গুজব ও রাজনীতি

আগের সংবাদ

শহিদুলের মিথ্যে পোস্টেই শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে

পরের সংবাদ

রাজনীতিই হওয়া উচিত মূল চালিকাশক্তি

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০১৮ , ৮:৪৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৮, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ

আবুল কাসেম ফজলুল হক

প্রগতিশীল চিন্তাবিদ; সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ছাত্ররা অধিভুক্তিবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ইত্যাদিতে যে শক্তির জানান দিয়েছে তার প্রশংসা করি। তাদের ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে এবং ভবিষ্যতের বৃহত্তর প্রস্তুতি নিতে হবে। দূরদর্শী প্রস্তুতিবিহীন গতানুগতিক আন্দোলন দ্বারা বিশেষ সুফল অর্জন করা যায় না। যে অবস্থা দেখা দিয়েছে তাতে রাজনীতির উন্নতির জন্য গভীর চিন্তা ব্যাপক দলীয় প্রস্তুতি ও সাহসী ভূমিকা দরকার।

এত পত্রপত্রিকা, এত টিভি চ্যানেল, তার ওপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- এসবের মধ্যে যে কোনো নাগরিকেরই বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ আছে, কোনো ব্যাপারেই পরিচ্ছন্ন ধারণা লাভেল সুযোগ প্রায় নেই। বাংলাদেশে বিবিসি রেডিও এখনো প্রভাবশালী। বিবিসি রেডিও কি আমাদের রাষ্ট্র, আমাদের জাতি ও জনজীবনের স্বার্থে প্রচার চালায়? না কি ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থের কাজ করে? বাংলাদেশের প্রচার মাধ্যমগুলো কার স্বার্থে কাজ করে? স্বাজাত্যবোধ ও স্বরাষ্ট্রচেতনা কি অবাঞ্ছনীয়?

বিজ্ঞানের আবিষ্কার উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিস্তারের ফলে অনেক সুযোগ-সুবিধা আমাদের জীবনে এসেছে। এসব সুযোগ-সুবিধা নিতে গিয়ে আমরা যান্ত্রিক গতিতে অত্যন্ত দ্রুত চলছি- মানবিক বিচার-বিবেচনা বাদ দিয়ে চলছি। এর ফল যে ভালো হচ্ছে না তা বুঝতে মোটেই অসুবিধা হচ্ছে না। অত্যুন্নত প্রযুক্তির এই কালে দুনিয়াব্যাপী প্রায় সর্বত্র অশুভ বুদ্ধির কর্তৃত্ব, শুভ বুদ্ধি পরাজিত অবস্থানে আছে। মিথ্যা সত্যকে পরাজিত করে রাজত্ব করছে। প্রযুক্তি মানুষের কর্তৃত্বে থাকলে তা মানুষের জন্য কল্যাণকর হয়। কিন্তু অশুভ যখন প্রযুক্তির স্বাধীন হয়ে যায়, প্রযুক্তির দ্বার পরিচালিত হয়, তখন মানুষ আর সভ্যতার ধারায় চলতে পারে না- বর্বরতামুখী হয়ে যায়। যারা ক্ষমতাবান ও বিত্তবান তাদের চালিকাশক্তি হয় ভোগবাদ ও সুবিধাবাদ। তাদের কর্মসূচি, কর্মনীতি ও কার্যক্রমের মর্মে থাকে ভোগের বাসনা ও সুবিধাবাদের চেতনা।

