যে কারণে রাস্তায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আগের সংবাদ

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ৫ শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক পারাপারের অপেক্ষায়

পরের সংবাদ

৯৫ শতাংশই খেলাপি ঋণ

ডুবতে বসেছে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১১, ২০১৮ , ১১:১১ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১১, ২০১৮, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ

নজিরবিহীন অনিয়মে ডুবতে বসেছে ন্যাশনাল ব্যাংক পাকিস্তানের (এনবিপি) বাংলাদেশ শাখা। ঋণ দেয়া হয়েছে নাম সর্বস্ব সিরামিকস, সুতা, খাদ্য, ওষুধ, কেমিকেল, কসমেটিকস, সিমেন্ট ও চামড়া খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠানে। ঋণ দিয়ে এখন গ্রাহকদের খুঁজেও পাচ্ছে না পাকিস্তানভিত্তিক এ ব্যাংকটি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অস্তিত্ব নেই এমন অনেক প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করছে এনবিপির বাংলাদেশ শাখা। বাংলাদেশে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের ৯৫ শতাংশ এরই মধ্যে খেলাপি হয়ে গেছে। আটকে গেছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার আমানত। এই অবস্থায় বছরের পর বছর লোকসান গুনছে ব্যাংকটি। এসব অনিয়ম বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন প্রতিবেদনে একাধিকবার তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ঘটনায় শুধুমাত্র কৈফিয়ত তলব করে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অনিয়ম চিহ্নিত হওয়ার পরও বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন একজন মহাব্যবস্থাপক এনবিপিকে বিশেষ সুবিধা দেন। তথ্য মতে, ১৯৪৯ সালে পাকিস্তানের করাচিতে এনবিপির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার শাখা রয়েছে ওই দেশে। পাশাপাশি ২১টি দেশেও শাখা রয়েছে ব্যাংকটির। বাংলাদেশে আগে থেকেই ব্যাংকটির শাখা থাকলেও ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের হাতছাড়া হয় এনবিপির শাখা। এ সময় এনবিপির সব সম্পত্তি ও বিনিয়োগ অধিগ্রহণ করে সোনালী ব্যাংক। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এনবিপিকে নতুন করে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেয়। এরপর ব্যাংকটি বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে ১৯৯৪ সালের আগস্টে। বর্তমানে চট্টগ্রাম ও সিলেট এবং রাজধানীর গুলশান ও মতিঝিলে চারটি শাখা রয়েছে এনবিপির। ব্যাংকটিতে শতাধিক জনবল রয়েছে। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর পর কিছু দিন মুনাফার মুখ দেখলেও এরপর থেকে লোকসানে পড়ে ব্যাংকটি। তবু বছরের পর বছর অজ্ঞাত কারণে লোকসান বয়ে নিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান সরকার।
ব্যাংকটি ২০১০ সালে লোকসান করে ১৪ কোটি টাকা। ২০১১ সালে ৩২ লাখ টাকা মুনাফা করলেও পরের বছরে ১৩৭ কোটি টাকা লোকসান করে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে ব্যাংকটি যথাক্রমে ১১৬ ও ৩১২ কোটি টাকা লোকসান করে। গত বছর লোকসান করে আড়াই কোটি টাকা। ২০১৫ সালে লোকসান দিয়েছে ৩৪ কোটি ১১ লাখ টাকা।
এনবিপি ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকটির ঋণ বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৫৫ কোটি ১ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়ে পড়েছে ১ হাজার ৩৭৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা বা ৯৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ। খেলাপি ঋণের পুরোটাই ক্ষতিজনক মানের। ফলে এসব ঋণ আদায় হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। ঋণখেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকটির মূলধন শেষ হয়ে গেছে।
সর্বশেষ ২০১৪ সালে ৪২০ কোটি টাকা মূলধন আসে পাকিস্তান থেকে। এরপরও আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি করতে পারেনি বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী বিদেশি খাতের ন্যাশনাল ব্যাংক পাকিস্তান (এনবিপি)। পাশাপাশি অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও বড় ধরনের ঋণ ঝুঁকিতে পড়েছে এ ব্যাংকটি। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ৫৬ ব্যাংকের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের অবস্থান সবচেয়ে তলানিতে। বিদেশি ৯ ব্যাংকের মধ্যেও ব্যাংকটির অবস্থান সবচেয়ে নাজুক। খেলাপি ঋণের হারে শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে শীর্ষে অবস্থানে রয়েছে ব্যাংকটি। স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এসবিপি) সুপারভিশন এন্ড এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট বলছে, বাংলাদেশে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান (এনবিপি) লোকসান দিয়েছে ১ হাজার ৮৫০ কোটি রুপি। বাংলাদেশি টাকায় ২ হাজার কোটি টাকার বেশি। এ অর্থ লোকসান হয়েছে না কি দুর্নীতি হয়েছে তা নিয়ে তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক অডিট প্রতিষ্ঠান কেপিএমজি। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র বলছে, মূলত ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশ শাখায় সমস্যা শুরু হয় খেলাপি ঋণ নিয়ে। সেই সময়ে ১৯টি অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
জানা গেছে, ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর এনবিপি ৩০ কোটি টাকা মূল্যের ১ কোটি ট্রেজারি বন্ডের ওপর থেকে লিয়েন প্রত্যাহার করার জন্য ব্যাংলাদেশ ব্যাংকে পত্র দেয় এনবিপি। তথ্য যাচাই করে নগদায়নের জন্য দাবিকৃত ৩০ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ডটি এনবিপি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লিয়েন রাখেনি। এর আগে ১০০ কোটি টাকার ট্রেজারি বিল নগদায়নের মেয়াদপূর্তির তারিখ নির্ধারিত বয়সসীমার এক বছর আগেই তা বাংলাদেশ ব্যাংকে লিয়েন রাখার জন্য পাঠায়। অর্থাৎ ট্রেজারি বিলগুলো লিয়েন রাখার সময় ব্যাংক সেগুলোর নগদায়নের তারিখ নগদায়ন হওয়ার নির্ধারিত সময়ের এক বছর পূর্বের সময় উল্লেখ করে। এনবিপি কর্তৃক সংঘটিত গুরুতর এই অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৪ সালের ৪ ডিসেম্বর পত্রে ব্যাংকটিকে সতর্ক করে। এরপর ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকে কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরে ৩০ কোটি টাকার ট্রেজারি বন্ড নগদায়নের দাবি করে এনবিপি। কিন্তু আদৌ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট লিয়েন হিসেবে সংরক্ষণ করেনি এনবিপি।
প্রায় এক বছর সময়কালের মধ্যে দুবার এবং পূর্বে আরো একাধিকবার এনবিপির দুজন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে একই ধরনের ভুয়া দাবি প্রতারণামূলক উদ্দেশ্য নির্দেশ করে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক গোপন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে প্রথমে দন্ড আরোপ, তারপর ফৌজদারি/দুদকের আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তাকে (এনবিপি) ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রæয়ারি ব্যাখ্যা তলব করা হলে ৯ ফেব্রæয়ারি এর জবাব দেয় যা সন্তোষজনক ছিল না। এদিকে এ পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এনবিপিকে ওই অনিয়মের দায় থেকে মুক্ত করার অভিপ্রায়ে গভর্নরের নির্দেশনা এড়িয়ে কেসটি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন এবং কেসটির মূল সত্য গোপন করে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করিয়ে তৎকালীন সময়ে গভর্নর ড. আতিউর রহমানের ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে কর্মরত থাকার (গুড অফিস) প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক সেটি ধামাচাপা দেন।
সূত্র জানায়, ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে এনবিপির বাংলাদেশ শাখা প্রয়োজনীয় জামানত ছাড়াই সন্দেহপূর্ণ বেশ কিছু কোম্পানিকে ঋণ দেয়। সেই সময়ের ঋণ শাখা এবং বিদেশি কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে এনবিপি।
সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের (এনবিপি) বাংলাদেশ শাখায় বড় অঙ্কের লোকসানের জন্য ৬১ কর্মকর্তাকে দায়ী করে একটি প্রতিবেদন দেয় পাকিস্তানের একটি পার্লামেন্টারি প্যানেল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এনবিপির বাংলাদেশ শাখায় লোকসানের সঙ্গে জড়িত রয়েছে ব্যাংকের ৬১ জন কর্মকর্তা। যারা শুধু বাংলাদেশ শাখায় নয়, আঞ্চলিক অফিস বাহরাইন এবং প্রধান কার্যালয় করাচিতেও ছিল। এদিকে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের প্রাথমিক তথ্যের দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। পরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে এনবিপিকে একটি কর্মপরিকল্পনা জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়। এর আগে গত মাসে দেশটির একটি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এনবিপির বাংলাদেশ অংশের দুর্নীতির দায়ে ব্যাংকটির সাবেক প্রেসিডেন্ট সাঈদ আলী রাজা, এনবিপি বাংলাদেশ শাখার সাবেক প্রধান কর্মকর্তা ইমরান বাট ও সাবেক মহাব্যবস্থাপক ওয়াসিম খানকে গ্রেপ্তার করেছে ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টেবিলিটি ব্যুরো (এনএবি)।
এনএবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কমপক্ষে ১৬ জন ব্যাংকটির নানা কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। তাদের মধ্যে সলিমুল্লাহ, প্রদীপ, কাজী নিজামসহ কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। এসব ব্যক্তির কারণে পাকিস্তানের জাতীয় রাজস্বের সাড়ে ১৮ কোটি ডলার (১ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা) ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১৩ সালে এক বিশেষ পরিদর্শন করে ব্যাংকটির করাচির প্রধান কার্যালয়কে জানিয়েছিল, অস্তিত্ব নেই এমন অনেক প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ শাখা। ভোরের কাগজের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, চার দলীয় জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে অনেক ভুঁইফোর প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয় ন্যাশনাল ব্যাংক পাকিস্তানের বাংলাদেশ শাখা। ব্যাংকটির বাংলাদেশে শীর্ষ খেলাপি হলো কটন গ্রæপ। কাগজে কলমে এই প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডের ৫৬ নম্বর প্লটের এএইচ টাওয়ারের ১৪ তলা। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার জিয়াউল হক। কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই। ওই তলার কর্মী বলেন, কটন গ্রæপ নামে কোনো প্রতিষ্ঠান এই ভবনে ভাড়া ছিল না। ওই গ্রæপের তিন প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া এসবি ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে ব্যাংকের পাওনা ২৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া ইব্রাহিম টেক্সটাইলের খেলাপি ২৯ কোটি, ঢাকেশ্বরী হায়েটসের ৩২ কোটি, ডিজি নিটিং কোম্পানির ৪২ কোটি, ওয়ার্ল্ড টেল বিডির ৩৭ কোটি, আলেয়া সোয়েটারের ২৯ কোটি, টেক্সটাইল ভারসুসোর ৩০ কোটি, বিআই এন্টারপ্রাইজের ৩৫ কোটি টাকা।
ঋণ দেয়া হয়েছে সুতা, খাদ্য, ওষুধ, চামড়া, কেমিকেল, কসমেটিকস, সিমেন্ট, সিরামিকস, সেবা, যোগাযোগ ও অন্যান্য খাতেও। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ঋণ দেয়া হয় ব্যাংকটির গুলশান শাখা থেকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শাখায় কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যেসব প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয়া হয়েছে তাদের জন্য সুপারিশ করেছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, যারা সেই সময় সুপারিশ করেছিলেন তাদের অনেকেরই যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দÐ কার্যকর করা হয়েছে।
এনবিপির এমন পরিস্থিতির বিষয়ে বক্তব্য জানতে গুলশানের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ব্যাংকটির বাংলাদেশ প্রধান ও মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি। ব্যাংকটিতে এত দিন পাকিস্তানি নাগরিকদের নিয়োগ দেয়া হলেও ২০১৫ সালের জুনে বাংলাদেশি হিসেবে কামরুজ্জামানকে প্রথম নিয়োগ দেয়।
এনবিপির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ বলেন, বাংলাদেশে অনিয়মের জন্য ব্যাংকটির সাবেক প্রধানসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ জন্য বলা যায়, এসব ঋণের সুবিধাভোগী ছিল পাকিস্তানের কোনো এজেন্ট। না হলে এত বড় ব্যাংকের প্রধানকে আটক করা হতো না। তিনি বলেন, এনবিপি দেউলিয়া হওয়ার শেষ প্রান্তে। বাংলাদেশে থাকা ব্যাংকটির সব শাখা এখনই বন্ধ করে দেয়া উচিত। তা না হলে বিপদে পড়বে এ দেশের আমানতকারীরা।