নেতিবাচক প্রবণতায় চলছে লেনদেন

আগের সংবাদ

ফু-ওয়াং ফুডের রেটিং সম্পন্ন

পরের সংবাদ

নিত্যপণ্য বাজারে আন্দোলনের উত্তাপ

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ৫, ২০১৮ , ১:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ৫, ২০১৮, ১:২৯ অপরাহ্ণ

একদিকে চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, অন্যদিকে চলছে অলিখিত পরিবহন ধর্মঘট। এরই প্রভাবে বাজারে পণ্য সরবরাহে টান পড়েছে। ফলে বেড়ে গেছে ডিম, পেঁয়াজসহ নিত্যপণ্যের দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতি কেজি সবজির দাম বেড়েছে ৫ থেকে ১৫ টাকা। আগের মতোই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, মুরগি, প্রভৃতি নিত্যপণ্য। এ ছাড়া কোরবানির ঈদ ঘিরে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মসলা।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রভাবে সবজির দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। টানা মৌসুমি বৃষ্টিও সবজির দাম বৃদ্ধির পেছনে ভ‚মিকা রেখেছে বলে জানান বিক্রেতারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে দাম কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজার, মালিবাগ রেলগেট, খিলগাঁও, কমলাপুর এজিবি কলোনি কাঁচাবাজার এবং শান্তিনগর বাজারে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহের মতোই বয়লার মুরগির ডিম ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম ১২০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায় ডজন। সাদা বয়লার মুরগি ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আগের সপ্তাহেও মুরগির দাম এমন ছিল বলে জানান তারা। তাদের বক্তব্য, চাহিদার তুলনায় ডিমের সরবরাহ কম থাকায় ডিমের দাম বেড়ে গেছে।
কমলাপুরের এজিবি কলোনি কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা জয়নাল জানান, পাইকারি বাজার থেকে সবজি আনতে তেমন কোনো ঝামেলা হয় না। কারণ আমরা ভ্যানে করে মাল নিয়ে আসি। কিন্তু আন্দোলনের কারণে ঠিকমতো আড়তে মাল আসতে পারে না। এজন্য বাজারে অনেক সবজিই পাওয়া যায় না। মাল কম আসে তাই দাম বেশি।
কাওরানবাজারের ব্যবসায়ী সোলায়মান এ প্রসঙ্গে বলেন, বাজারে এখন সব সবজিই পাওয়া যাচ্ছে, তবে সরবরাহ কিছুটা কম। যে কারণে দাম কিছুটা বেশি। কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বেশ কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। সব কিছু মিলিয়ে সবজির দাম বেড়ে গেছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। এক সপ্তাহ আগে ঢাকায় প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৪২ থেকে ৪৫ টাকা। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গতকাল বিক্রি হয় ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে। গত সপ্তাহে ছিল ১৮ থেকে ৩২ টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, এক সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা চীনা রসুন কেজিতে গড়ে ১০ টাকা বেড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুনের দামে তেমন পরিবর্তন হয়নি। প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়।
এদিকে কোরবানির ঈদের বাকি এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ। অথচ প্রায় সপ্তাহখানেক আগেই দাম বাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন মসলার। ১ হাজার ৫৮০ টাকা কেজি এলাচ গতকাল শনিবার খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৮৫০-১ হাজার ৯০০ টাকা। দারুচিনি বিক্রি হয়েছে ২৮০ টাকা। যা আগে বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকায়। জিরা (টার্কি) ৪১০ ও ইন্ডিয়ান জিরা ৩১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। যা আগে বিক্রি হয়েছে ৩৫০ ও ২৮০ টাকা।
মালিবাগ রেলগেট কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা আহমেদ রুবেল বলেন, বিভিন্ন অজুহাতেই ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়াচ্ছে। এবারে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অজুহাতে সবজির দাম বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ৭৫ টাকা ডজন ডিম হঠাৎ করই দাম বেড়ে হয়েছে ১১০ টাকা। কোরবানির ঈদ এখনো অনেক দিন বাকি। অথচ এখন থেকেই মসলার দাম বাড়তে শুরু করেছে। রুবেল বলেন, আমাদের মতো বেসরকারি কর্মজীবীদের জন্য স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই নিত্যপণ্যের দাম যাতে সহনীয় থাকে এ জন্য নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেন তিনি।