জোয়ার-ভাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলে নিজামপুরবাসীর জীবনযাপন

আগের সংবাদ

লেনদেনের শীর্ষে অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস

পরের সংবাদ

লালমনিরহাটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৭, ২০১৮ , ৩:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০১৮, ৩:২২ অপরাহ্ণ

আওয়ামী লীগ নেতার সহযোগিতায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে জমজমাট ব্যবসা করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুদিন বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও পুনরায় চালু করার অভিযোগ উঠেছে। তবে এবার আর বন্ধ হবে না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ওই নেতা।
স্থানীয়রা জানান, বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন মহিষখোচা ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া। বেশ কিছুদিন ধরে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযানে বালু উত্তোলন ব্যবসা কিছুদিন বন্ধ ছিল। এরই মাঝে মহিষখোচা ইউপি চেয়ারম্যান নব্য আওয়ামী লীগ নেতা মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরীকে ম্যানেজ করে মহিষখোচা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বালুর উত্তোলন শুরু করেছে ওই বিএনপি নেতা। এরপর তা ট্রাকে ট্রাকে বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু স্থানীয়দের জানানো হয় বিদ্যালয়ের কাজে ব্যবহার করা হবে এসব বালু।
তিনটি বোমা মেশিনের সাহায্যে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। এ বালু পাইপের সাহায্যে মহিষখোচা বাজারের ভেতর দিয়ে ওই বিদ্যালয় মাঠে ফেলা হচ্ছে। এসব বোমা মেশিন ও পথরোধ করা বালু পরিবহন পাইপ সরাতে স্থানীয়রা একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করলে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় জেলা প্রশাসন। এটি বন্ধে দুদিন অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। অভিযান শুরু হলে মেশিন বন্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেই পুনরায় চালু হচ্ছে বোমা মেশিন।
কয়েকদিন আগে থেকে পুনরায় চালু হয়েছে বিএনপি নেতার বোমা মেশিন। ঈদের ছুটির মধ্যেই ৭/৮ লাখ টাকার বালু উত্তোলনের টার্গেট তার।
একই উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের মাঝিটারী গ্রামে রাস্তা নির্মাণের কাজের জন্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ওই রাস্তার পাশে বোমা মেশিনে। ফলে নির্মাণের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে এসব সড়ক। ভাদাই ইউনিয়নের কদমতলা ব্রিজের পাশে সতি নদীর বাঁধ নির্মাণের বালু সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই বাঁধের নিচ থেকে।
শুধু এই বালু ব্যবসায়ী নয়, জেলার সব বালু ব্যবসায়ীরা আগামী ঈদের ছুটিকে টার্গেট করে রয়েছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে বোমা মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঈদের ছুটি শুরু হলে তাদের বোমা মেশিন চালু হবে। বোমা মেশিনের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা পাচ্ছে না নদী, নদীর বাঁধ, রাস্তাঘাট, রেললাইন, সড়ক-মহাসড়ক, বসতভিটা ও ফসলি জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। এসব বন্ধে ভুক্তভোগীরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও সুফল পাচ্ছেন না। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন জনের সুপারিশে অনেক সময় দেখেও না দেখার ভান করে এড়িয়ে যাচ্ছেন। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানাও আদায় করছেন। তবুও বন্ধ হচ্ছে না বোমা মেশিনে বালু উত্তোলন। ফলে এ অঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে ভ‚মিকম্প ও ফসলহানির ঝুঁকি। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, বড়-বড় নেতা ও সংসদ সদস্যরা নব্য আওয়ামী লীগের কথা শুনে বিএনপির অবৈধ ব্যবসার সুপারিশ করে। শুধু তাই নয়, এ অবৈধ ব্যবসা গুঁড়িয়ে না দিতে জেলা প্রশাসনকে ফোন করে অনুরোধ করে। এসব নব্য আওয়ামী লীগ নেতা স্বার্থের লোভে দলে এসে বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতা করছেন।
বোমা মেশিন মালিক মহিষখোচা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া বলেন, স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের অনুরোধে মেশিন দিয়ে আমি বিদ্যালয়ের মাঠ ও পুকুর ভরাট করতে বালু উত্তোলন করছিলাম। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা এতে বাধা দেয় ফলে এখন বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে।
মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোসাদ্দেক হোসেন চৌধুরী বালু উত্তোলনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, বিএনপি নেতা দুলাল মিয়া নয়, স্থানীয় সাহেব আলী নামে একজন বালু উত্তোলন করছেন। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের কাজে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, ওই মেশিন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
তারপরও যদি কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।