কাল স্টক একচেঞ্জ বন্ধ

আগের সংবাদ

শাওমির নতুন ট্যাব

পরের সংবাদ

আ.লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি বিএনপির বাধা জামায়াত

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১৪, ২০১৮ , ৫:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১৪, ২০১৮, ৫:০৮ অপরাহ্ণ

একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুর-৬ আসনের ঝিমিয়ে পড়া রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা ভোটের আশায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন। দলীয় টিকেট পাওয়ার আশায় নেতাকর্মীরাও এখন উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা লবিং-গ্রুপিং এমনকি দলীয় হাইকমান্ডের কাছে ধরনা দিতেও শুরু করেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে শুরু হয়েছে তুমুল প্রতিযোগিতা। দলীয় কোন্দলের কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক মনোনয়ন পাবেন কিনা তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন পুরো নির্বাচনী এলাকা। হাটবাজার থেকে শুরু করে হোটেল, চায়ের দোকানগুলোতে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সম্ভাব্য প্রার্থীরা ঈদ, পূজা খেলাধুলাসহ বিভিন্ন উৎসবে নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছেন। এ ছাড়া এলাকায় রং-বেরংয়ের পোস্টার লাগিয়ে ভোটারদের নানা প্রতিশ্রæতি দিচ্ছেন, শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন ও দোয়া চাচ্ছেন।

এ আসনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীর ছড়াছড়ি। মনোনয়ন দৌড়ে বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আজিজুল হক চৌধুরী এগিয়ে থাকলেও বসে নেই অন্য চার উপজেলার মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। এদের মধ্যে রয়েছেন বিরামপুর উপজেলার চেয়ারম্যান ও সাবেক ছাত্রনেতা আলহাজ পারভেজ কবির, নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান, বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মিজানুর রহমান মণ্ডল, বিরামপুর সাবেক পৌর চেয়ারম্যান অধ্যাপক আক্কাস আলী, আইনুল হক চৌধুরী, মাকসুদুর রহমান লাবু চৌধুরী।

অপরদিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন- দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমান মিন্টু ও চিকিৎসক নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

এদিকে জোটভিত্তিক নির্বাচন হলে বিএনপিকে ছাড় দেবে না জামায়াত। সে ক্ষেত্রে মনোনয়ন পেতে পারেন জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল ইসলাম। জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান সংসদ সদস্য শিবলী সাদিকের বড় আব্বা কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ দেলোয়ার হোসেন। জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি ও হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমানও মনোনয়নের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

এ আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াতের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান চৌধুরী, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মোস্তাফিজুর রহমান, ২০০১ সালে আবারো জামায়াতের অধ্যক্ষ আজিজুর রহমান চৌধুরী, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের আলহাজ ড. আজিজুল হক চৌধুরী এবং সব শেষে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শিবলী সাদিক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

নবাবগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে বিভিন্ন হাটবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো। সে তুলনায় বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের পোস্টার, ব্যানার তেমন একটা চোখে পড়েনি।

দিনাজপুর-৬ আসনটিতে জাতীয় পার্টি বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। কারণ ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি থেকে আ. সাত্তার চৌধুরী এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর ভোটারদের কাছে লাঙ্গল প্রতীকটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। এই আসনের ভোটারদের মুখে মুখে এখন জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের গুণগান শোনা যায়। কারণ বর্তমান এমপি শিবলী সাদিকের বড় আব্বা হন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন এবং তারা একই বাড়িতে বসবাস করেন।

এলাকাবাসী মনে করেন, দুজন দুই দলের হলেও তাদের মুদ্রার এপিট-ওপিট বলা হয়। বর্তমান এমপি শিবলী সাদিক কোনো কারণে আওয়ামী লীগের টিকেট না পেলেও মহাজোট প্রার্থী আলহাজ দেলোয়ার হোসেন বর্তমান এমপির বড় আব্বা জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়ার আশা করেন।

এমপি শিবলী সাদিক বলেন, চার উপজেলায় সভাপতি-সম্পাদক মিলে ৮ জন। একেকজনের মনমানসিকতা একেক রকম। তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা খুব কঠিন। তবে আমার নির্বাচনী এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করায় সাধারণ মানুষ পুনরায় আমাকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাইবেন। আমার জানা মতে, দলের মধ্যে কোনো রকম দ্বন্দ্ব নেই। চার উপজেলায় সমানভাবে উন্নয়নমূলক কাজ করায় ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলছে।

এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ আজিজুল হক চৌধুরী বলেন, আমার বিরুদ্ধে তেমন কোনো বিতর্ক না থাকায় এলাকার সাধারণ ভোটাররা আমাকেই নির্বাচিত করতে চান। তাই আমিই জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছি। দিনাজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলতাফুজ্জামান মিতা বলেন, আমি তৃণমূল থেকে রাজনীতি করে আসছি এবং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে তাদের পাশে আছি। তাই আমাকে মনোনয়ন দিলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে এ আসনটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব।

অপরদিকে দিনাজপুর-৬ আসনের চার উপজেলায় আওয়ামী লীগের একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ পারভেজ কবির আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। সাধারণ মানুষের মাঝে আগামী সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় তার নামটি জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন।

বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রবীণ রাজনীতিক মিজানুর রহমান মণ্ডল বলেন, আমি ছাত্র রাজনীতি থেকে এখন পর্যন্ত দলের হাল ধরে আছি। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।

অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন সংশয়ে। তাদের প্রশ্ন দল কি এবারো জামায়াতের প্রার্থীকে আসনটি ছেড়ে দেবে, নাকি নিজের অবস্থান শক্তিশালী করে ঘুরে দাঁড়াবে। আবার দলীয় মনোনয়ন নিয়েও দ্বিমত রয়েছে তাদের। দলের নেতাদের মধ্যে বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে চিকিৎসক নেতা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লুৎফর রহমান মিন্টু বলেন, জামায়াতের অতীত কর্মকাণ্ড আমাদের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও বিব্রত। তাদের জন্য আমাদের দুর্নামের শেষ নেই। তিনি বলেন, এবার এ আসনে জামায়াত কোনোভাবেই মনোনয়ন পাবে না বলে প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে।