উল্লাপাড়ায় ট্রেনের টয়লেট থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

আগের সংবাদ

মা-বাবাকে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

পরের সংবাদ

আসন ভাগাভাগির চাপ

আওয়ামী লীগ-বিএনপির ধীরে চল নীতি

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৯, ২০১৮ , ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৯, ২০১৮, ৫:৫৩ অপরাহ্ণ

রাজনীতির মাঠে ভোটের আমেজ শুরু হলেও প্রতিদ্বন্দ্বী দুই জোটের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনাই শুরু হয়নি। কবে কখন কার সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। জোটের শরিকরা এ নিয়ে বেজায় নাখোশ। শরিকরা নিজ দলে আসনের তালিকা করে রাখলেও জোট প্রধানদের কাছ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন তারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন দুই জোটের ভেতরে আসন ভাগাভাগি নিয়ে চাপ বাড়ছে। জোটভুক্ত দল থেকে অনেক আসনেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে নামানো হয়েছে। এ নিয়ে অনেক স্থানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবরও পাওয়া যাচ্ছে। তবে উভয় জোটের প্রধান দুদলই এ বিষয়ে ধীরে চল নীতি গ্রহণ করেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হুলিয়া মাথায় নিয়ে লন্ডনে। ২০ দলীয় জোটের আসন বণ্টনের আলোচনা কোন পর্যায়ে কার সঙ্গে হবে, কে কার সঙ্গে বসবেন এ নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা।
১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে আলোচনা হবে তাও চূড়ান্ত হয়নি। অবশ্য এ জোটের শরিক দলগুলোর প্রধানরা সরাসরি জোটনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বসে আসনের ফয়সালা করতে চান বলে জানা গেছে। জোটের শরিক যারা বর্তমানে সংসদে আছেন তারা আরো বেশি আসন চান বলে জানা গেছে।
এদিকে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে; আর না নিলে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে এমন আলোচনা চললেও আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনাই শুরু হয়নি। আবার বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে এবং নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কি হবে এ নিয়েও ২০ দলের ভেতরে চলছে কানাঘুষা। বিশেষ করে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপিকে ছাড় না দেয়ায় জামায়াতের সঙ্গে আগামী নির্বাচনে জোটের সম্পর্ক কোন পর্যায়ে দাঁড়ায় এ নিয়ে বিএনপির ভেতরে আলোচনা চলছে। দুই জোটের সমন্বয়ক ও শরিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য মিলছে।
১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, শরিক দলগুলোর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। অনেকের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনার দিনক্ষণও ঠিক হয়নি।
অন্যদিকে ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হলে তফসিল ঘোষণার পর এ নিয়ে আলোচনা হবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের (গোলাম মোহাম্মদ কাদের) জানান, আসন ভাগাভাগির সম্পর্কে তার কিছু জানা নেই। বিষয়টি পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্র্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নিজেই দেখছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটের ভেতরে কোনো আলোচনা এখনো শুরু হয়নি। তবে সহসাই এ নিয়ে আলোচনা শুরু হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজ কল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেননও বলেন, জোট শরিকদের মধ্যে আসন সমঝোতার কোনো আলোচনা এখনো হয়নি। সহসাই এ নিয়ে জোটের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে বলে আশা করছি।
সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়–য়া বলেছেন, আসন নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি। কবে কার সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা হবে তাও চূড়ান্ত হয়নি।
গণতান্ত্রিক পার্টির প্রেসিডিয়ামের সদস্য মাহমুদুর রহমান বাবু বলেছেন, ১৪ দলীয় জোটের বৈঠকে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, ঈদের পর আলোচনা হবে। তিনি ঢাকা-৬ আসনে প্রার্থী হতে আগ্রহী বলেও জানান।
বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এম এ আওয়ালকে নিয়ে নিজ দলে মতবিরোধ চলছে। দল থেকে অব্যাহতি পাওয়া মহাসচিব এম এ আওয়াল বলেছেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে ১৪ দলে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। প্রয়োজনে তিনি পৃথক তরিকত ফেডারেশন করে হলেও ১৪ দলে থাকবেন বলে জানান।
জানা গেছে, অক্টোবরে শিডিউল, ডিসেম্বরে ভোট এমন পরিকল্পনা করে এগুচ্ছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটের প্রস্তুতির তোড়জোড় শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন সামনে রেখে দলের প্রান্তিক নেতাদের ঢাকায় ডেকে ভোটের প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। শুনেছেন মাঠ নেতাদের কথা।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটেও কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। জোটের কোনো কোনো দল এ নিয়ে আলোচনা চালাতে চাইলেও বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে আলোচনার সময় এখনও আসেনি। বরং দেশে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলে শরিক দলগুলোকে যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। ২০ দলীয় জোটের প্রধান দল বিএনপি অবশ্য শরিক দলগুলোকে নির্বাচনী পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখার আহŸান জানিয়ে আসছে।
২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম ভোরের কাগজকে বলেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি এখনই আলোচনা করছে না। তবে এলডিপির পক্ষ থেকে ৩০টি আসনের একটি তালিকা আমরা তৈরি করে রেখেছি। সেসব আসনে আমাদের দলের সাবেক মন্ত্রী এমপিরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, ঢাকার একটি আসনসহ আমরা তিনটি আসন জোটের কাছে দাবি করব। তিনি বলেন, এ নিয়ে কোনো আলোচনা এখনো জোটের কোনো বৈঠকে উত্থাপিত হয়নি।
বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, আসন ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি কোনো আলোচনা করতে চায় না। তারা এ নিয়ে কোনো কথাও বলে না। কেউ আলোচনা করতে চাইলেও বিএনপির পক্ষ থেকে আলোচনায় অনাগ্রহ দেখানো হয়। তিনি জানান, বাংলাদেশ ন্যাপের পক্ষ থেকে ২০ দলীয় জোটের কাছে ৩টি আসন দাবি করা হবে।