বেচাকেনা শুরু দাম হাঁকছে বেশি

আগের সংবাদ

বাঁচার আর্তিতে দৈনিক ফোন করেন ৬-৭ জন

পরের সংবাদ

‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২০, ২০১৮ , ১২:২২ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২০, ২০১৮, ১২:২২ অপরাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : আজ সোমবার পবিত্র হজ। ভাষা ও বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বের প্রায় ১৬৪টি দেশের ২০ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান হজ পালনের লক্ষ্যে মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। মূলত ৯ জিলহজ সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করাই হজ। আগামীকাল মঙ্গলবার সৌদি আরবে ঈদুল আজহার দিন পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
এর আগে শনিবার বিকেল থেকেই ১০ কিলোমিটার দূরে তাঁবুনগরী মিনায় জড়ো হতে শুরু করেন মুসল্লিরা। সাদা কাপড়ে আচ্ছাদিত বিভিন্ন বর্ণ, ভাষা, জাতীয়তার লাখো মুসলমান কেউ বাসে, কেউ গাড়িতে, কেউবা হেঁটে মিনার পথে রওনা হন। তাদের সবার মুখে ছিল ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইক লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়াননি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক’ ধ্বনি। এর অর্থ, ‘আমি হাজির। হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সা¤্রাজ্যও তোমার।’
আরব নিউজ জানায়, যারা হজে এসেছেন, বিশ্বের নানা প্রান্তের বাসিন্দা তারা। তবে সবার কাছেই এ অভিজ্ঞতা জীবনের অনন্য সাধারণ এক ঘটনা। যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে পাঁচ বছর আগে পালিয়ে তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৫০ বছর বয়সী অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিশমা মোস্তফা। এবার তিনি সৌদি আরবে এসেছেন হজ করতে। মোস্তফা বলেন, এই প্রথম নিজের চোখে কাবা দেখার সুযোগ হলো আমার। এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিজ্ঞতা। ইয়েমেনের নাগরিক নায়েফ আহমেদ (৩৭) হজে এসেছেন জমি বিক্রির টাকায়। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে আসার খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু এখানে এসে আমি শান্তি পাচ্ছি। তিউনিসিয়া থেকে আসা ৫৯ বছর বয়সী নাজওয়া বলেন, ২০০৭ সালে সৌদি আরবে ওমরাহ করে গেছেন তিনি। এরপর হজ করার জন্য রেজিস্ট্রেশন করলেও সুযোগ পেতে পেরিয়ে গেল দশটি বছর। এই অনুভ‚তি আমি বোঝাতে পারব না, আমার চোখ প্রতিদিন ভিজে আসে।
সৌদি দৈনিক আলআরাবিয়ার খবরে বলা হয়, বাদশাহ সালমান এবার হজের খুতবা পড়ার দায়িত্ব দিয়েছেন মসজিদে নববীর ইমাম শেখ হুসেইন বিন আবদুল আজিজকে। এ খুতবা রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে বিশ্বময়। মুসলমানদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আদি পিতা আদম ও আদি মাতা হাওয়া পৃথিবীতে পুনর্মিলনের পর এই আরাফাতের ময়দানে এসে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। ১৪শ বছরের বেশি সময় আগে এখানেই ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (স.) দিয়েছিলেন তার বিদায় হজের ভাষণ। এই আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হয় স্বল্প সময়ের জন্য। ইসলামি রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিনটি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানোই হলো হজ।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল মনসুর আল তুর্কি শনিবার মিনায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এবার হজে আসা মানুষের সংখ্যা সব মিলিয়ে ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। তারা যাতে নির্বিঘ্নে সুষ্ঠুভাবে হজ পালন করতে পারেন, সে জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। হজে আসা মুসলমানদের নিরাপত্তার জন্য মক্কার চারপাশে ছয়টি চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে। সেখানে অনুমতিপত্র পরীক্ষা করে তারপর সবাইকে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। যাতায়াতের সুবিধার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ২১ হাজার বাস। পুরো প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সৌদি সরকারের ১,৪০০ কর্মকর্তা কর্মচারীর পাশাপাশি নারী-পুরুষ মিলিয়ে রয়েছেন ১,৪৮৫ জন স্বেচ্ছাসেবী।
প্রসঙ্গত, এ বছর ১ লাখ ২৬ হাজার ২৪ জন বাংলাদেশি পবিত্র হজব্রত পালন করতে সৌদি আরব গেছেন।