কাঁচা চামড়া রপ্তানির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই

আগের সংবাদ

বুলগেরিয়ায় বাস খাদে পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু

পরের সংবাদ

আ.লীগের চেষ্টা ধরে রাখার,বিএনপি মরিয়া পুনরুদ্ধারে

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৬, ২০১৮ , ৩:২৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৬, ২০১৮, ৩:২৮ অপরাহ্ণ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামালপুর-১ (বকশিগঞ্জ-দেওয়ানগঞ্জ) আসনে দলীয় প্রধান ও কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং ভোটারদের কাছে টানতে গণসংযোগ আর সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী এক প্রার্থী অন্য প্রার্থীর চেয়ে বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে টানতে প্রতিযোগিতায় মাঠে নেমেছেন। বসে নেই জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরাও। সব মিলিয়ে এবার এ আসনটি ধরে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ, আর পুনরুদ্ধারে মরিয়া বিএনপি।
যমুনা-ব্রহ্মপুত্র বিধৌত দেওয়ানগঞ্জ ও পাহাড়ি জনপদ বেষ্টিত বকশিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে জামালপুর-১ আসন। এ দুটি উপজেলাই আবার দেশের সীমান্ত ঘেঁষা। উপজেলা দুটি ছোট হলেও দুদলেই রয়েছেন প্রভাবশালী সাবেক মন্ত্রী, সাবেক আইজিপি, প্রভাবশালী এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতা। একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি নেতা হওয়ার কারণে কোন্দল বাসা বেঁধেছে দুদলেই। দলীয় নেতাকর্মীরা ও বিভক্ত হয়ে পড়েছেন গ্রæপ-উপগ্রæপে। তবে বিএনপিতে কোন্দল তুলনামূলকভাবে কম। দলে কোন্দলের কারণে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে কাজ করছেন মনোনয়নের আশায়। তারা দলীয় সভানেত্রীসহ কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও দলীয় নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের কাছে টানতে প্রতিযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ আসনে আওয়ামী লীগের ৬, বিএনপির ৩ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) ১ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে
রয়েছেন। এসব মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ এমপি, বকশিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ ভাবুক, সহসভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী নেতা শিল্পপতি এমদাদুল হক এমদাদ, দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদার, একই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।
এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আবুল কালাম আজাদ একাধারে চারবার নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হয়ে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এমপি আবুল কালাম সমর্থক নেতাকর্মীরা জানান, অন্যান্য বারের তুলনায় এবার এলাকার দৃশ্যমান উন্নয়ন করায় তার জনপ্রিয়তা রয়েছে ভালো। তিনি মনোনয়ন পেলে ওই আসনটি ধরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন তারা। তারা আরো বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুর মোহাম্মদ ভাবুক নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এরপর থেকে নুর মোহাম্মদ ভাবুকের সঙ্গে এমপি আবুল কালাম আজাদের বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। সেই থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির গ্রæপের সঙ্গে আজাদের সাংগঠনিক বিরোধ চলে আসছে।
এ ছাড়া নুর মোহাম্মদ জেলার শীর্ষস্থানীয় প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় কিছুটা বিপাকেও রয়েছেন এমপি আবুল কালাম আজাদ। দলের নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় আবুল কালাম আজাদ এমপিকে এবার মনোনয়ন না দেয়ার জন্য উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।
এ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা নুর মোহাম্মদ ভাবুক। জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদপুষ্ট নুর মোহাম্মদ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় তিনি সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য সহযোগিতা করার পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের সব সময় সহযোগিতা করে আসছেন। তিনি গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিএডিসির আড়াই হাজার মণ আমন ধানের বীজ বিতরণ করেন ব্যক্তিগত তহবিল থেকে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৬০ হাজারেরও বেশি ভোট পান। এবারো তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় এমপির মধ্যে বিরোধের কারণে দলে কোন্দল ও উপকোন্দলের সৃষ্টি হয়েছে।
এ আসনে অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি এমদাদুল হক এমদাদ এবং দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইসতিয়াক হোসেন দিদার এবং উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।
এদের মধ্যে ইসতিয়াক হোসেন সপরিবারে ঢাকায় অবস্থান করে ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। মাঝে মধ্যে এলাকায় এসে গণসংযোগ করেন। আর আবুল কালাম আজাদ ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে রয়েছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, দেওয়ানগঞ্জ পৌরসভার মেয়র এবং বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
অপরদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা সভাপতি সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা আক্তার রীতা এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম।
এদের মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছেন সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি এমপি থাকাকালীন জামালপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়ককে আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তরিত করাসহ ব্যাপক উন্নয়নকাজ করায় এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। যদিও দলে কিছুটা কোন্দল রয়েছে। মিল্লাত সমর্থক ও দেওয়ানগঞ্জ-বকশীগঞ্জ বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বলেন, মিল্লাত মনোনয়ন পেলে দেওয়ানগঞ্জবাসী আবারো তাকে সমর্থন দেবে এবং বিএনপির হারানো আসন পুনরুদ্ধার হবে।
এ আসনে বিএনপির অপর প্রার্থী হলেন জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা মহিলা দলের সভাপতি সাহিদা আক্তার রীতা। তিনি দলের মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম। তিনি দলে যোগদানের পর সাবেক এমপি মিল্লাতের সঙ্গে তার চরম বিরোধ সৃষ্টি হয়। এই বিরোধের জের ধরে আবদুল কাইয়ুম তার সমর্থকদের নিয়ে দেওয়ানগঞ্জে সভা করার জন্য এলে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে তিনি আর দেওয়ানগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি।
এ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী এম এ সাত্তার সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন।
সব মিলিয়ে এ আসনে যদি আওয়ামী লীগ কোন্দল নিরসন করে সঠিক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় তাহলে আসনটি আওয়ামী লীগের ধরে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।