ইতিহাসে জাপানের মেয়েরা

আগের সংবাদ

রোনালদোর অন্য রকম হ্যাটট্রিকের সুযোগ!

পরের সংবাদ

ব্যাডমিন্টনের রানি তাই তিজু ইয়েং

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৬, ২০১৮ , ২:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৮, ২:২৯ অপরাহ্ণ

বর্তমান বিশ্বে ক্রীড়াঙ্গনে ফুটবল এবং ক্রিকেট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ কারণে হারিয়েই যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী পুরনো খেলাগুলো। তবে ক্রীড়াঙ্গনের বাকি খেলাগুলো যে অবস্থানেই থাক না কেন, নিজের অস্তিত্ব ঠিকই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে অভিজাত সম্প্রদায়ের খেলা ব্যাডমিন্টন।

ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে ভারতে নিযুক্ত ব্রিটিশ সেনা অফিসাররা এই খেলার শুরু করেন। ব্রিটিশ গ্যারিসন নগরী পুনায় এটি বিশেষ জনপ্রিয় ছিল বলে এর অপর নাম পুনাই। ১৯৩০ সালে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ব্যাডমিন্টন ফেডারেশন (বর্তমান ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯২ সালে পাঁচটি ইভেন্টসহ ব্যাডমিন্টন অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত হয়। এই ইভেন্টগুলো হলো পুরুষ ও মহিলাদের সিঙ্গেলস, পুরুষ ও মহিলাদের ডাবলস এবং মিক্সড ডাবলস।

আধুনিক বিশ্বে ইউরোপের বাইরে চীন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াতেও ব্যাডমিন্টন বেশ জনপ্রিয়। মূলত এশিয়ান তারকারাই ব্যাডমিন্টন বিশ্বকে শাসন করে আসছে। নারী একক ব্যাডমিন্টনের র‌্যাঙ্কিংয়ে সবার ওপরে রয়েছেন তাইওয়ান তারকা তাই তিজু ইয়েং। আর প্রথম পাঁচ জনের চার জনই হলেন এশিয়ার প্রতিনিধি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন জাপানের আকানা ইয়ামাগুছি। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের পিভি সিন্ধু। স্প্যানিশ তারকা ক্যারোলিন ম্যারিনের অবস্থান চতুর্থ স্থানে। থাই ব্যাডমিন্টন তারকা র‌্যাটচানোক ইন্তানোন রয়েছেন পঞ্চম স্থানে। ভারতের আরেক জনপ্রিয় ব্যাডমিন্টন সুন্দরী সাইনা নেহাল রয়েছেন দশম স্থানে। তবে খুঁজে পাওয়া যায়নি কোনো বাংলাদেশি তারকাকে।

বিশ্বের নাম্বার ওয়ান ব্যাডমিন্টন তারকা তাই তিজু ইয়েং ১৯৯৪ সালের ২৪ জুন তাইওয়ানের কাউসিয়াং শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই ব্যাডমিন্টন খেলায় নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে সক্ষম হন তিনি। মাত্র ষোলো বছর বয়সে র‌্যাঙ্কিংয়ে দেশের নাম্বার ওয়ান ব্যাডমিন্টন তারকা হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন।

২০১১ সালে ১৭ বছর বয়সে ইউএস ওপেন গ্রান্ড পিক্স গোল্ড টুর্নামেন্ট জিতে ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা জিততে সক্ষম হন। এখান থেকেই আধিপত্য বিস্তার করা শুরু। ২২ বছর বয়সে বিশ্ব ব্যাডমিন্টনের র‌্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে উঠতে সক্ষম হন। প্রাপ্তির ঝুড়িটা বেশ বড়ই। এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন তিনি। টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ব্রোঞ্জ পদকও জেতেন। গ্রীষ্মকালীন আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় দুবার গোল্ড এবং ব্রোঞ্জ পদক এবং একবার সিলভার জিতেছেন। ২০১৪ সালে এশিয়ান গেমসে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। মাত্র ২৪ বছর বয়সেই এত কিছু। সামনে আরো বেশ কয়েক বছর খেলবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। খেলার ছন্দ ধরে রাখতে পারলে নিশ্চয় প্রাপ্তির ঝুড়িটা আরো সমৃদ্ধশালী হবে।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা