার ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ অনুষ্ঠান। বটতলার অন্যতম সদস্য, দেশের নন্দিত নাট্যকার-অভিনেত্রী সামিনা লুৎফা নিত্রা মুখোমুখি হয়েছিলেন ভোরের কাগজের। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহনাজ জাহান

১০ বছর পেরিয়ে বটতলা। এ বিষয়ে জানতে চাই?
যে দিন শুরু করেছিলাম সে দিন অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। ভাবতে পারিনি, এত দ্রুত ১০টা বছর কেটে যাবে। সব প্রতিবন্ধকতা জয় না করেও ১০ বছর আমরা পার করেছি। কারো ভয়ে ভীত হয়ে নয় বরং আমরা যেটা সঠিক মনে করেছি সেটাই করেছি। যেটা অন্যায় মনে হয়েছে তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছি, তাও দলগতভাবে। আমাদের এই ১০ বছরে একটি বড় অর্জন হলো আমরা দলগতভাবে সব সিদ্ধান্ত নেয়। দলগতভাবেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, ন্যায়ের পক্ষে কথা বলি। যা করতে চেয়েছি, বলতে চেয়েছি দলের সবার সহযোগিতায় তা করতে পারছি।

এবারের বর্ষপূর্তি উদযাপনে কোন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন?
এবারের আয়োজনে আমরা শিশুদের প্রাধান্য দিচ্ছি। শিশুদের নিয়ে ভাবতে ২০১৮ সাল আমাদের বাধ্য করেছে। ২০১৮ সালে শিশুরা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। চোখে আঙুল দিয়ে দেখতে বাধ্য করেছে যে চাইলেই সব সম্ভব। যদি সত্য আর ন্যায়ের পথে চলো। তাই এবারে শিশুরাই আমাদের আয়োজনের কেন্দ্রে। নাট্যদল হিসেবে আমরা যে শুধু শিশুদের নিয়ে কাজ করি তা নয়। তবে আমাদের ২টি নাটক আছে যা শিশুদের জন্য তৈরি।

এবারের আয়োজনে কি কি থাকবে?
শিশুদের নিয়ে আমাদের দলের একটি নাটক আছে। নাম ‘বন্যথেরিয়াম’। সুকুমার রায়ের ‘হেসোরাম হুঁশিয়ার এর ডায়েরী’ থেকে নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ইভান রিয়াজ। এই নাটকটির মধ্যে প্রকৃতিকে ভালোবাসার বা প্রকৃতিকে কেন তার মতো থাকতে দেয়া উচিত সে বিষয়ে বলা হয়েছে। এই নাটকটি মঞ্চায়নের পাশাপাশি ‘নাসিরুদ্দিন নাদিম স্মৃতি বটতলা শ্রেষ্ঠ নাট্যকর্মী পদক ২০১৮’ দেয়া হবে। দলটির একজন নিষ্ঠাবান কর্মী এই পদক পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পঞ্চাশ দশকের ঢাকার মঞ্চাভিনেত্রী মার্থা রিতা গোমেজ। বিশেষ অতিথি থাকবেন আনু মুহাম্মদ, মাসুম রেজা, মোহাম্মদ বারী ও আজাদ আবুল কালাম।

নাট্যকার, অভিনেত্রী হিসেবে আপনি বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। কিন্তু নির্দেশক হিসেবে আপনাকে তেমন দেখা যায়নি। এর কারণ কি?
নির্দেশক হিসেবে দেখা যায়নি, তার কারণ আমি নির্দেশনাটা পারি না। পারি না বলতে, আমি অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এ জায়গাটায় আসব না। আমরা চাকরি, সংসার জীবন সব সামলে নিয়ে থিয়েটার করি। তাই এতকিছুর চাপ একসঙ্গে নেয়া যায় না। নির্দেশনার বিষয়টি অনেক বেশি কষ্টের। আমার মনে হয় এই জায়গাটি অনেক বেশি বিশেষায়িত এবং দক্ষতার দরকার হয়, যা আমার নেই। কিংবা অর্জন করার জন্য যে শ্রম দরকার, সেই শ্রমটা দিতে পারব না বলেই আমি এ জায়গাটায় আসতে চাইনি।

বটতলার আগামী দিনের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলুন?
বটতলা নতুন নাটক নিয়ে ভাবছে। এরই মধ্যে দুটো স্ক্রিপ্ট আমরা পড়েছি। ২০১৮ সালেই আমাদের নতুন নাটক মঞ্চে নিয়ে আসার পরিকল্পনা আছে। এ ছাড়া বটতলার নিয়মিত কাজ তো আছেই। অ্যাক্টরস স্টুডিও নামে আমাদের একটা স্কুল আছে। এ ছাড়া কর্মশালা, মহড়ার মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষ করার কাজটি তো করছিই।

বাংলাদেশের নাট্যচর্চা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই?
আমার মনে হয় আমরা নাটক লেখার ক্ষেত্রে, অভিনয়ের ক্ষেত্রে, নির্দেশনার ক্ষেত্রে একই জায়গায় ঘুরপাক খাচ্ছি। এখান থেকে আমাদের বের হতে হবে। শিল্পমাত্রই রাজনৈতিক- শিল্পীকে জনমানুষের প্রকৃতির অধিকারের পক্ষে থাকতে হয়। আজকের শিল্পীরা বেশিরভাগই জনমানুষ ও প্রকৃতির বিপ্রতীপে ক্ষমতাশালীদের সঙ্গে মিলে এক ধরনের আপসের শিল্প করছেন। ফলে শিল্পটাই অন্তঃসারশূন্য হয়ে পড়েছে।

বিষয়: