সড়কের শৃঙ্খলা : নিরাপদ সড়ক কতদূর

আগের সংবাদ

ইউএস ওপেনের তৃতীয় রাউন্ডে শারাপোভা

পরের সংবাদ

অভিশপ্ত পাকিস্তান : মুক্তি দূর অস্ত

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৩১, ২০১৮ , ৮:০৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৩১, ২০১৮, ৮:০৬ অপরাহ্ণ

আহমদ রফিক

ভাষা সংগ্রামী, কবি ও গবেষক

একদা আধুনিক চেতনার ক্রিকেটার ইমরান, বিলেত সাংস্কৃতিক, সুরাসক্ত ইমরান এখন বহু বান্ধবীবর্জিত তালেবান সমর্থক আধা মোল্লা ওমর পোশাকে আচরণে, রাজনৈতিক বিশ্বাসে। এমন একজন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী কি ভারতের সঙ্গে নমনীয় সমঝোতা ‘ডায়ালগ’ চালাতে পারবেন? সময় তা বলবে কোন শক্তির সঙ্গে শত্রুতা-মিত্রতা করবেন ইমরান নাকি নেবেন নিরপেক্ষ অবস্থান? কিন্তু সে অবস্থান কি অভিশপ্ত পাকিস্তানকে মুক্ত করতে পারবে? তৈরি করতে পারবে সুস্থ, শান্তিপূর্ণ জননিরাপদ, সমৃদ্ধ পাকিস্তান।

পাকিস্তানি রাজনীতির পালাবদল ঘটেছে। বিস্ময়করভাবে সবাইকে অবাক করে দিয়ে স্বনামখ্যাত সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের ছোটখাটো দলটি এখন ক্ষমতায়। কেউ এমনটি আশা করেনি। তুলনা চলে বিপরীত ধারার এয়ার মার্শাল আসগর খানের গণতন্ত্রী ঘরানার ছোটখাটো দলটির। আসগর খান নিজে সামরিক বাহিনীর এক শাখার সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও সামরিক শাসন ও স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে দ্বিধা করেনি।

১৯৭০-এর নির্বাচনের অভাবিত ফলাফলের প্রেক্ষাপটে ঈগল চরিত্রের সামরিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতা ভুট্টোর অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক দাবি ও আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন তিনি। পশতু ও বেলুচ নেতাদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়ে এই পাঞ্জাব নেতা নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়া দূরে থাক, তার দলটি পাকিস্তানি রাজনৈতিক অঙ্গনে শক্তিমান স্থান দখল করতে পারেনি। কিন্তু পেরেছেন ইমরান।

পাকিস্তান গণতন্ত্রী দেশ নয়। তার জন্ম একনায়কী ও সম্প্রদায়বাদী ও স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির কল্যাণে প্রবল রক্তস্রোতে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইতিহাসের ধারায় একনায়কী ও সামরিক শাসনের কথিত গণতন্ত্রী ধারায় দেশটি অধিকাংশ সময় শাসিত হয়েছে। পাকিস্তানের স্থপতি জিন্নাহ বরাবরই বলেছেন, ভারতবর্ষ গণতন্ত্রের উপযোগী নয়। ব্যক্তিজীবনে তিনি যেমন একরোখা ব্যক্তিত্বের মানুষ, রাজনৈতিক দলে তেমনি একনায়ক, তার কথাই শেষ কথা, হোক তা ভুল।

দেশভাগ ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর জিন্নাহ হলেন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল। সেখানে তিনি একমেবাদ্বিতীয়ম। কিন্তু ভগ্নস্বাস্থ্য তাকে এ ক্ষমতার সদ্ব্যবহার করার সুযোগ দেয়নি। যক্ষা রোগে দ্রুতই তার মৃত্যু। কিন্তু যে রাজনৈতিক উত্তরাধিকার তিনি রেখে যান, তার রাজনৈতিক শিষ্যরা যেমন (লিয়াকত আলী খান) তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন। আর শুরু থেকেই সামরিক বাহিনী ছিল পাকিস্তানের মূল শাসক। কখনো সরাসরি, কখনো গণতান্ত্রিক শাসনের ভুয়া লেবাস পরে।

