অ্যাপলিটিক্যালের প্রভাবশালী ১০০ জন ব্যক্তির তালিকায় পলক

আগের সংবাদ

গাঙচিলে আইটেম কন্যা ঋতু

পরের সংবাদ

আ.লীগ চায় দখলে রাখতে বিএনপির চেষ্টা পুনরুদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৯, ২০১৮ , ১:৩৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৯, ২০১৮, ১:৩৯ অপরাহ্ণ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজবাড়ীর রাজনৈতিক অঙ্গন এখন মুখরিত। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানাভাবে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তৃণমূলের পাশাপাশি কেন্দ্রের দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন তারা। আওয়ামী লীগ চায় রাজবাড়ী-২ আসন তাদের দখলে রাখতে, আর বিএনপির চেষ্টা পুনরুদ্ধার করতে।
এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য বিরোধ নেই। তবে বেশির ভাগ নেতাকর্মীই বলছেন, উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। তাই নৌকাকে বিজয়ী করতে হবে। এ জন্য যে নেতাকেই প্রার্থী করা হোক কেন তারা তার পক্ষে কাজ করবেন।
এ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জিল্লুল হাকিম জানান, ১৯৬৩ সালে তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৭ সালে তিনি পাংশা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। একাত্তরে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং ৮নং সেক্টরের অধীনে সে সময়ের গোয়ালন্দ মহাকুমা কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে তিনি পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৩ সালে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং এখনো ওই পদে
বহাল রয়েছেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। শেখ হাসিনা তাকে চারবার এ আসনে মনোনয়ন দেন। এর মধ্যে তিনবার তিনি বিজয়ী হন। বিজয়ী হয়ে তিনি পাংশা, বালিয়াকান্দী ও কালুখালী উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় সব সড়ক ও রাস্তাঘাট পাকা করান। পাংশা ও বালিয়াকান্দী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করান। নির্বাচনী এলাকার কলেজ, মাদ্রাসা, উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই শতাধিক ভবন নির্মাণ করা হয় তার সময়ে। ২০টি বড় এবং অর্ধশতাধিক ছোট ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের পাশাপাশি দলকে সংগঠিত করার কাজ তিনি করে আসছেন। তিনি এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সঙ্গে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামোগত উন্নয়নের কারণে প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগ ও তার প্রতি জনগণের আস্থা এবং সমর্থন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে তিনি মনে করেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দল তাকেই মনোনয়ন দেবে এবং তিনি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে নেত্রীকে এ আসনটি উপহার দেবেন।
স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল জানান, রাজবাড়ী-২ আসনে তার ব্যাপক সমর্থক রয়েছে। তিনি নির্যাতিত, নিষ্পেষিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছেন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে চিকিৎসকদের এ সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। ইতোপূর্বে তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের মহাসচিব ছিলেন। চিকিৎসা পেশায় অধিক ক্ষমতাশালী হলেও তিনি কখনো কারো ক্ষতির কারণ হননি। তার বিরুদ্ধে নেই কারো কোনো অভিযোগ। সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে চালাচ্ছেন কর্মকান্ড। তার গ্রামের বাড়ি পাংশা পৌরসভার মাগুরাডাঙ্গীতে। তার বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডা. এ কে এম আমজাদ ওরফে সুনিল মিয়াও এ আসনের এমপি ছিলেন। এলাকার মানুষের অনেক ভালোবাসা তিনি এবং তার পরিবারের সদস্যরা পেয়েছেন। এখন তার দেয়ার পালা। তার বাবা ইতোমধ্যেই প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ একর জমি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য দান করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি নিয়মিত আসেন নিজ এলাকায়। পরিচালনা করেন মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানা জনমুখী কার্যক্রম। প্রধানমন্ত্রী চাইলে এবার তিনি এমপি প্রার্থী হবেন। আর তাকে প্রার্থী করা হলে তিনি বিজয়ী হবেন এবং আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দেবেন।
অপর প্রার্থী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সোহেল রানা টিপু জানান, নেতাকর্মীদের ভালোবাসা তার প্রতি রয়েছে। রাজবাড়ীর কালুখালীর সন্তান হিসেবে নেতাকর্মীরা তাকে বুকে তুলে নিয়েছেন। তিনিও তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি মনে করেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী তাকে এ আসনে মনোনয়ন দেবেন। তিনি মনোনয়ন পেলে প্রধানমন্ত্রীকে এ আসনটি উপহার দিতে পারবেন। তা ছাড়া যাকে তিনি মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবেন।
