দেশের বাজারে শাওমির এস সিরিজের নতুন স্মার্টফোন

আগের সংবাদ

কর্ম জীবনের শুরু!

পরের সংবাদ

সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ : লড়াই শেয়ানে শেয়ানে

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ২১, ২০১৮ , ৫:০৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ২১, ২০১৮, ৫:০৯ অপরাহ্ণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাঙ্গামাটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ বেড়ে চলেছে। কে হবেন এবারে এমপি এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রার্থী জয়ের মালা পড়বে না আবারো আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল থেকে এমপি হবেন তা নিয়ে চলছে মাতামতি। এবারে জাতীয় সংসদের ২৯৯ রাঙ্গামাটি আসনে সম্ভাব্য বিজয়ীর তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও সচেতন নাগরিক কমিটির প্রার্থীরা। লড়াইটা হবে শেয়ানে শেয়ানে।
দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় তিন পার্বত্য জেলায় জাতীয় রাজনীতির পাশাপাশি রয়েছে শক্তিশালী আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের প্রভাব। এ কারণে রাঙ্গামাটি জেলার নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ভর করছে স্থানীয় রাজনীতির ওপর। তৃণমূল পর্যায়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর পেশী শক্তি ও অস্ত্রের ঝনঝনানিতে সাধারণ ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে না বলে অভিযোগ জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের।
তারপরও জাতীয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং আঞ্চলিক সংগঠন জেএসএস ও ইউপিডিএফ কারো চেয়ে কেউ কম নয়। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে যদি স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দেয়া হয় তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি প্রার্থী দিলেও কাজ করবে নাগরিক কমিটির প্রার্থীর পক্ষে। তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মোড় পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখে অন্য আঞ্চলিক দল
ইউপিডিএফ ও জেএসএস এমএন লারমা। এ দুটি গ্রæপের রাঙ্গামাটি জেলায় প্রার্থী না দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। সে ক্ষেত্রে দল দুটি কার পক্ষে কাজ করবে তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না।
অপরদিকে পাহাড়ে আরো একটি বড় সমস্যা হচ্ছে পাহাড়ি-বাঙালি বিভেদ। এ ক্ষেত্রে পার্বত্য বাঙালি সংগঠন সমঅধিকার আন্দোলন প্রার্থী দিলে ভোট কমবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির, বাড়বে জেএসএসের।
জাতীয় দুই বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে আওয়ামী লীগে কোন্দল না থাকলেও দলের নেতাকর্মীদের মাঝে না পাওয়ার বেদনা অনেক বেশি দেখা যায়। আওয়ামী লীগে সাবেক মন্ত্রী দীপংকর তালুকদার ছাড়া অন্য নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দলের ছোট কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজের আখের গোছানোর।
এদিকে জেএসএসে কোন্দল নেই। তারপরও দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে এখনো মুখ খুলছে না দলটি। কাকে করা হবে প্রার্থী তা নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা। দলের বর্তমান এমপি ঊষাতন তালুকদার আগামীতে টিকেট পাবেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন জেএসএসের অনেক বড় বড় নেতা। জেএসএস এই সিটটি নিজেদের আয়ত্তে নিতে নতুন খেলা খেলতে পারে। রাঙ্গামাটির বড় মাপের একজন নেতা গৌতম দেওয়ান। তিনি রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সর্ব প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি গৌতম দেওয়ানকে প্রার্থী করলে জেএসএস একজন ড্যামি প্রার্থী দিয়ে নাগরিক কমিটির প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে। তাছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামের কোনো আঞ্চলিক দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত না হওয়ায় তারাও গৌতম দেওয়ানকে সমর্থন দিতে পারেন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তিনি বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটির সভাপতি। তিনি প্রার্থী হলে জাতীয় দলগুলোর বিজয় আরো কঠিন হয়ে পড়বে।
পাহাড়ে জাতীয় রাজনৈতিক দল বিএনপি বরাবরই ভাড়াটিয়া দলে পরিণত হয়। আর বিএনপি বরাবরই দুই ভাগে বিভক্ত। এই বিভক্তির মাধ্যমে দলীয় কোন্দল দিন দিন আরো ঘনীভ‚ত হচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচনে বিএনপির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে কাজ করছেন ২ জন। তারা হলেন সাবেক যুগ্ম জেলা জজ এডভোকেট দীপেন দেওয়ান ও কর্নেল মনীষ দেওয়ান। বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিএনপি আঞ্চলিক দলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা না পেলেও ব্যক্তি ইমেজে জেএসএস ও ইউপিডিএফের কিছু ভোট নিজের দখলে নেবেন দীপেন দেওয়ান। সে ক্ষেত্রে দলের মনোনয়ন পেলে তিনিও হতে পারেন রাঙ্গামাটির এমপি। এছাড়া বিএনপির প্রার্থী হতে সিনিয়র সদস্য মনীষ দেওয়ান, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এডভোকেট মামুনর রশীদ মামুন। যদি কেন্দ্রীয় বিএনপি তরুণদের প্রাধান্য দেয় তাহলে মামুনুর রশীদ মামুনই পেতে পারেন মনোনয়ন। সে ক্ষেত্রে বেশ কষ্ট করতে হবে তাকে। উপজেলা পর্যায়ে বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, উপজেলায় কোনো কোন্দল নেই। কেন্দ্রীয় বিএনপি যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবেন তারা।
এবারের নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। দীর্ঘ দিন দল ক্ষমতায় থাকলেও রাঙ্গামাটি আসনটি গতবার হাত ছাড়া হয়ে যাওয়ায় দলীয় নেতাকর্মীরা অনেকটা কোণঠাসা হয়ে আছে। তারপরও ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে দীপংকর তালুকদার এখনো রাজনৈতিক মাঠ সরগরম করে রেখেছেন। এমপি পদ হারালেও আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনোনীত করায় কিছুটা প্রাণ ফিরে এসেছে রাঙ্গামাটির নেতাকর্মীদের। তারই সূত্র ধরে দীপংকর তালুকদার পাহাড়ের আনাচে কানাচে চষে বেড়াচ্ছেন। নিজে এমপি না হলেও দল ক্ষমতায় থাকায় জনগণের অভাব অভিযোগগুলো শুনে তা বিভিন্নভাবে পূরণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় পাহাড়ের পাহাড়ি বাঙালি সাধারণ জনগণ নিজেদের উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দীপংকর তালুকদারকে অতিথি করে নিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে গতবারের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য দায়ী করা হচ্ছে অবৈধ অস্ত্রকে। তাই দীপংকর তালুকদারসহ দলীয় নেতাকর্মীরা পার্বত্য অঞ্চল থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ হলে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে এই সিট নেয়া অনেক কষ্টকর হবে। তাদের মতে অবৈধ অস্ত্রের রাজনীতি বন্ধ হলে এবং ভোটারদের ভয়ভীতি না দেখালে যে কোনো দলের চাইতে অন্তত ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবে আওয়ামী লীগ। সব সমিকরণ মাথায় রেখে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন আশা করছেন রাঙ্গামাটির জনগণ। তারা পার্বত্য এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে একজন যোগ্য নেতাকে নির্বাচন করবেন এমন আশা তাদের।