চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

আগের সংবাদ

ডুবতে বসেছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান

পরের সংবাদ

ইস্যু তৈরির কারখানা

যে কারণে রাস্তায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০১৮ , ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ধরনের নজরদারি না থাকায় সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা নানা ইস্যুতে প্রায়ই রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করছেন। অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নিচ্ছে। রাজধানী ছাপিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ হচ্ছেন তাদের আন্দোলনে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ইউটিউবের মাধ্যমে তারা উসকানিমূলক নানান গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতি জটিল করছেন। নিজেদের মধ্যকার ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে তথ্য আদানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা আন্দোলন ছড়িয়ে দেন রাজধানী থেকে সারা দেশে। ভ্যাট প্রত্যাহারের আন্দোলনে সরকারের কাছ থেকে সাড়া পেয়ে তারা নামেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে। মূলত, সরকারি চাকরিতে সুযোগ-সুবিধা বাড়ার কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা আন্দোলনে সরব হন। সেখানে সাড়া পেয়ে সর্বশেষ তারা রাস্তায় নামেন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে। তাদের প্রতিটি আন্দোলনই শেষ পর্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। যার কোনোটিতেই শিক্ষার্থীদের ওপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ ছিল না।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া গতকাল শুক্রবার ভোরের কাগজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাদের শিক্ষার্থীদের খবর রাখতে হবে। দায়িত্ব নিতে হবে। কর্তৃপক্ষের মনিটরিং না থাকলে শিক্ষার্থীরা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আরো সচেতন ও কঠোর হতে হবে।
নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ভিসি আতিকুল ইসলাম বলেছেন, আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। তাই বলে সহিংসতায় জড়ানো কাম্য নয়। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কিছু হলে দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এর বাইরে কিছু হলে দেখবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি শিক্ষার্থীদের ভেতর তৃতীয় পক্ষ ঢুকে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ভিসি মির্জা মোহাম্মদ শহিদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের মনোভাব বোঝা কঠিন। তরুণরা কি চিন্তা করে তা বলা মুশকিল। যদিও তাদের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা নেই। তবে সময় এসেছে মনিটরিং করার। ছাত্রদের মধ্যে অন্য কেউ ঢুকে অরাজকতা সৃষ্টি করে কিনা তাও খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
সূত্র মতে, ২০১৫ সালের জুন মাসে উচ্চশিক্ষার ধার্যকৃত ১০ শতাংশ ভ্যাট বাতিলের দাবিতে ‘নো ভ্যাট’ শ্লোগানে প্রথমে ঢাকার রাস্তায় নামেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ চলাকালে তারা বিভিন্ন পরিবহনের গায়ে মার্কারি কলম দিয়ে ‘নো ভ্যাট’ লিখে দেন। অনেক স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি অনাকাক্সিক্ষত রূপ নিলে একপর্যায়ে এর রেশ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্থবির করে তোলায় বেসামাল পরিস্থিতিতে সরকার উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভ্যাট কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সময় একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার পরও সরকার নমনীয় থাকে এমনকি একাধিক হামলার ঘটনায়ও আইনগত পদক্ষেপ নেয়নি।
এদিকে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গত মাসের শুরুতে রাস্তায় নামেন একদল শিক্ষার্থী। যাদের নেতৃত্বে ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অভিযোগ রয়েছে, কোটা আন্দোলনকে নানান কায়দায় ছড়িয়ে দেয়ার মধ্য দিয়ে সরকার হটানোর পথে হাঁটেন আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীরা। এই সুযোগে জামায়াত-শিবিরের সুযোগ সন্ধানীরা আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে পড়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম দেন। আক্রান্ত হয় পুলিশও। পরিস্থিতি শান্ত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব ধরনের কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন। অবশ্য পরে তিনি সংসদে বলেন, হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংস্কার করা সম্ভব নয়।
অন্যদিকে গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর অকাল মৃত্যুর জের ধরে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন শুরু হয়। ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ লেখা ফেস্টুনে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন রাজধানীসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের তৃতীয় দিনে ছোটদের আন্দোলন চলে যায় বড়দের নিয়ন্ত্রণে। তারা যানবাহনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স তল্লাশি করে লেন পদ্ধতি চালু করেন। গাড়িতে তারা মার্কারি কলম দিয়ে নানান রকম কথা লিখে দেন।
কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের এক পর্যায়ে যোগ দেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাস ছেড়ে রাস্তায় নেমে অবেরোধ গড়ে তোলেন। সরকার শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মেনে নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু করলেও একের পর এক উসকানি ও গুজবের ডালপালা ছড়াতে থাকে। অনেক স্থানে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ বাধে। ‘ধর্ষণ ও গুমের’ গুজবের সূত্র ধরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে হামলা করা হলে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। আক্রান্ত হন গণমাধ্যম কর্মীরাও। গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনে উসকানি দেয়ায় বেশ কয়েকটি মামলা করেছে পুলিশ। এসব মামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ অভিনেত্রী, আলোকচিত্রীকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ-র‌্যাব।