শরীরের যত্ন নিতে হেলথ এইড অ্যাপ

আগের সংবাদ

ট্যাবলেট বিক্রির শীর্ষে অ্যাপল

পরের সংবাদ

শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ, পুনরুদ্ধার চেষ্টায় বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৮, ২০১৮ , ১:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৮, ২০১৮, ১:০৪ অপরাহ্ণ

বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের বর্তমান এমপি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এ কে এম শাহজাহান কামাল আসনটি ধরে রাখতে পারবেন কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন। গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তিনি মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। এর আগে এ আসনটি বরাবরই বিএনপির দখলে ছিল। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এ আসন থেকে দুবার নির্বাচিত হন।
বিগত সময়ে আসনটিতে তেমন কোনো উন্নয়ন কর্মকান্ড বা বেকার সমস্যার সমাধান হয়নি বলে ভোটারদের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এ গুঞ্জনকে প্রত্যাখ্যান করে জানান, এক সময়ের সন্ত্রাসকবলিত লক্ষ্মীপুর এখন শান্তির নীড়। মন্ত্রী পেয়ে তারা সন্তুষ্ট। কিছু দিনের মধ্যে উন্নয়ন কর্মকান্ড দৃশ্যমান হবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এ আসনের মজু চৌধুরীর হাট এলাকায় নৌবন্দর বাস্তবায়নের জন্য গেজেট সম্পন্ন হয়েছে এবং নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ চলছে। লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা লঞ্চ সার্ভিস চালু হবে আগামী মাসে। এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সদর হাসপাতাল ২৫০ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাদের এমপি উপস্থিত থেকে এবং আর্থিক সহায়তা করে দলকে সুসংগঠিত করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
আসনটি দখলে রাখার জন্য সাংগঠনিকভাবে মরিয়া আ.লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিএনপিও তাদের দুর্গে ছাড় দিতে নারাজ। তবে লক্ষ্মীপুরে বিএনপি দুগ্রুপে বিভক্ত। তারা বিভক্ত হয়ে পাল্টাপাল্টি চালিয়ে যাচ্ছেন সাংগঠনিক কর্মসূচি। এ বিভক্তির কারণে বিএনপির চেয়ে আ.লীগের সাংগঠনিক অবস্থান তুলনামূলক অনেক ভালো। তাদের সব সহযোগী সংগঠনের নিয়মিতভাবে কমিটি গঠন করায় এক দশকে তাদের প্রত্যাশিত নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা একদম নড়বড়ে। বিএনপির যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ সব সহযোগী সংগঠনে ৭-৮ বছর ধরে কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। তবে তাদের এ বিভক্তি একাদশ নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকবে কিনা তা দেখার বিষয়। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডিও তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সারা দেশের ন্যায় লক্ষ্মীপুরেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। কেউবা দলীয় ফোরামে ব্যাপক সক্রিয়, কেউ আবার মাঠে ময়দানে ভোটারদের সঙ্গে পরিচিতির জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। এ ছাড়া ডিজিটাল ব্যানারে আকর্ষণীয় শ্লোগান, আইন মেনে চলার এবং মাদক থেকে বিরত থাকার আহবানসহ নানা বাণীসংবলিত ব্যানার-তোরণ শোভা পাচ্ছে যত্রতত্র। এসব প্রচারণায় কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি নিজের ছবিও লক্ষণীয়।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত লক্ষ্মীপুর-৩ আসন। বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোর পরিসংখ্যানে এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জয়ের সংখ্যা সর্বাধিক, আ.লীগের হাতেগোনা। প্রথম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আ.লীগ মনোনীত এ কে এম শাহজাহান কামাল, অস্টম ও নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, পঞ্চম ও সপ্তম নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এডভোকেট খায়রুল এনাম, ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নুরুল আমিন ধানের শীর্ষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন। অন্যদিকে ১৯৭৯ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা মাস্টার সফিক উল্ল্যাহ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন।
এ সংসদীয় আসনে মূলত আ.লীগ ও বিএনপির তৎপরতাই বেশি দৃশ্যমান। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির (এরশাদ) জেলা সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের নির্বাচিত সাবেক ভিপি এম আর মাসুদ সাংগঠনিকভাবে তৎপরতা চালাচ্ছেন। তিনি জাতীয় ছাত্রসমাজ থেকে শুরু করে অদ্যাবধি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়। আ.লীগ ও বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থীদের সঙ্গে জাতীয় পার্টি ও জেএসডির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, লক্ষ্মীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সাবেক জিএস এডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলালও নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা এ কে এম শাহজাহান কামাল এমপি এলাকায় সভা-সমাবেশসহ নানা সামাজিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ডে উপস্থিত থাকেন। লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র ও জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ মো. আবু তাহেরও নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন সুকৌশলে। এদিকে জেলা আ.লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু জেলায় দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন এবং কেন্দ্রেও যোগাযোগ রাখছেন বলে জানা গেছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানা আ.লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০০৮ সালে এ আসনে নির্বাচন করে সেজান গ্রæপের মালিক এম এ হাশেম আ.লীগের ভোটের সংখ্যা দ্বিগুণ করেন। বিএনপির শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঙ্গে প্রায় ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। এর আগে এ আসনে বিএনপির সঙ্গে আ.লীগের ভোটের ব্যবধান থাকত প্রায় অর্ধেক। বর্তমানে তিনি দলীয় মনোনয়নের জন্য গণসংযোগ ও কেন্দ্রে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু বলেন, ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের নেতাকর্মীরা যখন ঘরবাড়ি ছাড়া তখন আমি নেতাকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। জেল থেকে মুক্ত করতে কাজ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ২০১৫ সালে সভাপতির দায়িত্ব দিয়েছেন। এরপর থেকে জেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সভা-সমাবেশ, মতবিনিময়ের মাধ্যমে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর পৌর মেয়র ও জেলা আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. আবু তাহের বলেন, নেতাকর্মীদের সুখে-দুঃখে আমি পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। পৌর এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন ও মেয়র হিসেবে আমার কর্মকান্ডে এ আসনের জনগণ আমার ওপর সন্তুষ্ট ও আস্থাশীল। দল থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে বিপুল ভোটে আমি জয়লাভ করব।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগ থেকে অধ্যক্ষ এম এ সাত্তার, জেএসডির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও লক্ষ্মীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ বেলায়েত হোসেন বেলাল, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু মনোনয়ন চাইবেন। আগামী নির্বাচনকে ঘিরে এ দুই নেতার দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ এখন তুঙ্গে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের স্ব স্ব সমর্থকরা পক্ষে-বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলীয় কর্মসূচিও তারা পালন করছেন পৃথকভাবে।