দুই.
এ কথাটা সবার মুখেই শোনা যায় এবং এটা ঐতিহাসিক সত্য যে পাকিস্তান তার জন্মলগ্নের পর থেকে এ পর্যন্ত দীর্ঘ সময় সামরিক শাসনে কাটিয়েছে। সংসদীয় ব্যবহার শাসন তথা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পূর্ণ মেয়াদে নিয়মিত দেশ শাসন করতে পারেননি। বাদ সেধেছে সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ প্রভাবশালী, উচ্চাভিলাষী ব্যক্তিরা। মূলত তাদের স্বার্থপরতার কারণে। অবশ্য এর পেছনে শাসক কারো কারো দুর্নীতিও বড় কারণ। সামরিক বাহিনী সে সব উপলক্ষ তুলে গদি দখল করেছে। মাঝে হয়তো কখনো কিছু সময় বিরতি, আবার একই ঘটনা।

রাজনৈতিক দিক থেকে পাকিস্তান শাসন করেছে মুসলিম লীগ সংগঠন, যদিও ব্যক্তিস্বার্থের টানে একাধিকবার বিভাজিত হয়েছে। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে পাকিস্তানের পরাজয়ের পর ক্ষুব্ধ জনমত নিজের দিকে টেনে সিন্ধুর জমিদার জুলফিকার আলী ভুট্টো গঠন করেন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে ভুট্টোর জয়যাত্রা। তার জনপ্রিয়তার আরেক তুরুপের তাস ভারতবিরোধিতা। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করে কাশ্মির দখল, যা কোনো দিনই সম্ভব নয়।

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এ দুই রাজনৈতিক দল অর্থাৎ বিভাজিত মুসলিম লীগ এবং পিপিপি, সেই সঙ্গে প্রাদেশিক, আঞ্চলিক দল। এর মধ্যে সুযোগমতো ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় দল গঠন, যেমন বছর কয়েক আগে গঠিত সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খানের দল।

পাকিস্তানি রাজনীতির প্রেক্ষাপট আলোচনায় আরো একটি বিষয় বিবেচ্য যে, পাকিস্তানের রাজনৈতিক-সামাজিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন থেকে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানকে মার্কসবাদী শাসনমুক্ত করতে ওয়াশিংটনের উসকানিতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী মার্কিনি ডলার এবং অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সহায়তায় যে তালেবান যোদ্ধা তৈরি করেছিল তারাই এখন পাকিস্তানের জন্য শেল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিধ্বস্ত আফগানিস্তান। সেই সঙ্গে খোদ পাকিস্তানি সামাজিক পরিস্থিতি চরম নৈরাজ্যিক অবস্থায় উপনীত। প্রতিদিন রক্ত ঝরছে, মানুষ মরছে। নিরাপত্তা শব্দটি উধাও। এমন এক সামাজিক বিশৃঙ্খলার মধ্যে বুদ্ধিমান বিচক্ষণ ইমরান শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জিহাদ ঘোষণা দিয়ে তার রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

এ দল কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে এই কিছুদিন আগেও গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রিয় দল হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। ছোট দল হিসেবে এর স্বীকৃতি। পাকিস্তানি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে উচ্চভিলাষী সামরিক নেতাদের লুব্ধ দৃষ্টি বরাবরের। তাদের মধ্যেও রয়েছে বিভাজন। বিশেষ করে পিপিপির পক্ষে ও বিপক্ষে নিয়মতান্ত্রিক দল শাসন করলেও নেপথ্য শক্তি সামরিক বাহিনী। এটাই পাকিস্তানের বৈশিষ্ট্য।

তাদের চাওয়া-পাওয়াই শেষ কথা। আর রাজনৈতিক হত্যা অদ্ভুত এক পাকিস্তানি বৈশিষ্ট্য। আমাদের বিবেচনায় এর প্রধান কারণ জন্মলগ্ন থেকে ওয়াশিংটন ও সিআইএর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠতা। পরে একের পর এক ঘটেছে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড। প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান থেকে জুলফিকার আলী ভুট্টো, সামরিক শাসক প্রেসিডেন্ট জিয়াউল হক, প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টো এমন কি অজ্ঞাত ষড়যন্ত্রে ভুট্টোর দুই পুত্র নিহত।

