বর্ষসেরা মড্রিচ

আগের সংবাদ

চার দশকে সবচেয়ে সংকটে বিএনপি

পরের সংবাদ

ইসির সিদ্ধান্ত একপেশে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ইভিএম ইস্যু নিয়েই তপ্ত রাজনীতির মাঠ

প্রকাশিত হয়েছে: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ , ২:০৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮, ২:০৫ অপরাহ্ণ

ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ইস্যু হিসেবে আবিভর্‚ত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের বিধান রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ নিয়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা অবিশ্বাস, সন্দেহ-সংশয় এবং অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। রাজনীতির মাঠজুড়ে চলছে ইভিএম-বিতর্ক। ইসির এ অনুমোদনকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ স্বাগত জানালেও চরম বিরোধিতা করেছে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি। ইভিএম ব্যবহার প্রতিহতেরও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি। ফলে ইভিএমকে কেন্দ্র করেই রাজনীতির মাঠ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে ইভিএম ব্যবহারে ইসির সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমান ইসি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করে জাতীয় নির্বাচনের একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছিল গত বছর। রোডম্যাপ অনুযায়ী, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর সংলাপে ইসিতে নিবন্ধিত ৪০টি দলের মধ্যে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলীয় জোটের সাতটি দল ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে মত দিয়েছিল। এর বিপক্ষে ছিল বিএনপিসহ ১১টি দল। বাকি ২২টি দল এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মত দেয়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে তখন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ থেকে ইভিএম বাদ দিয়েছিলেন সিইসি। কিন্তু নির্বাচনের তিন মাসেরও কম সময় আগে হঠাৎ করেই ফের ইভিএম ব্যবহারের জন্য মাঠে নামে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার কোটি টাকায় দেড় লাখ অত্যাধুনিক ইভিএম সেট কেনার একটি প্রকল্পের প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকার তা অনুমোদন করলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শখানেক আসনে ইভিএম ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

নতুন ইভিএম সেটে ১০ ধরনের সুবিধা সংযোজন করা হবে। সেগুলো হচ্ছেÑ ভোটগ্রহণের আগে মেশিন চালু না হওয়া এবং মেশিন ছিনতাই হলেও অবৈধ ভোটদান থেকে বিরত রাখা সম্ভব; পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত থাকায় অনুমোদিত ব্যক্তির বাইরে মেশিন চালু করতে না পারা; ভোট শুরুর আগে ও পরে শূন্য ভোটিং ও প্রিন্টিংয়ের সুবিধা; স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলাফল প্রিন্ট, ঘোষণা ও বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে নতুন ইভিএমে।
আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য গত বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে ইসি। তবে ইভিএম পদ্ধতির বিরোধিতা করে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে কমিশন সভা বর্জন করেন একজন

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এদিকে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাবে ইসি অনুমোদন দেয়ার পরপরই এর বিরোধিতা করেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি সরকারের তল্পিবাহক হয়ে গেছে। সরকার যা চাইছে তাই তারা করছে। কোনোভাবেই বিএনপির কাছে ইভিএম গ্রহণযোগ্য হবে না। এই পদ্ধতি দিয়ে কখনো নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। অন্যদিকে ইভিএম ব্যবহারের প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়ায় ইসিকে স্বাগত জানিয়েছে শুরু থেকেই ইভিএমের পক্ষে অবস্থান নেয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।
এদিকে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় পরিসরে ইভিএম ব্যবহারের মতো প্রস্তুতি বা কারিগরি সামর্থ্য এই মুহূর্তে নির্বাচন কমিশনের নেই। এমনকি নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ইসির হাতে নেই। এ ছাড়া এমন ব্যবস্থার জন্য ভোটাররাও প্রস্তুত নয়। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম চালু করার সুযোগ নেই। ইভিএম চালু করা মানে অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন কলুষিত করা।

এদিকে আসন্ন নির্বাচনেই যে ইভিএম ব্যবহৃত হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি ইসি। শুধু ইভিএম ব্যবহারের আইনগত ভিত্তি তৈরির প্রাথমিক স্তর অতিক্রম করেছে স্বাধীন এ সংস্থাটি। ইভিএম ব্যবহারের যুক্তি দেখিয়ে গত মঙ্গলবার ইসি সচিব হেলালউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি যতটুকু ব্যবহার হয়েছে তাতে রাজনৈতিক দল বা ভোটার কোনো পক্ষ থেকেই কোনো অভিযোগ কখনো আসেনি। আইনগত সমর্থন পেলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের চিন্তা আমাদের আছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সুযোগ হয়তো নেই। বড়জোর সিটি করপোরেশনগুলোর মতোই প্রতিটি আসনের কিছু কিছু কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করতে পারে। এ নিয়ে সংশয়ের কিছু নেই।

প্রসঙ্গত, জাতীয় নির্বাচনের আগে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন কমপক্ষে তিনটি বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। কিছু দিন আগে সিইসি বলেছিলেন, জাতীয় নির্বাচনে কোথাও কোনো অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়ার সুযোগ তার নেই। নির্বাচনে কিছু অনিয়ম হয়েই থাকে। এ নিয়ে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ এমনকি খোদ চার নির্বাচন কমিশনারও দ্বিমত পোষণ করেন। গত সপ্তাহে ইসি সচিব মো. হেলালুদ্দীন বলেন, সংসদ নির্বাচনের শতকরা ৮০ ভাগ প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এ কারণে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নতুন করে কোনো সংলাপ হচ্ছে না। সচিবের এ বক্তব্যের পর সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক দলগুলো থেকে আগামী নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোটগ্রহণের নিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সর্বশেষ ইভিএম অন্তর্ভুক্ত করে আরপিও সংশোধনের উদ্যোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আরেকটি নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়া হলো।