জ্বালানি সংকটে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ

আগের সংবাদ

ইভটিজিং থামছে না প্রতিবাদ করায় বাড়ছে খুন

পরের সংবাদ

সৌদি আরবে নির্যাতিত নারী শ্রমিক

ফেরার আকুতি জানিয়ে ৫০ নারীর ভিডিও বার্তা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৮, ২০১৮ , ১২:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৮, ১২:২৯ অপরাহ্ণ

বাঁচার আকুতি জানিয়ে সৌদি আরবের রিয়াদ থেকে ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছে ৫০ জন বাংলাদেশি নারী শ্রমিক। ভিডিও বার্তাটিতে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন নারী মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদছেন। তাদের মধ্য থেকে একজন নারী বলছেন, ‘এখানে বাঙালি নারী আছে বেশির ভাগ। একটা সুস্থ মানুষরে যদি পায়ের ভেতর পেরেক ঢোকানো হয় তাহলে তার অবস্থা কেমন হইতে পারে? সুস্থ মানুষরে যদি মাথায় কারেন্ট দিয়া শক দেয় হয় তাইলে সেই মানুষটা কেমন হইতে পারে? একটা সুস্থ মানুষরে যদি মরিচ চাবায়ে খাওয়ায় তাইলে কেমন লাগে?’ পাশে থাকা অন্য নারীরা ডুকরে কেঁদে ওঠেন। কয়েক জন বলতে থাকেন, ‘আমরা সৌদির রিয়াদে আছি।’ যে নারীটি তাদের কষ্টের কথাগুলো বলছিলেন তিনি হাত জোর করে আবার বলতে থাকেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটাই আমার আবেদন। আমাদের মা-বুইনেরে ইজ্জতমতো সবাইকে যেন বাংলাদেশে ফিরায়ে নেয়। এইটা শেখ হাসিনার কাছে আমাদের আবেদন।’ এ কথা বলার পর প্রত্যেক নারী হাত জোর করে কাঁদতে থাকেন। সেই নারী বলতে থাকেন, ‘শেখ হাসিনা আমাদের বিপদ থেইকা উদ্ধার করেন। আমরা অনেক বিপদের মুখে আছি। আমাদের জীবন ভিক্ষা দেন। আমাদের প্রাণ ভিক্ষা দেন।’
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য বিভাগে গতকাল সোমবার এই ভিডিও বার্তাটি পাঠানো হয়। জানা গেছে, সৌদি আরবের রিয়াদে মাহারা হিউম্যান রিসোর্স কোম্পানিতে ৫০ বাঙালি নারী দেশে ফেরার অপেক্ষায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নারী কর্মীদের অভিযোগ, নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা রিয়াদ বাংলাদেশ দূতাবাসে আশ্রয় নেন। কিন্তু দূতাবাস থেকে দেশে পাঠানোর কথা বলে তাদের মাহারা কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হয়।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, অসংখ্য নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরত আসতে বাধ্য হচ্ছেন। বাঁচার আর্তিতে তাদের কাছে দৈনিক গড়ে ফোন
করেন ৬ থেকে ৭ জন নারী। সম্প্রতি বাঁচার আর্তি জানিয়ে বেশ কয়েকটি ভিডিও বার্তাও এসেছে। সেগুলো যাচাইবাছাই করা হয়।
জানা যায়, নারী শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে প্রবাসী ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে ব্র্যাক। ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান ভোরের কাগজকে জানান, ভিডিও বার্তায় ৫০ জন নারীর মধ্যে ৩৭ জন নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাহায্য চেয়ে ব্র্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের আবেদন এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্যের ভিত্তিতে ব্র্যাক তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন করেছে।