আর আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদী নেতাদের হত্যা তো পাকিস্তানে এক রাজনৈতিক ঐতিহ্য সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে স্বায়ত্তশাসনকামী বালুচ নেতা হত্যা তো এক নিয়মিত ঘটনা। সর্বশেষ ঘটনা বালুচ নেতা নবাব আকবর খান বুগতি হত্যা। তাদের দমন করতে আইয়ুবি শাসনামলে বালুচিস্তানে বোমা বর্ষণ এবং সংগ্রামীদের রক্তে বালু ভিজিয়ে কুখ্যাত জেনারেল টিক্কা খান বেলুচিস্তানের কসাই নামে পরিচিত।

রক্ত, নির্যাতন ও মৃত্যু- এই নিয়ে পাকিস্তান। সেই সঙ্গে প্রচণ্ড ধর্মীয় রক্ষণশীলতা এবং প্রবল ভারতবিরোধিতা যেমন সামরিক বাহিনীতে তেমনই শিক্ষিত শ্রেণিতে ও অশিক্ষিত জনসাধারণ্যে। এর মধ্যে রয়েছে নিয়মিত এসব নিয়ে প্রচার। মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী টমসন কথিত ‘অদ্ভুত রাষ্ট্র’ বটে পাকিস্তান! কিছুদিন থেকে চিরমিত্র দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপড়েন চলছে। সম্ভবত স্বার্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে। পাকিস্তান এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে, বিশেষত পশ্চিমা বিশ্বে ঘোর সমস্যার জটিলতায়।

পাকিস্তানে সংঘটিত পূর্বোক্ত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটিরও রহস্য উদ্ধার এবং বিচার হয়নি। বেনজির হত্যার সঙ্গে তালেবান সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, রয়েছে তাতে সেনাবাহিনীর একাংশের মদদ। ভুলে গেলে চলবে না যে ওসামা বিন লাদেনের সংরক্ষিত এলাকায় লুকিয়ে থাকার ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাকসেনা কর্তৃত্বেরই একাংশ। আর তার বিরোধী অংশও ছিল সতর্ক, যারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কিত ও তাদের সমর্থক। তারাই তার অবস্থান ফাঁস করে দিয়েছিল সিআইএর কাছে। একদা মার্কিন সমর্থনে একনিষ্ঠ পাকসেনা বাহিনী এখন রাজনৈতিক মতাদর্শে দ্বিভাজিত যেমন ওয়াশিংটনকে নিয়ে, তেমনি তালেবানদের নিয়ে।

তিন.
বোমা ফাটানোর মতো চমক সৃষ্টি করে শূন্য থেকে ক্রিকেট তারকা ইমরান খানের নির্বাচনী বিজয়, অবশ্য ২২ বছরের চেষ্টায়। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যদি নজর খোলা রেখে সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে মানতে বাধ্য হবেন যে ইমরানের এ দোদুল্যমান বিজয়ের পেছনে রয়েছে একাধিক পরস্পরবিরোধী কারণ। একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠার যে বিশ্বযৌক্তিক ধারা, এখানে তা নয়, যদিও ২২ বছর সময়টা কম নয়।

প্রথমত, আফগানিস্তান নিয়ে কথিত মুক্তি সংগ্রামের পর যে বীভৎস রক্তস্নান শুরু হয় পাকিস্তানে তালেবানকেন্দ্রিক উগ্র ধর্মীয় রক্ষণশীলতার ওপর ভিত্তি করে তা শুধু বিভাজন নয়, রাজনৈতিক অস্থিরতারও জন্ম দিয়েছে। এবং দীর্ঘ সময় ধরে সে হানাহানি রক্তাক্ত রাজনৈতিক-সামাজিক লড়াই চলছে। সমাজ বহুধা বিভক্ত। কিন্তু এর সিংহভাগ চরম রক্ষণশীল, তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা শরিয়া আইন, ‘ব্লাসফেমি’ আইনের পক্ষে, আহমেদিয়া ও খ্রিস্টান বিতাড়নের পক্ষে, ভারতের সঙ্গে কাশ্মির দখল নিয়ে হাজার বছর লড়াইয়ের পক্ষে।

