মধ্যপাড়া খনিতে ৪ লাখ টন পাথরের হিসাব নেই

আগের সংবাদ

টেসলা গাড়িতে গেম

পরের সংবাদ

শক্ত অবস্থানে আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধার চেষ্টায় বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০১৮ , ১:৫৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৫, ২০১৮, ১:৫৭ অপরাহ্ণ

বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ যেমন জয়পুরহাট-২ আসনটি ধরে রাখার চেষ্টা করছে তেমনি আসনটি উদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে বিএনপি। এ আসন ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একটানা দখলে ছিল বিএনপির। এসব নির্বাচনের ফলাফলকে ধরে বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হিসাব করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়পুরহাট-২ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে মাত্র ৩ হাজার ভোটে হারিয়ে এমপি হন চারদলীয় জোট থেকে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহট-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান, রাস্তাঘাট সংস্কার ও মেরামতসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জেলায় আওয়ামী লীগের ভোট বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন এ আসনের এমপি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। উল্লেখ্য, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ শুরু করেছেন পুরোদমে। যার কারণে জয়পুরহাট-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় নতুন মুখের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবার উভয় দলের জন্য বর্তমানে বড় সমস্যা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল।
জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা নিয়ে ক্ষুব্ধ একাংশ দলীয় অফিসে অগ্নিসংযোগ করে। জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। দলে চরম দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে জেলা কমিটির বৃহৎ অংশের অনাস্থা প্রস্তাব বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছে। জয়পুরহাটের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটাতে পারলে আওয়ামী লীগ থেকে আসনটি সহজেই আশানুরূপ ফলাফল করতে পারবে বলে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের ধারণা। আসনটি ধরে রাখার জন্য বর্তমান সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন নিরলসভাবে দিন-রাত গণসংযোগসহ মিছিল-মিটিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
জয়পুরহাট জেলার কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে জয়পুরহাট-২ আসন গঠিত। এই আসনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও উত্তরজনপদের কৃতী সন্তান এবং জয়পুরহাট জেলার উন্নয়নের রূপকার আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বর্তমানে জাতীয় সংসদ সদস্য। তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এই আসনে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভ‚ত উন্নয়ন সাধন করেছেন। সাধারণ জনসাধারণের কাছে তিনি উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলেছেন। তিনি এই আসনের জনসংযোগের তুঙ্গে রয়েছেন। ইতোমধ্যেই তিনি তার আসনের তিনটি উপজেলায় বিশাল বিশাল জনসভা করে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এই আসনে তার মনোয়ন পাওয়া প্রায় নিশ্চিত। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মহাজোট ও ২০ দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও গণসংযোগে নেমে পড়েছেন। পৃথকভাবে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তাদের সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠকসহ এলাকায় পোস্টার, ব্যানার-ফেস্টুন, ফেসবুক, এসএমএস ও টুইটারের মাধ্যমে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাপার একাধিক প্রার্থী থাকলেও এলডিপির প্রার্থীও রয়েছেন। তবে মনোনয়ন নিয়ে জামায়াতের মাঠ পর্যায়ে মাথাব্যথা না থাকলেও ভেতরে ভেতরে তারা ঘরোয়া পরিবেশে নানা কর্মসূচি পালন, সদস্য সংগ্রহ ও ওই সব সদস্যের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন। তবে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য প্রকাশ্যে প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ১৯৯১ সাল থেকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির দখলে থাকলেও ওয়ান ইলেভেনের পর বিএনপি থেকে ৩ বার নির্বাচিত এড. আবু ইউসুফ মোহাম্মাদ খলিলুর রহমান এলডিপিতে যোগদান করেন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে মহাজোটের প্রার্থী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল-মাহমুদ স্বপনকে পরাজিত করে চারদলীয় জোটের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়লাভ করতে না পারার বেদনাকে গুরুত্ব দিয়ে এ আসনটি ধরে রাখতে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। মনোনয়নের ব্যাপারে তিনি প্রত্যাশা করে বলেন, দল তার কাজের মূল্যায়ন করবে। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম সোলায়মান আলী এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এবং ওই আসনে বিলবোর্ড, পোস্টার লাগিয়েছেন। এ ছাড়া ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. তাইফুল ইসলাম তালুকদার, সাবেকন এমপি আ. রাজ্জাক আকন্দের ছেলে ফরহাদ আহম্মেদ আকন্দ পম্পি, কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার বর্তমান মেয়র খন্দকার হালিমূল আলম জন এবং কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র তৌফিকুল ইসলাম তালুকদার বেলাল দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সহসভাপতি, কালাই থানা বিএনপির আহবায়ক ও পুনট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম হোসেন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান মো. রওনকুল ইসলাম টিপু চৌধুরী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও আক্কেলপুর উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আলী হাসান মুক্তা, সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন সিরাজুল ইসলাম বিদ্যুৎ, আক্কেলপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ আরিফ রানা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের নেতা নূর মোহাম্মদ রুবেল বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাওয়ার কথা বলেছেন।
জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি আবু সাইদ নুরুল্লাহ মাসুম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কাশেম রিপন, জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি মুনছুর রহমান, জেলা জাতীয় পার্টির সহসভাপতি ও কালাই উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. এনামূল কবির প্রার্থী হিসেবে দলের কাছে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানান। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে আওয়ামী লীগের ভোটের হার অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে এমন আশা নেতাকর্মীদের। তবে দলের হাইকমান্ড যাকে মনোনয়ন দেবেন, দলের স্বার্থে তার পক্ষে কাজ করবেন এমনটি জানিয়েছেন উভয় দলের নেতাকর্মীরা।
এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৯৯ হাজার ৭৯৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ১০৫ জন।