সামরিক শক্তি যখন শুভকর রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বারা পরিচালিত হয়, তখন সেই সামরিক শক্তি জনগণের জন্য কল্যাণকর হয়। কিন্তু সামরিক শক্তি যখন রাজনৈতিক শক্তির ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন তা আর জনগণের জন্য কল্যাণকর থাকে না। ১৯৭১ সালে রাজনৈতিক শক্তির ব্যর্থতার কারণে সামরিক শক্তি প্রাধান্যে আসে। আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে একটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বারা। তখন সরকার ছিল। পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার। ‘তাজউদ্দীন আহমদ ও প্রথম বাংলাদশে সরকার’ নামে আমার একটি ছোট্ট বই আছে। তাতে যুদ্ধকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও কার্যাবলির সংক্ষিপ্ত বিবরণ আছে। আমি দুঃখের সঙ্গে লক্ষ করছি যে, ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন প্রথম সরকারকে আলোচনার বাইরে রেখে ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ প্রচার করা হচ্ছে। এতে ইতিহাসের মৌলিক বিকৃতি ঘটে যায়। ইতিহাসকে বিকৃত করা হলে জাতির আত্মাই বিকৃত হয়ে যায়। বিকৃতি নিয়ে এক পক্ষের পাল্টা আর এক পক্ষ সামনে আসে। তাতে চলে অন্ধ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া- বিকৃতির পর পাল্টা বিকৃতি। মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেট ধরা পড়ছে। দেশের জনসংখ্যা বাড়ছে- মুক্তিযোদ্ধাদের সার্টিফিকেটও বাড়ছে- সংখ্যা বাড়ছে। সুবিধা নাতি-পুতিদেরও দেয়া হচ্ছে। যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল তাদের সন্তান-সন্ততি ও নাতি-পুতিদের বঞ্চিত করার দাবি তোলা হচ্ছে। ‘একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়’ বইয়ের একটি ইংলিশ ভার্সন প্রকাশিত হয়েছিল। তার শেষ বাক্যটি বোধ হয় এই ছিল : Let the hatred continue for hundreds and thousands of years. শেখ মুজিবুর রহমান কিন্তু এ রকম বংশানুক্রমিক ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণের পক্ষপাতি ছিলেন না। তিনি বলতেন, বাঙালি প্রতিহিংসাপরায়ণ নয়, বাঙালি ক্ষমা করতে জানে।

১৯৭১ সালের মার্চে যে আন্দোলন তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ চালিয়ছিল, তার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘অহিংস অসহযোগ আন্দোলন’। ১৯৭২ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের বিচার আরম্ভ করে বছর শেষ হতে না হতেই ১৯৭৩ সালে তিনি ঘোষণা করেছিলেন ‘সাধারণ ক্ষমা’। তাতে চল্লিশ হাজারের মতো সন্দেহভাজনকে- যারা কারারুদ্ধ ছিল কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট তৈরি হয়নি- তাদের তিনি মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্তক্রমে ক্ষমা করে জেলখানা থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট তৈরি হয়েছিল তাদের মামলা অব্যাহত রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর এক পর্যায়ে খন্দকার মোশতাক ও প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করে পদত্যাগ করেছিলেন। সায়েম সাহেব রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়েই ১৯৭২ সালের কোলাবরেশন অ্যাক্ট বাতিল করে দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে নতুনভাবে কোলাবরেটরদের বিচার আবার আরম্ভ করেছে। বিচার চলছে। গত পাঁচ বছরের মধ্যে মাত্র জনাদশেক কোলাবরেটরকে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কোলাবরেটরদের ফাঁসির দাবিতে গঠিত ব্লগার্স এন্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত ব্লগার আরো বেশি সংখ্যায় প্রাণ হারিয়েছেন। যে ব্লগাররা প্রাণ হারিয়েছেন তারা এর মধ্যে বিস্মৃতির অন্তরালে হারিয়ে গেছেন। গণজাগরণ মঞ্চের দ্বারা যারা লাভবান হয়েছেন তারা তাদের সুবিধা অনুযায়ী মনের মতো করে এর ইতিহাস প্রচার করছেন। গণজাগরণ মঞ্চের গণজাগরণের প্রকৃতি কি ছিল? গণজাগরণ মঞ্চের ভূমিকা ছাড়া ২০১৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এভাবে হতে পারত না। নির্বাচন হওয়া পর্যন্ত সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সরকার গণজাগরণ মঞ্চকে আর টিকতে দিতে চায়নি। তখন ছাত্রলীগের ভূমিকা কী ছিল? পরে ছাত্রদের যেসব আন্দোলন হয়েছে- সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার ফলে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানের জন্য আন্দোলন, বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের জন্য আন্দোলন, নিরাপদ সড়কের ও পরিবহন আইন সংস্কারের আন্দোলন- এগুলোতে ছাত্রলীগের ভূমিকা কী দেখা দিয়েছে? প্রচার মাধ্যম এ প্রশ্নের উত্তর সাপ্লাই দিয়েছে বা দিতে পেরেছে? এসব আন্দোলনে কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হয়েছেন। কেন, কীভাবে, কাদের দ্বারা তারা আহত হয়েছেন। সাত কলেজের অধিভুক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে আছে। নানা কারণে প্রতিষ্ঠার শতবর্ষের পর্যায়ে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মর্মগত দিক দিয়ে ধ্বংসের প্রক্রিয়ায় পড়ে গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পতনের প্রক্রিয়া থেকে উত্থানের প্রক্রিয়ায় উঠতে পারবে কি? কোটা পদ্ধতি সংস্কারের যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে তা জাতির জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে আছে। নিরাপদ সড়ক আর পরিবহন নীতির সংলাপের জন্য চাপের মধ্যে সরকার যে আইন জারি করতে যাচ্ছে, তাতে সমস্যার যে কোনো সমাধান হবে তা মনে হয় না। সমস্যা অত্যন্ত জটিল। দেশে রাজনীতির যে অস্বাভাবিক রূপ ও প্রকৃতি তা নিয়ে জটিল কোনো সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়। বর্তমান সরকার আন্দোলনের চাপে কোনো সমস্যারই সমাধান না করে, নানা কৌশলে আন্দোলন দমন করে নিজের বাহাদুরি দেখানোর চেষ্টা করে থাকে। সরকার যে বাহাদুর, তাতে আমাদের কোনোই সন্দেহ নেই। সরকারি দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনার ও মত প্রকাশের কোনো রেওয়াজ নেই। জাতীয় সংসদকে ‘মহান’ বলে অভিহিত করা হয়। আসলেই কি বর্তমান জাতীয় সংসদ মহান? সংসদের সদস্যরা মহৎপ্রাণ?

বাংলাদেশে বর্তমান সরকার অত্যন্ত শক্তিশালী। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট থেকে আজ পর্যন্ত কখনো এত শক্তিশালী সরকার এ দেশে হয়নি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধকালের কথা আলাদা। দেশে এখন কার্যকর কোনো বিরোধী দল নেই। দেশের জনগণের ওপর আস্থা হারিয়ে জনগণ কিছুই করতে পারবে না- এটা মনে করে সাম্রাজ্যবাদ রাষ্ট্রসমূহের স্থানীয় ক‚টনীতিকদের দ্বারে দ্বারে ধরনা দিচ্ছে। বাম দলগুলো কোনো শক্তির জানান দিতে পারছে না। জাতীয় পার্টি যথার্থ গৃহপালিত বিরোধী দলরূপে প্রভুদলের সেবায় নিয়োজিত। ছাত্রলীগ যে কোনো আন্দোলন দমনে পুলিশের সহযোগী এবং পুলিশের চেয়ে অনেক সক্রিয়। ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্রদল বলা যায় নিষ্ক্রিয়। বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষে নিঃরাজনীতিকৃত। নির্বাচনকে বলা হয় ভোটের উৎসব। লোকে ভোটের উৎসব উপভোগ করে। প্রচার মাধ্যম মজার মজার খবর দেয়। টকশোতে জনপ্রিয় কথকেরা তাদের বাকচাতুর্য প্রদর্শন করে। মাঝে মাঝে আওয়ামী লীগ, বিএনপির মজাদার ঝগড়া দেখা যায়। প্রচলিত রাজনীতির বাইরে কোনো রাজনৈতিক চিন্তা নেই। সরকারি বুদ্ধিজীবীরা সরকারকে সব দিক দিয়ে ঠিকা দিয়ে রাখছে। এনজিও ও সিভিল সোসাইটি অরগানাইজেশনগুলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর অনুকূলে কাজ করছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিকে ভালো করার জন্য ভালো ভালো কথা বলছে। ভারত বাংলাদেশে তার অনুগত সরকার রাখার জন্য প্রকাশ্যে ও গোপনে ভীষণভাবে সক্রিয় আছে। অপরদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ভূ-রাজনৈতিক প্রয়োজনে বাংলাদেশে তার অনুগত পুতুল সরকার কায়েম করার জন্য তৎপর আছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ব্রিটেন তাদের আধিপত্য রাখতে গিয়ে অনেক কাঠখড় পোড়াচ্ছে, লাখ লাখ সৈন্য এনে যুদ্ধ চালাচ্ছে। তাতে জঙ্গিবাদ দেখা দিয়েছে। জঙ্গিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহাদেশের প্রায় বিশটি রাষ্ট্রে। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য বিশেষ বেগ পেতে হয় না। ডলার, মদের বোতল আর ককটেল পার্টি দিয়েই এখানে প্রায় সবাইকে গৃহপালিত বানিয়ে উদ্দেশ্য সফল করে নিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলোর জনচরিত্র, রাজনৈতিক চরিত্র আর বৌদ্ধিক চরিত্র বাংলাদেশ থেকে একেবারেই ভিন্ন। বাংলাদেশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত ভারত কি পারবে ইঙ্গ-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সঙ্গে? শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাগ্যে কি আছে?

