পীরগাছায় তিস্তার ভাঙনে বিলীন ৪ গ্রাম

আগের সংবাদ

সুইজারল্যান্ডে বিমান বিধ্বস্তে ১৭ জনের প্রাণহানি

পরের সংবাদ

মাতৃস্নেহের বিরল দৃষ্টান্ত

ভেড়াগুলো রেহানার সন্তানের মতো

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০১৮ , ৫:০৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৫, ২০১৮, ৫:০৪ অপরাহ্ণ

নিজের সন্তানের মতোই ভেড়াকে ভালোবাসার নজির স্থাপন করেছেন সদর উপজেলার রোড সুগারমিল কলোনি এলাকার রেহেনা। ওই এলাকার উত্তর হরিহরপুর গ্রামে গেলে চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। ফাঁকা মাঠে কিছু ভেড়াকে নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পরম আনন্দে খেলা করছেন রেহানা বেগম (৫৫)। তার স্বামী মৃত হবিবর রহমান। অনেক দিন আগেই মারা যান রেহানা বেগমের স্বামী। জীবিত থাকা অবস্থায় স্বামী কলা বিক্রি করে সংসার চালাতেন। মাঝে মাঝে চালাতেন রিকশা। এভাবেই কোনো রকমে কেটে যেত তাদের দিন। স্বামীর হঠাৎ মৃত্যুতে সংসারে নেমে আসে কালো মেঘ। তিন সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন রেহানা। ওই সময় থাকার জায়গা তো দূরের কথা তাদের খাওয়াই জুটত না। তখন এলাকাবাসীর সহযোগিতায় উত্তর হরিহরপুর গ্রামে একটি জায়গায় তাদের থাকতে দেয়া হয়। এর পর স্থানীয়দের সাহায্যে কষ্টের মধ্যে কোনো রকমে কাটে তার সংসার। একপর্যায়ে বড় ছেলে বাহাদুরকে বিয়ে দেন। তিন সন্তানদের মধ্যে বর্তমানে একজন কাজ করেন হোটেলে, অন্যজন রিকশা চালান। আরেক ছেলে বেকার।
তবে অভাবের সংসারে একসময় রেহানাকে ছেড়ে তিন সন্তানই চলে যান। নিঃস্ব জীবনে তার সঙ্গী হয় বড় ছেলের কিনে দেয়া ২টি ভেড়া। সেই ভেড়া বেড়ে এখন ৩০টি ভেড়া রেহানার। বাসার সামনে মাঠ আছে। সকালবেলা ঘর থেকে বেরিয়ে যায় ভেড়াগুলো। সারা দিন মাঠ আর আশপাশের সড়ক ঘুরে ভেড়াগুলোর বেলা কেটে যায়। সন্ধ্যা হলেই বাড়ি ফিরে আসে ওরা। এর পর আর কী খেতে দেব? আমি নিজেই তো পেট ভরে একবেলা ভাত খেতে পারি না। স্থানীয়রা জানান, অনেক দিন ধরেই রেহানা বেগমকে এভাবে দেখছেন তারা। সারা দিন এ বাসা ও বাসায় কাজ করেন তিনি। কিন্তু কাজ করতে করতে হঠাৎ করে উধাও হয়ে যান তিনি। পরে খবর নিয়ে জানা যায় ভেড়া নিয়ে ব্যস্ত আছেন। বেশি সময় অন্যের বাসায় কাজ করতে পারেন না। কাছে না থাকলে ভেড়ার বাচ্চাগুলোকে যদি কুকুরে খেয়ে ফেলে অথবা অন্য কোনো বিপদ হয়? এসব কারণে ভেড়াগুলোকে তিনি চোখের আড়াল করতে চান না। তিনি মহৎ মনের মানুষ। প্রাণীদের সঙ্গে এমন ভালোবাসা দেখে সবাই তার মুগ্ধ। রেহানা বেগম জানান, ভেড়া পালন করতে কষ্ট কম। তাদের খুব বেশি অসুখ হয় না। বছরে একটি স্ত্রী ভেড়া দুবার এক থেকে দুটি বাচ্চা প্রসব করে থাকে। মানুষই মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে। কিন্তু প্রাণীরা করে না। এই ভেড়াগুলো আমার কাছে সন্তানের মতো। এগুলো বিক্রির প্রশ্নই ওঠে না। তবে কষ্ট হয় যখন ভেড়াগুলো সঠিক পরিচর্যার অভাবে মারা যায়। আক্ষেপ করে বলেন, ৫৫ বছর হলেও এখনো আমি বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাইনি। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী আমার মতো অনেক গরিব মানুষকে সাহায্য করছেন। তাহলে আমি কি গরিব না?
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেন জানান, ভেড়া পালনের সুবিধা অনেক। তাদের জন্য বাড়তি কোনো খাবার লাগে না। একটু খেয়াল রাখলেই চলে। তেমন কোনো শ্রমও দিতে হয় না। রেহানা বেগম যদি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের কাছে কোনো সহযোগিতা চান তাহলে তা করার চেষ্টা করা হবে।
এ ব্যাপারে জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, রেহানা বেগম বয়স্ক ভাতার জন্য উপযুক্ত নন। বয়স্ক ভাতা দেয়ার একটি নিয়ম আছে। মেয়েদের জন্য বয়স কমপক্ষে ৬০-এর মধ্যে হতে হবে। তাই বয়স্ক ভাতাটি তিনি পাচ্ছেন না। তবে বিধবা ভাতার জন্য তাকে একটি দরখাস্ত করতে হবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।