অভিযানেও থামেনি দালালের উৎপাত

আগের সংবাদ

ঐতিহাসিক রোজ গার্ডেন কিনে নিচ্ছে সরকার

পরের সংবাদ

সড়কে শৃঙ্খলা তৈরির কোনো উপায় দেখছে না পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০১৮ , ১২:০৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৮, ১২:০৮ অপরাহ্ণ

এতকিছুর পরও সড়ক মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরছে না। ৯ দিনের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরও গত দুদিন ধরে রাস্তার রূপ সেই চিরচেনা। চালু হয়নি লেন পদ্ধতি, রাস্তায় নেই বিশেষ লেনও। ঢাকার রাস্তায় গতকাল বুধবার দুর্ভোগ এবং ভোগান্তির কারণ ছিল যানজট। অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে ট্রাফিক ও হাইওয়ে পুলিশ নানামুখী চেষ্টা করেও কুলকিনারা করতে পারছে না। জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যে পরিমাণ ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন রয়েছে তার জন্য পর্যাপ্ত সড়ক ব্যবস্থা নেই। নেই সড়ক প্রশস্ত করার সুযোগ। হিমশিম অবস্থার মধ্যে পুলিশের পর্যালোচনায় উন্নত দেশের ন্যায় ঢাকাসহ সারা দেশের সড়কে শৃঙ্খলা তৈরি করতে হলে পুলিশের পাশাপাশি, সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি (বিআরটিএ) মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সার্বিক চিত্রে রাজধানীসহ অন্য সব শহরে লেন পদ্ধতি পুলিশের কাছে এখন এক কাল্পনিক চিত্র।
পুলিশের হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম গতকাল বুধবার ভোরের কাগজকে বলেন, সড়কে অব্যস্থাপনা দীর্ঘদিনের পুরানো সমস্যা। এ জন্য রোড ইঞ্জিনিয়ারিং, সড়ক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থেকে শুরু করে অনেক কারণ রয়েছে। সড়কে সর্বোচ্চ কতো বছরের পুরনো গাড়ি থাকবে তা আইনে স্পষ্ট করে বলা নেই। আবার সড়কে যে পরিমাণ গাড়ি থাকার কথা তার চেয়ে অনেক বেশি গাড়ি রয়েছে।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনিভাবে বাড়ছে ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন। পুলিশের ডাম্পিং স্টেশনে এখন জায়গা নেই। গত দেড় বছরে মহাসড়কে সাড়ে ৪শ গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি নিয়মিত ধরা হচ্ছে। পুলিশের বিরুদ্ধে মাসোহারা অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব ঢালাও অভিযোগ। গত দেড় বছরে মহাসড়কে পুলিশ কোনো মাসোহারা নেয়নি। তিনি বলেন, হাইকোর্টের রায় মেনে মহাসড়কে ইজিবাইক, নসিমন, করিমন চলতে দেয়া হয় না। তবে অনেক সময় মানবিক কারণের অজুহাতে তারা রাস্তায় উঠে।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বলেছেন, রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পুলিশের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এবং বিআরটিএ জড়িত। গণপরিবহনের চালকদের জন্য যে ধরনের লাইসেন্স দরকার তা নেই। পুলিশ এ জন্য মামলা করছে। ভারী যান চালানোর লাইসেন্স পেতে আগের দুটি ধাপ পেরোতে হয়। যা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।
তিনি বলেন, ঢাকার রাস্তায় লেন পদ্ধতি ও বিশেষ লাইন বাস্তবসম্মত নয়। এটা এক ধরনের বিলাসিতা। সব ধরনের যান চলাচলের জায়গার প্রয়োজন। বিশেষ লাইন করতে হলে রাস্তার প্রশস্ততা অনেক বাড়াতে হবে। ঢাকার রাস্তায় ওই চিত্র এখন বাস্তব সম্মত নয়। ইতিপূর্বে ডিএমপি চেষ্টা করেও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় লেন পদ্ধতি বাস্তব রূপ দিতে পারেনি। ম্যানুয়ালি ট্রাফিক ব্যবস্থায়ও যানজট কমছে না। লাল সবুজ সিগন্যাল বাতি পদ্ধতিতে যানজট কমার চেয়ে বাড়ে। চলমান ট্রাফিক সপ্তাহে একাধিক পয়েন্টে ২০ জন করে রোভার স্কাউট দিয়ে চেষ্টা করেও এই পদ্ধতির সুফল মিলছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাইওয়ে পুলিশের জনবল ২৮৬১ জন (সিভিল স্টাফ ৩০ জনসহ)। একজন ডিআইজির নেতৃত্ব তারা কাজ করছেন। মূলত মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক কাজ করলেও অনেক স্থানে কতিপয় পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গণপরিবহন থেকে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি যারা তদবির করে হাইওয়েতে বদলি হতে চান তারা ‘ভাগ্য অন্বেষণে’ যান বলে খোদ পুলিশ বাহিনীতে চাউড় রয়েছে।
সূত্র মতে, অভিযোগ রয়েছে সড়ক মহাসড়কে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই), সার্জেন্ট ও পরিবহন মালিক শ্রমিক মিলে বিভিন্ন রুটে চলাচলরত গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণ করে। পুলিশ, মালিক ও শ্রমিক সমিতিকে মাসোহারা দিয়ে চলছে আন্তঃনগর ও শহরতলির গণপরিবহন। ফিসনেটবিহীন গাড়িতে এক নম্বরপ্লেট দিয়ে চলছে একাধিক বাস। অনেক বাসের রুট পারমিটও নেই। হালকা যানের ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীরা চালাচ্ছেন ভারী গাড়ি। জাল লাইসেন্স ও লাইসেন্সবিহীন চালকও রয়েছে। লঙ্কর ঝক্কর গাড়ি রঙ পাল্টে সড়কে হরদম চলাচল করছে। অ্যাপসভিক্তিক যান চালু হওয়ায় ঢাকার রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা আরো বেড়ে গেছে। একই কোম্পানির বাসের মধ্যে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা। সব মিলিয়ে সড়ক মহাসড়কে চলছে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।