দলীয় কোন্দল আর জোটের নিষ্ক্রিয়তায় বিপাকে বুলবুল

আগের সংবাদ

আওয়ামী লীগে হেভিওয়েট প্রার্থীর ছড়াছড়ি, বিএনপিতে সবাই নতুন

পরের সংবাদ

শিল্পকলায় মঞ্চস্থ হলো উদীচীর ‘হাফ আখড়াই’

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২২, ২০১৮ , ৩:২১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৮, ৩:২১ অপরাহ্ণ

শিল্পকলা একাডেমির পরীক্ষণ থিয়েটার হলে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মঞ্চস্থ হলো উদীচীর নাটক ‘হাফ আখড়াই’। উদীচীর ৫৭তম প্রযোজনা এটি। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. রতন সিদ্দিকীর রচনা ও আজাদ আবুল কালামের পরিচালনায় নাটকটিতে অভিনয় করেছেন উদীচীর কেন্দ্রীয় নাটক বিভাগের শিল্পীরা।
উনিশ শতকের গোড়ার দিকে বাংলা টপ্পা গানের একটি দলকে ঘিরে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, নারীর প্রতি সে সময়ের সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি, ধনী-গরিব বৈষম্য প্রভৃতি বিষয়ই এ নাটকটির মূল প্রতিপাদ্য। নাট্যকার রতন সিদ্দিকী জানান, ১৮০৪ সনে বাংলা টপ্পা গানের জনক রামনিধি গুপ্ত কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন আখড়াই। নিজস্ব পদ্ধতিতে সঙ্গীত শিক্ষা প্রচলনের মাধ্যমে দ্রুতই কলকাতার অভিজাত শ্রেণির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভারে শিষ্য মোহনচাঁদের কাছে শিক্ষাগুরুর দায়িত্ব হস্তান্তরের পরই ধীরে ধীরে পাল্টাতে থাকে তার প্রতিষ্ঠিত আখড়াইয়ের চেহারা। গুরু-শিষ্যের দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে মোহনচাঁদ বসু গঠন করেন আলাদা দল, যার নাম হয় ‘হাফ আখড়াই’। এ দন্দ্ব অত্যন্ত সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘হাফ আখড়াই’ নাটকে। পরিচালক আজাদ আবুল কালামের মতে, মোহনচাঁদের হাতে দলের দায়িত্ব যাওয়ার পর বাংলা
টপ্পা গানের আরেক বাঁক পরিবর্তন দেখা দেয়। এ পরিবর্তন শৈল্পিক না হয়ে ছিল গণমানুষমুখী।
উল্লেখ্য, ১৮৩২ সালে বড় বাজারের রামসেবক মল্লিকের বাড়িতে সর্বসাধারণের সামনে প্রথম হাফ আখড়াই গানের আসর বসেছিল। আখড়াই গানে ছিল রাগের নানা রূপ আলঙ্করিক প্রয়োগ। হাফ আখড়াই গানের শিল্পীরা সেখান থেকে সরে এসে সরল সুরের গান বাঁধতেন। এই গানে অন্তরা থাকত না। হাফ আখড়াই গানের পদ রচিত হতো চিতেন, পরচিতেন, ফুকা, ডবল ফুকা, মেলতা, মহড়া, খাদ, দ্বিতীয় ফুকা, দ্বিতীয় ডবল ফুকা, দ্বিতীয় মেলতা ইত্যাদি এই ধারাক্রমে। উনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে হাফ আখড়াই গান জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে এবং এক সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়। হাফ আখড়াইয়ের আসরে এক ধরনের প্রেমের গান পরিবেশন করা হতো। এর নাম ছিল খেউড়। এই গান ছিল চটুল বাক্যে এবং অঙ্গভঙ্গিতে পরিবেশন করা হতো। কোনো কোনো কবিয়ালের গানে থাকত আদি রসাত্মক শব্দ এবং অঙ্গভঙ্গি।

  • আরও পড়ুন
  • লেখকের অন্যান্য লেখা