অপর প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অর্থ ও পরিকল্পনা কমিটির নির্বাহী সদস্য সাংবাদিক নুরে আলম সিদ্দিকী হক জানান, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এলাকার মানুষের সঙ্গেই থেকেছেন। তাদের বিপদে-আপদে পাশে থাকেন ও খোঁজখবর নেন, করেন সাধ্যমতো সহযোগিতা। আগামী সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এখানে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বঞ্চিত নেতাকর্মী ও যুব সমাজের চাহিদা অনুযায়ী যদি মনোনয়ন দেয়া হয়, তাহলে আমার বিজয় শতভাগ নিশ্চিত। তিনি ১৯৯০-এর দশক থেকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরে দায়িত্বে থেকে বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে কাজ করছেন।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কৃষি ও সমবায় উপকমিটির সদস্য মুহাম্মদ মেহেদী হাসান জানান, তিনি লন্ডনপ্রবাসী একজন আইনজীবী। সেখানে তিনি প্রায় ১৬ বছর ধরে অবস্থান করছেন। ২০০১ সালে দেশে পড়ালেখা করা অবস্থায় তিনি বঙ্গবন্ধু আইন ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০৩ সালে লন্ডনে বঙ্গবন্ধু ব্যারিস্টার কাউন্সিলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে ইউকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে রয়েছেন। ২০০৭ সালে লন্ডনে প্রায় ২৫ মিনিট তিনি শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে আলাপ করেন। ওই সময় বঙ্গবন্ধু কন্যা তাকে এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে বলেন। নেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি মাঝেমধ্যেই দেশে আসেন এবং বিভিন্ন সেবামূলক কাজ পরিচালনা করেন। সম্প্রতি তিনি এলাকায় গণসংযোগও করেছেন।
এ আসনে বিএনপিতে প্রকাশ্য জটিলতা রয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিরুল হক সাবু এবং জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদের মধ্যে রয়েছে বিরোধ। হারুন-অর রশিদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করার অভিযোগ রয়েছে। তার পরও নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছিরুল হক সাবু জানান, শত নির্যাতন উপেক্ষা করে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তিনি এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ইতোপূর্বে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনের সাধারণ মানুষ, ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে ভালোবাসেন। তিনি মনে করেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সভানেত্রী তাকেই মনোনয়ন দেবেন। আর তিনি মনোনয়ন পেলে একাট্টা হয়ে মাঠে নামবেন দলীয় নেতাকর্মীরা। তাদের সহযোগিতায় এ আসনে বিএনপি বিজয়ী হবে।
অপর প্রার্থী জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও কালুখালী উপজেলা বিএনপির আহŸায়ক শিল্পপতি লায়ন এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক খান জানান, তিনি ছেলেবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি রাজবাড়ীর কিং জুট মিলস লিমিডেটের এমডি, রাজবাড়ী জুট মিলস লিমিটেডের পরিচালক, বাংলাদেশ কর আইনজীবী সমিতি ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস এসোসিয়েশনের সাবেক পদকপ্রাপ্ত সভাপতিসহ অসংখ্য সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত। ২০১৩ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে জেলও খেটেছেন। নিজ এলাকায় করছেন নানা রকম জনসেবামূলক কাজ। ফলে তিনি দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে এবং তিনি বিজয়ী হবেন।
অপর প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন-অর রশিদ জানান, বিএনপি একটি বড় সংগঠন। নিজেদের মধ্যে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। তবে তারা আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি করেন না।
জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় যুব সংহতির সহসাধারণ সম্পাদক ও পাংশা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ্ মো. রকিবুল ইসলাম শামিম বলেন, তিনি এবার দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন। আশা করছেন দল মনোনয়ন দেবে এবং তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হবেন।
এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ও জাসদসহ ক্ষুদ্র রাজনৈতিক দলগুলো জোট মহাজোটের সঙ্গে দরকষাকষিতে লিপ্ত রয়েছে।
রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার ১০, বালিয়াকান্দী উপজেলার ৭ এবং কালুখালী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রাজবাড়ী-২ আসন। এ আসনে ভোটার রয়েছেন রাজবাড়ী-২ আসনে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯২ জন ভোটার রয়েছেন।