দ্বিতীয়ত, নেওয়াজ মুসলিম লীগ কিছুটা নমনীয় রাজনীতি অনুসরণ করলেও (বাংলাদেশ সম্পর্কে অবশ্য কট্টরবিরোধী) দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত, জারদারির পিপিপির মতোই। ফলে অর্থনীতি ভয়ানকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। মূল পরিত্রাতা ওয়াশিংটন এখন বিপরীতমুখী। একমাত্র উদ্ধারকর্তা ও ভরসাস্থল বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক শক্তি চীন। চীন এখনো পাকিস্তানের মিত্র। তৃতীয়ত, সমাজ শুধু যে অর্থনৈতিক পীড়নে বিপর্যস্ত তাই নয়, মানুষের জীবনযাপনের মূল্য বৃদ্ধি ঘটায় সাধারণ মানুষ যে প্রচলিত শাসনব্যবস্থার প্রতি বিরূপ তাই নয়, তারা প্রবল হতাশায় ভুগছে। এ মন্দা প্রভাবিত করছে সামরিক বাহিনীর আরাম-আয়েশ ও বিলাসে। এর প্রভাব পড়ছে নির্বাচনের অঙ্গনে। দরকার একজন পরিত্রাতার। সর্বোপরি দুর্নীতি সাধারণ মানুষকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। কারণ সে দুর্নীতির বিশাল বিত্ত-বৈভব সামান্যই সাধারণ মানুষের ভোগে লাগে। তাই সহস্র ক্রোড়পতিদের প্রতি তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। আর কাশ্মিরের রাঙামুলো? যে কেবল জনমনে সোনার হরিণ হয়ে থাকল। তাই পরিবর্তনের ঘুঁটি খেলা, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশ নির্বিশেষে সর্বত্র দেখা যায়। অতএব ইমরানের অভাবিত জয়, তবু তা নিরঙ্কুশ নয়। তবে এ বিজয় সবচেয়ে বড় দান রাজার, আর তা হলো নেপথ্য চাণক্য পাক সামরিক শক্তি। তাদের চালের মদদেই পাকিস্তানি রাজনীতি বরাবর চলে এসেছে।

সিংহাসনে আসীন ইমরান খান, যত সহজে তার হাতের তাস তত শক্তিমান নয়। দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান যেমন কঠিন, তালেবানের সঙ্গে অভিসার তেমনি বিপজ্জনক। তাদের আফগানিস্তান অভিযানের প্রাথমিক সাফল্য পরিণামে চরম ব্যর্থতায় পর্যবসিত। কথিত গণতন্ত্রের পুতুল খেলা থেকে থেকে তালেবান আক্রমণে বিপর্যস্ত। ক্রমান্বয়ে সরে আসতে হবে আফগানিস্তান থেকে। এ কি সহা যায়?

একদা আধুনিক চেতনার ক্রিকেটার ইমরান, বিলেত সাংস্কৃতিক, সুরাসক্ত ইমরান এখন বহু বান্ধবীবর্জিত তালেবান সমর্থক আধা মোল্লা ওমর পোশাকে আচরণে, রাজনৈতিক বিশ্বাসে। এমন একজন পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী কি ভারতের সঙ্গে নমনীয় সমঝোতা ‘ডায়ালগ’ চালাতে পারবেন?

এ ব্যাপারে আপাতত শেষ কথা হলো, এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রতিনিধিত্ব করবেন, কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলাই তা কীভাবে করবেন রক্ষণশীল ধারার রাজনীতির অনুসারী হয়ে? সময় তা বলবে কোন শক্তির সঙ্গে শত্রুতা-মিত্রতা করবেন ইমরান নাকি নেবেন নিরপেক্ষ অবস্থান? কিন্তু সে অবস্থান কি অভিশপ্ত পাকিস্তানকে মুক্ত করতে পারবে? তৈরি করতে পারবে সুস্থ, শান্তিপূর্ণ জননিরাপদ, সমৃদ্ধ পাকিস্তান।

আহমদ রফিক : ভাষা সংগ্রামী, কবি ও গবেষক।