বড়পুকুরিয়া খনির নথিপত্র জব্দ করেছে দুদক

আগের সংবাদ

জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম না হওয়ার নিশ্চয়তা আমাদের কাছে নেই-সিইসি

পরের সংবাদ

সংকটে বিএনপি, আধা ডজন প্রার্থী নিয়ে বিপাকে আ.লীগ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৭, ২০১৮ , ১:৪৫ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৭, ২০১৮, ১:৪৫ অপরাহ্ণ

সাতক্ষীরা-২ সদর আসনে বিএনপি প্রার্থী সংকটে ভুগলেও আওয়ামী লীগে সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন হাফ ডজনের অধিক। জাতীয় পার্টির প্রার্থী রয়েছেন ৪ জন। প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে না পারলেও বসে নেই জামায়াত। ভোটার ও কর্মীদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন সব প্রার্থী।
১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ও পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার জন। ২০১৪ সালে সাতক্ষীরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের মীর মোস্তাক আহমেদ রবি নৌকা প্রতীকে বিজয়ী হন। তিনি ৩২ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ছাইফুল করিম সাবু পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ভোট। ২০০৮ সালে এ আসনে জয়ী হয়েছিলেন জাতীয় পার্টির এম এ জব্বার। তিনি পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›দ্বী জামায়াতের মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল পেয়েছিলেন ১ লাখ ১৪ হাজার ভোট। আর ২০০১ সালে মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল ১ লাখ ২৪ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। সেবার আওয়ামী লীগের নজরুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ভোট।
সাতক্ষীরা পৌরসভা এখন পোস্টারের শহর। শুধু শহর নয়, জনগণকে শুভেচ্ছা জানাতে নানা রংয়ের পোস্টার শোভা পাচ্ছে গ্রামগঞ্জেও। ছোট ছোট সভা-সমাবেশে এসব প্রার্থী নিজেদের পরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সমর্থন আদায়ের কাজে ব্যস্ত। তবে স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও এ আসনটি আওয়ামী লীগের ঘরে কখনো আসেনি। গত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো বিএনপির অংশগ্রহণ ছাড়া অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর সাতক্ষীরা সদর আসনে সর্বপ্রথম আমি নৌকা প্রতীকে জয়লাভ করেছি। নির্বাচিত হয়ে বাইপাস সড়ক নির্মাণ, ভোমরা স্থলবন্দরে কোয়ারেন্টাম সেন্টার, জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অফিস, বিনেরপোতা কারিগরি প্রশিক্ষণ সেন্টারসহ বহুবিধ উন্নয়নে ভ‚মিকা রেখেছি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হব।
আরেক প্রার্থী সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সদর আসনে নৌকা প্রতীকে ২০০১ সালে নির্বাচন করেছি। তা ছাড়া দীর্ঘদিন আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন ও সাধারণ মানুষের সেবা করে আসছি এবং আমি সার্বক্ষণিকভাবে তাদের পাশে রয়েছি। সাধারণ মানুষের আশীর্বাদে আমি সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। তাদের দেয়া এ দায়িত্বের মাধ্যমে আমি স্বচ্ছতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা করে যাচ্ছি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ দেয়া হলে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হব বলে আশা করি।
আওয়ামী লীগের আরেক প্রার্থী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, যারা এলাকায় থাকেন না, যেসব নেতা তৃণমূল থেকে আসেননি, চাকরি দেয়ার নামে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন এসব নেতার আগামী নির্বাচনে দল থেকে মনোনয়ন পাওয়ার সুযোগ নেই হাইকমান্ডের এমন ম্যাসেজের ভিত্তিতে তৃণমূল পর্যায়ে নির্বাচনের কাজ করে চলেছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমি বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে মানুষের সেবা করতে সক্ষম হব।
মহাজোট থেকে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী জাতীয় পার্টিও। এ প্রসঙ্গে জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শেখ আজাহার হোসেন বলেন, সাতক্ষীরার ৪টি আসনেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা প্রস্তুত। মহাজোটের সঙ্গে থাকলেও সবকটি আসনেই প্রার্থী চাইবেন তারা। না দিলেও জোটের পূর্ণ সমর্থন দেয়ার প্রত্যয় জানালেন এই জাপা নেতা। তিনি বলেন, মহাজোটের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর আসনে তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এদিকে বসে নেই বিএনপি নেতারাও। কেন্দ্র ঘোষিত রাজনৈতিক কর্মসূচি সাতক্ষীরা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তেমন পালিত না হলেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বেশ তৎপর জেলা পর্যায়ের বিএনপি নেতারা। সদর আসনে মনোনয়ন পেতে ইচ্ছুক জেলা বিএনপির সভাপতি রহমতুল্লাহ পলাশ জানান, এ আসনের মানুষ প্রার্থী দেখেন না, তারা প্রতীক দেখেন। দলের দুঃসময়েও পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষ নিয়ে বিজয়ী হওয়ার কথা জানালেন বিএনপির এ নেতা।
এ ছাড়া প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন জেলা আ.লীগ নেতা শেখ সাহিদ উদ্দীন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ শওকাত হোসেন ও ভোরের পাতা সম্পাদক এবং ব্যবসায়ী নেতা ড. কাজী এরতেজা হাসান জজ। মহাজোটের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশু, আনোয়ার জাহিদ তপন ও শেখ মাতলুব হোসেন লিয়ন।
দেশের যে কয়েকটি জেলা জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত তার মধ্যে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরা অন্যতম। ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের তান্ডবে ক্ষত-বিক্ষত হয় এ জেলার জনপদ। সেই ক্ষত শুকাতে না শুকাতে পলাতক জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক জামায়াত নেতারা। যদিও এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুল খালেক মন্ডল যুদ্ধাপরাধ মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। সে ক্ষেত্রে সাতক্ষীরা-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।