সাত কলেজের অধিভুক্তির ফলে সৃষ্ট সমস্যার জন্য, কোটা সংলাপের জন্য এবং নিরাপদ সড়ক ও পরিবহন আইন সংলাপের জন্য ছাত্ররা যে আন্দোলন চালিয়েছে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলের আশার অন্ত নেই। টকশোতে দৈনিক পত্রিকায়, সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে বিখ্যাত লোকেরা ছাত্র-তরুণদের উদ্দেশ্যে পরম ভালো ভালো সব কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। আমাদের দেখা দরকার ইতিহাস কী বলে। ইতিহাস বলে যে, তরুণদের সমস্যাভিত্তিক এই সব আন্দোলনকে হীন-স্বার্থান্বেষীরা তাদের দখলে নিয়ে নেয় এবং তা দ্বারা তারা তাদের স্বার্থ হাসিল করে নেয়। ১৬৮০-র দশক থেকে যেসব আন্দোলন হয়েছে তার সবক’টির ভাগ্য এই রকমই হচ্ছে। হুজুগকেই বলা হয়েছে গণজাগরণ। বড় হুজুগকে বলা হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। ১৯৯০-এর আন্দোলনকে বলা হয়েছে ‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থান’। আসলে এগুলো তো হুজুগ মাত্র; গণজাগরণও নয়, গণঅভ্যুত্থানও নয়। আন্দোলনের চরিত্র বুঝতে হয় আন্দোলনের নেতৃত্বে চরিত্রের দ্বারা।

ছাত্ররা অধিভুক্তিবিরোধী আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন ইত্যাদিতে যে শক্তির জানান দিয়েছে তার প্রশংসা করি। তাদের ভবিষ্যৎ ভাবতে হবে এবং ভবিষ্যতের বৃহত্তর প্রস্তুতি নিতে হবে। দূরদর্শী প্রস্তুতিবিহীন গতানুগতিক আন্দোলন দ্বারা বিশেষ সুফল অর্জন করা যায় না। যে অবস্থা দেখা দিয়েছে তাতে রাজনীতির উন্নতির জন্য গভীর চিন্তা ব্যাপক দলীয় প্রস্তুতি ও সাহসী ভূমিকা দরকার। জনগণ ঘুমিয়ে থাকলে হবে না।

আবুল কাসেম ফজলুল হক : প্রগতিশীল চিন্তাবিদ; সাবেক অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।