ফেরার আকুতি জানিয়ে ৫০ নারীর ভিডিও বার্তা

আগের সংবাদ

আগামী মাসেই পুতিন ও শি জিনপিংয়ের বৈঠক

পরের সংবাদ

ইভটিজিং থামছে না প্রতিবাদ করায় বাড়ছে খুন

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৮, ২০১৮ , ১২:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০১৮, ১২:৩৮ অপরাহ্ণ

উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি বা ইভটিজিং বন্ধে দেশে কয়েক বছর ধরে চলছে সচেতনতামূলক প্রচারণা। আইন হয়েছে ২০১০ সালে। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি এক বছর কারাদন্ড এবং জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু তারপরও থামছে না ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধ। এ অপরাধের প্রতিবাদ করায় বাড়ছে খুনের ঘটনাও।
যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় গত ২১ আগস্ট রাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খুন হন কলেজছাত্র মারুফ খান। এক তরুণীকে স্থানীয় বখাটেরা উত্ত্যক্ত করায় এর প্রতিবাদ করেন মারুফ। এর কিছুক্ষণ পরই মারুফ গেন্ডা এলাকায় পৌঁছলে বখাটেরা তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জখম করে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে মৃত্যু হয় মারুফের। এই বখাটেরা এর আগেও একাধিকবার একই ধরনের অপরাধ ঘটিয়েছে। এই অপরাধের প্রতিবাদ করায় তিনজনকে কুপিয়ে জখম করেছে। চলতি বছরের ১২ মে ময়মনসিংহে এক নারীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় খুন হন জুলহাস মিয়া (১৮)।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত যৌন হয়রানি-সহিংসতার শিকার হন ১০৬ জন। এর মধ্যে ৬৩ জন নারী ও ৪৩ জন পুরুষ। আত্মহত্যা করেছেন ৩ জন নারী। প্রতিবাদ করায় খুন হন ৪ জন পুরুষ। প্রতিবাদ করায় বখাটে কর্তৃক লাঞ্ছিত হন ৫৮ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ। বখাটেদের উৎপাতকে কেন্দ্র করে সংঘাতে আহত হন ২৫ জন পুরুষ। স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয় ২ নারীর। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, উত্ত্যক্তকরণের শিকার হয়েছে ৭৭ শিশু।
সারা দেশে যৌন হয়রানি রোধে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির পক্ষে জনস্বার্থে এডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নী ২০১০ সালের ২ নভেম্বর একটি রিট দায়ের করেন। এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি যৌন হয়রানি বন্ধে সাত দফা নির্দেশনাসহ রায় দেন হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি মো. ইমান আলী ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ। রায়ে বিভিন্নভাবে যৌন নিপীড়নকে সংজ্ঞায়িত করা হয়। প্রতিটি থানায় নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনি সহায়তা দেয়ার জন্য একটি করে সেল গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই সেলের প্রতি মাসে জেলার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা। কিন্তু তা কার্যকর হয়নি।
উত্ত্যক্তকরণ প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা তৈরিতে ১৩ জুনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ইভটিজিং প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি জাতীয়ভাবে পালিত হলেও এরপর দিবসটি নিয়ে তেমন কোনো কথা শোনা যায়নি।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এ সম্পর্কে বলেন, ইভটিজিং সমাজের বিষাক্ত ক্ষত। ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পক্ষে মত দেন তিনি।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম বলন, ইভটিজিং বা যৌন নিপীড়নের ঘটনা বন্ধে যে ধরনের আইন রয়েছে, এর প্রয়োগ হচ্ছে না। ফলে অভিযুক্তদের শাস্তি হয় না। এতে অপরাধীরা ধরেই নেয়, অন্যায় করেও পার পাওয়া যায়। আর এ কারণেই এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হচ্ছে না। স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক রঞ্জন কর্মকার বলেন, আদালত রায় দেয়ায় পরও তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় সারা দেশে ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধগুলো আগের মতোই ঘটে চলছে। এ জন্য সামাজিকভাবে প্রতিরোধ জরুরি। সেই সঙ্গে পারিবারিক সচেতনতাও দরকার। অপরাধ কমাতে হলে কঠিন আইনের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে আইনকে কার্যকর করার পথও সহজ করে দিতে হবে।