ইবির দুই শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আগের সংবাদ

বাসের কাগজ পরীক্ষায় এবার মাঠে মালিকপক্ষ

পরের সংবাদ

সড়ক পরিবহন আইন

কঠোর শাস্তির বিধান নেই : ফখরুল

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ১০, ২০১৮ , ২:৫০ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ১০, ২০১৮, ২:৫০ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের দাবি মানার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার মন্ত্রীসভায় সড়ক পরিবহন আইনের যে সংশোধনী অনুমোদন করেছে- তা ইতোমধ্যেই পরিবহন মালিক সমিতি ছাড়া সবাই প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

তিনি বলেন, সংশোধিত এই আইনে ছাত্র-ছাত্রীদের দাবিকৃত নিরাপদ সড়ক অর্জিত হবে না। কারণ এই আইনে সড়ক পরিবহন খাতে মানুষ হত্যা ও অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়ানোর স্পষ্ট দিক নির্দেশনা কিংবা কঠোর শাস্তির বিধান নেই। শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই জানেন যে শুধু চালকের অপরাধে দুর্ঘটনা ঘটে না। চালক নিয়োগে, গাড়ির ফিটনেস যথাযথ করা এবং চালকদের বেতন, ভাতা, অবসর শারীরিক সুস্থতা ইত্যাদি দেখার দায়িত্ব যে মালিকদের- তাদের বিরুদ্ধে আইনে কার্যকর পদক্ষেপ তথা বিআরটিএ এর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি দমনের কোনো বিধান রাখেনি। দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হবে কিনা এটা নির্ধারণের দায়িত্ব নিরপেক্ষ যোগ্য, সংশ্লিষ্ট কাউকে রাখা হয়নি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের মতামতেরও গুরুত্ব দেয়া হয়নি। আমরা এই আন্দোলন এবং দীর্ঘদিন ধরে যারা নিরাপদ সড়কের জন্য কাজ করছেন তাদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা করে প্রস্তাবিত আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধনীর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েকদিন এই আন্দোলনে যুক্ত থাকার জন্য, আন্দোলনকে গঠনমূলক সহযোগিতা করার জন্য, আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার সরকারি চক্রান্তের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার জন্য এবং আন্দোলনের প্রকৃত সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের জন্য যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি, আহতদের সুচিকিৎসা এবং মিথ্যা ও নিপীড়নমূলক সব মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংঠগন এমনকি দেশের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীগণ ও পুলিশ কর্মকর্তা পর্যন্ত এই শিশু-কিশোরদের ৯ দফা দাবি ও আন্দোললের কার্যক্রমের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। আমরাও বিএনপির পক্ষ থেকে এবং ২০ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে তাদের ন্যায্য ও জরুরি এসব দাবি-দাওয়ার প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন ঘোষণা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে জনগণের জানমাল রক্ষায় ক্রমাগত ব্যর্থ ও অযোগ্য সরকার প্রথম দিন থেকেই এই আন্দোলনে ষড়যন্ত্র ও উসকানি আবিষ্কারের অপচেষ্টা চালাতে শুরু করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে জনগণের সব ন্যায্য আন্দোলনেই এই সরকার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সরকারি দলের সিদ্ধান্তে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীরা পুলিশের ছত্রছায়ায় হেলমেট ও মুখোশ পরে অগ্নেয়াস্ত্র, লাঠি, রামদা ইত্যাদি নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর অমানবিক ও বর্বোরোচিত হামলা চালিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে ছাত্র-ছাত্রীদের মারপিট করেছে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আপনারা সমর্থন দিয়েছেন, এ থেকে বিএনপির গেইন কী এমন প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, বিএনপির গেইন তো হচ্ছে, বিএনপি একটা যৌক্তিক আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছে এবং এই আন্দোলনের প্রতি সারাদেশের মানুষের সমর্থন রয়েছে। আজকে যে পদ্ধতিতে সরকার এটাকে দমন করেছে এটা সার্বজনীনভাবে ধিকৃত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন করে আওয়ামী লীগ আরও গণবিচ্ছিন্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, চেয়াপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, যুবদল নেতা গিয়াস উদ্দিন মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।