শিল্পকলায় মঞ্চস্থ হলো উদীচীর ‘হাফ আখড়াই’

আগের সংবাদ

শেখ হাসিনা বাংলাদেশসহ বিশ্বের সম্পদ : আ.স.ম. ফিরোজ

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগে হেভিওয়েট প্রার্থীর ছড়াছড়ি, বিএনপিতে সবাই নতুন

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২২, ২০১৮ , ৩:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২২, ২০১৮, ৩:৪৭ অপরাহ্ণ

জেলার পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের নেত্রকোনা-৫ আসন। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের ৩ হেভিওয়েট প্রার্থীর বাইরেও রয়েছেন অন্য মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলেই সরব রয়েছেন নতুন মুখ। উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত পল্লীর সড়কগুলোতে শোভা পাচ্ছে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থীদের ছবিসংবলিত শুভেচ্ছা পোস্টার ও বিভিন্ন রকমের ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান সমন্বয়কারী পুলিশের সাবেক ডিআইজি মুহ. আবদুল হাননান খান। আরো আছেন ইঞ্জিনিয়ার মো. মিছবাহুজ্জামান চন্দন, লন্ডন মহানগর যুবলীগের সহসভাপতি ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় বঙ্গবন্ধু বিভাগীয় ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের সহসভাপতি তুহিন খান।
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে ও এলাকায় প্রভাব বিস্তারে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
পূর্বধলা উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী তিন মনোনয়ন প্রত্যাশীর অনুসারী। এর বাইরেও বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থীদেরও অনুসারী রয়েছেন। তারাও গণসংযোগ চালাচ্ছেন। এলাকায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাঝেমধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটছে।
অন্যদিকে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও একাধিক গ্রুপে বিভক্ত। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন সাবেক এমপি মরহুম ডা. মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী কেন্দ্রীয় বিএনপি কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রাবেয়া আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বাবুল আলম তালুকদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান তালুকদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি এ এস এম শহীদুল্লাহ ইমরান ও ড. আবদুল জলিল।
জাতীয় পার্টিরও রয়েছে এখানে প্রার্থী। তারাও চালাচ্ছেন গণসংযোগ।
গত ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় সাবেক এমপি ডা. মোহাম্মদ আলীকে পরাজিত করে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল দ্বিতীয়বারের মতো এমপি নির্বাচিত হন। বেলাল পরপর দুবার এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট ও বিদ্যুতের উন্নয়ন হয়েছে বেশি।
ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক এমপি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে সভা-সমাবেশ ও কর্মিসভা করে যাচ্ছেন। তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত আসছেন এলাকায়। উপজেলার ১১টি ইউনিয়নেই বেলালের অসংখ্য কর্মী-সমর্থক রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় ডিজিটাল পূর্বধলা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। তিনি এলাকায় প্রত্যন্ত পল্লীতে রাস্তা ও বক্স-কালভার্ট নির্মাণ, বিদ্যুতায়ন, সোলার প্যানেল, ঢেউটিন বিতরণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন এবং অকাল বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিনিয়ত মোকাবেলা করে যাচ্ছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জেনারেটর, কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ, এলাকার অসহায়দের পাশে থেকে সব সময় সহযোগিতা করছেন। বেলাল বলেন, দলের হয়ে নেতাকর্মীসহ এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে আছি। তাই আশা এবারো আমি মনোনয়ন পাব।
অপর সম্ভাব্য প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আহমদ হোসেন প্রথম নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী হন। তখন দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীককে। এরপরও তিনি হাল ছাড়েননি। এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করে চলেছেন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে হিরনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় আহমদ হোসেন নিজের প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দেন। আহমদ হোসেন বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের হয়ে কাজ করছি। এমপি নির্বাচিত হলে অবহেলিত এলাকার উন্নয়নে কাজ করব। আমি জনমানুষের এমপি হতে চাই। আমি আশাবাদী দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
আওয়ামী লীগের অপর হেভিওয়েট প্রার্থী মুহ. আবদুল হাননান খান। তিনি ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ জেলার গুরুদয়াল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় তৎকালীন হামুদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কিশোরগঞ্জ মহকুমা ছাত্রসংগ্রাম কমিটির সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা, পলাতক আসামি মেজর হুদাকে ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা, জেলহত্যা মামলা এবং বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার তদন্ত তদারকি অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ সালে ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত থাকাবস্থায় চাকরি থেকে অবসর নেন। তিনি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হয়ে নির্বাচনী মাঠে কাজ করছেন। মুহ. আবদুল হাননান বলেন, সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ছোটবেলা থেকে আওয়ামী রাজনীতি করছি। ছাত্র এবং কর্মজীবনে কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করিনি। ভবিষ্যতেও করব না। আশা করি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রাবেয়া আলী থাকেন ঢাকায়। নির্বাচন করার ইচ্ছায় মাঝেমধ্যে এলাকায় আসেন। নিজের অনুসারীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলে আবার চলে যান ঢাকায়। বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার দীর্ঘদিন ধরে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সাবেক ছাত্রনেতা আবু তাহেরের অনুসারীরা এলাকায় জনসংযোগ করছেন। এলাকায় তিনি ‘বিএনপি তাহের’ বলে পরিচিত। আবু তাহের বলেন, দুর্দিনে দলের হয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি হাইকমান্ড বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাকে মনোনয়ন দেবে।
এ আসনে বিএনপির অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী ব্যবসায়ী, এফবিসিসিআইয়ের সদস্য, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এ কে এম আবদুল্লাহ ওরফে শরীফ আহমেদ। তিনি এলাকায় মাঝেমধ্যে গণসংযোগে আসেন।
এ আসনে জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হিসেবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন উপজেলা জাপার সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার আজাদ। তিনি এলাকায় দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেছেন। তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। ওয়াহিদুজ্জামান তালুকদার বলেন, জোট সরকারের আমলে নির্যাতিত হয়েছি। জাতীয় ছাত্র সমাজ থেকে রাজনীতি শুরু করে এখনো দলের হয়ে কাজ করছি। এলাকার মানুষের পাশে রয়েছি।