সৈয়দপুর রেল কারখানায় মেরামত চলছে ৭৫ বগির

আগের সংবাদ

ম্যাকবুকে যুক্ত হচ্ছে ফেইস আইডি

পরের সংবাদ

মনোনয়নের আশায় দৌড়ঝাঁপ বড় দুদলের অনেক নেতার

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০১৮ , ৫:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৮, ৫:০৯ অপরাহ্ণ

জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা মান্দা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৪ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নির্বাচনী আমেজ বইতে শুরু করেছে এ আসনে। নিজেকে নানাভাবে তুলে ধরার চেষ্টায় রত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তারা নানা উছিলায় যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। নিজেদের ছবিসংবলিত ব্যানার ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন সর্বত্র। এলাকা সয়লাব হয়ে গেছে বিলবোর্ডেও।

বড় দুদল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি। দুদলে অন্তত দুডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন। উভয় দলেই কোন্দল রয়েছে। তাই আগামীতে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। যে যার মতো উপরে লবিং করে যাচ্ছেন।

জেলা সার্ভার স্টেশন সূত্রে জানা যায়, ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪২ হাজার ২৭৩ ও মহিলা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৫ জন।

১৯৯১ সালে এ আসনে বর্তমান এমপি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদির কাছে পরাজিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পরপর তিনবার নির্বাচিত হন বিএনপির সামসুল আলম প্রামাণিক। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল লতিফ শেখ।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবার মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রীর দায়িত্ব পান।
জেলার সবচেয়ে অবহেলিত উপজেলা মান্দা। ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক এমপি হওয়ার পর দৃশ্যমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে মান্দা শহীদ কামরুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, মান্দা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ঠাকুর মান্দা শিব নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণ। আগামী নির্বাচনে বর্তমান মন্ত্রী ছাড়াও আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল বাকী, মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এস এম ব্রহানী সুলতান মামুদ গামা। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আইনবিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মির্জা মাহবুব বাচ্চু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আজীবন সদস্য ডা. আব্দুর রহমান মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষ্যে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বর্ষীয়ান নেতা বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, তিনি স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি ক্ষমতায় থেকে আজ পর্যন্ত কোনো দুর্নীতি করেননি এবং ভবিষ্যতেও করবেন না। তিনি এলাকায় সাধ্যমতো উন্নয়ন করেছেন এবং গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে তার ব্যাপক অবদান রয়েছে। এলাকার গরিব-দুঃখী মানুষকে তিনি যথেষ্ট সময় সুযোগ দিয়েছেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, তার দলের কতিপয় নেতা দুর্নীতি করেছেন। জনগণের কাছে তাদের দুর্নীতির দায় তারাই দেবেন। দল থেকে আবারো আমাকে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। আর মনোনয়ন পেলে শতভাগ আমি বিজয়ী হব ইনশাআল্লাহ্।

এস এম ব্রহানী সুলতান মামুদ গামা বলেন, সার্বক্ষণিক এলাকার মানুষের পাশে আছি। নির্বাচনী মাঠ গুছিয়ে নিয়েছি। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিককে আমি শ্রদ্ধা করি। তার শারীরিক অবস্থা অনেকটাই খারাপ। আসনটি ধরে রাখতে নতুন মুখের প্রয়োজন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি বিজয়ী হব। তিনি বলেন, গত বন্যায় এলাকার বন্যার্ত এবং বিভিন্ন সামাজিক কাজে সহযোগিতা করে আসছি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হলে তিনি ব্যাপক ভোটে জয়ী হবেন।

এডভোকেট আব্দুল বাকী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে পড়াকালীন তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বর্তমানে জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তার বাবা সাহাবুদ্দিন আহমেদ ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা এবং মান্দা উপজেলার কসবা ইউনিয়নের পরপর তিনবার চেয়ারম্যান। নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

অপরদিকে বিএনপির সাবেক এমপি ও বর্তমান উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল আলম প্রামাণিক দুর্ঘটনাজনিত অসুস্থতায় রাজনীতিতে অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। এ সুযোগে নতুন অনেক মুখ নিজেদের প্রার্থিতার জানান দিতে প্রচার-প্রচারণা করছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও খোঁজখবর নিচ্ছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক এমপি সামসুল আলম প্রামাণিক, নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি মাহাবুব আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ আক্কাস আলী মোল্লা, মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মকে, সহসভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার ও ইসাহাক আলী সেন্টু সম্ভাব্য প্রার্থী।

সাবেক সাংসদ সামসুল আলম প্রামাণিক বলেন, দুর্ঘটনার কারণে দেশ-বিদেশে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখন অনেকটা সুস্থ। তবে আমার অনুপস্থিতিতে আমার কমিটির সদস্যরা কাজ করছেন। সাংগঠনিক, সামাজিক কাজ সুষ্ঠুভাবেই চলছে। মাঠের জনগণ চান আমাকে। আমি মনোনয়ন পাব নিশ্চিত এবং বিজয়ী হব। জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু রাজশাহী মেডিকেল কলেজে পড়ার সময়ই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে আগামী নির্বাচনে দল তাকে মূল্যায়ন করে মনোনয়ন দেবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।

এদিকে বিভিন্ন শুভেচ্ছা বাণী দিয়ে ব্যানার ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন তরুণ নেতা নওগাঁ জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি ও উপজেলা সভাপতি আলতাফ হোসেন। এলাকায় জাতীয় পার্টিকে উজ্জীবিত করতে নিয়মিত সভা, সেমিনার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মহাজোট থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন এবং জয়ের মালা ছিনিয়ে আনবেন বলে দৃঢ়তা প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. ফজলুর রহমান ও জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিব নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় পোস্টার ও ব্যানার সাঁটিয়েছেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে তারাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা গেছে।