বিদায়ী সপ্তাহে দর কমেছে ১৩ খাতে

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধু হত্যা নিয়ে মঞ্চে ‘শ্রাবণ ট্র্যাজেডি’

পরের সংবাদ

তারেক-ক্যাথরিনের তিন দশকের চলচ্চিত্রযাত্রা

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০১৮ , ২:৪৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮, ২:৪৯ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদের যুগল যাত্রা তিন দশকের। এই তিন দশকের চলচ্চিত্রযাত্রায় নির্মিত হয়েছে ‘আদমসুরত’ থেকে ‘রানওয়ে’ পর্যন্ত মোট ১৫টি চলচ্চিত্র। এই ১৫টি চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্য কাহিনীচিত্র, নিরীক্ষাধর্মী স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্য চলচ্চিত্র এবং পূর্ণদৈর্ঘ্য কাহিনী চলচ্চিত্র। তারেক-ক্যাথরিন জুটির হাত ধরে নির্মিত হয় মাটির ময়না, মুক্তির গান, মুক্তির কথা, মাটির ময়না, অন্তর্যাত্রা, নরসুন্দর ও রানওয়ে চলচ্চিত্রগুলো। ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট নতুন সিনেমা ‘কাগজের ফুল’-এর লোকেশন দেখে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারেক মাসুদ, চিত্রগ্রাহক মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন। একই গাড়িতে থাকা ক্যাথরিনও সেদিন আহত হয়েছিলেন। তারেক মাসুদের মৃত্যুর পর তার অসামপ্ত কাজগুলো শেষ করছেন ক্যাথরিন। স্বপ্ন দেখছেন অসমাপ্ত ‘কাগজের ফুল’ সমাপ্ত করার। আগামী ১৩ আগস্ট তারেক-মিশুককে স্মরণ করতে নানা অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা জানান ক্যাথরিন। এর মধ্যে তারেক মাসুদের গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরে এবং ঢাকায় বিচ্ছিন্নভাবে অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।
চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের ৭ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদের নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহের পাঠ ও বিশ্লেষণের ‘আদম সুরত থেকে রানওয়ে’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালা আয়োজনে করেছে ম্যুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। কর্মশালায় তারেক মাসুদ ও ক্যাথরিন মাসুদের নির্মিত চলচ্চিত্রসমূহের বিশ্লেষণ উপস্থাপন ও পাঠদান করবেন ক্যাথরিন মাসুদ, চলচ্চিত্র গবেষক ও অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, চলচ্চিত্র সমালোচক ও অধ্যাপক আল মামুন, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক নুরুল আলম আতিক, চলচ্চিত্রকার প্রসূন রহমান এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা ও লেখক বেলায়াত হোসেন মামুন। কর্মশালার মেয়াদ হবে তিন দিন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আগামী ১১-১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কর্মশালা চলবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে কেটেছে ক্যাথরিনের শৈশব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরেছেন ক্যাথরিন শেপিয়ার। ১৯৮৬ সালে ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থনীতির ওপর একটি গবেষণা করতে আসেন বাংলাদেশে। পরিচয় হয় আহমদ ছফার সঙ্গে। একই বছর ঢাকায় ছফার ‘পাগলা ঘর’ নামের বাড়িতে তারেক মাসুদের সঙ্গে পরিচয় ক্যাথরিনের। তারেক মাসুদ তখন এস এম সুলতানের ওপর তথ্যচিত্র ‘আদম সুরত’ নির্মাণ করছেন। প্রায় সাত বছর ধরে এই ছবিটি নির্মাণ করেন তারেক। নির্মাণের শেষ দিকে ছবিটির ইংরেজি সাবটাইটেল তৈরিতে সাহায্য করার জন্য ক্যাথরিনকে অনুরোধ করেন তারেক। এরপরই শুরু হয় ক্যাথরিনের সঙ্গে তারেকের বন্ধুত্ব। সেই বন্ধুত্ব থেকে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তিন দশক ধরে বাংলাদেশের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন ক্যাথরিন। আশির দশকে প্রথম বাংলাদেশে আসার কারণ জানাতে গিয়ে ক্যাথরিন বলেন, ‘গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাকে অপশন দেয়া হয়েছিল, আফ্রিকা, বাংলাদেশ, ল্যাটিন আমেরিকা। আমার প্রফেসর তখন আমাকে বলল বাংলাদেশে যেতে পারো। এরপরই এক বন্ধুর মাধ্যমে ঢাকায় আসা। এরপর তো আহমদ ছফা, তারেক, সুফি এস এম সুলতানের সঙ্গে বেশ ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গেল।’
২০০২ সালে তারেক-ক্যাথরিন জুটি নির্মিত চলচ্চিত্র ‘মাটির ময়না’ বিশ্ব চলচ্চিত্রের দ্বিতীয় বড় আসর ‘কান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব’-এ পুরস্কৃত হয়। এটি কান উৎসবে অংশ নেয়া প্রথম বাংলাদেশের চলচ্চিত্র। কিন্তু তখন বাংলাদেশ সরকার ছবিটিকে নিষিদ্ধ করেছিল। ক্যাথরিন মাসুদ বলেন, ‘বাণিজ্যিক ছবির ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ হলে ছবি আরো জনপ্রিয় হয়। কিন্তু আমরা এ ধরনের প্রচারণা চাইনি। আমরা মাটির ময়না নির্মাণের পর এটাকে সব মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। বাংলাদেশের গ্রামে যে ইসলাম ধর্মের চর্চা রয়েছে সেখানে কিন্তু উগ্রতা নেই। চমৎকার একটা লোকসংস্কৃতি। মাটির ময়না ছবির মাধ্যমে মুসলিম এই লোক সংস্কৃতিকেই তুলে ধরেছি। কান উৎসবে অনেক সাংবাদিক ছবিটির নিষিদ্ধের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল। আমরা এ বিষয় নিয়ে তেমন কথা বলিনি।’

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা