বিদেশে বাংলাদেশের পোশাক সামগ্রির মূল্যবৃদ্ধির আহ্বান তোফায়েলের

আগের সংবাদ

চাল নিয়ে ‘চালবাজি’ বন্ধ হোক

পরের সংবাদ

অনিশ্চয়তায় ২৬ হাজার হজযাত্রী সরকারের উদ্যোগ জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৭, ২০১৮ , ৭:৪৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৭, ২০১৮, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ

প্রতিবারই হজের আগে উড়োজাহাজ সংকট, হজ এজেন্সির অনিয়মসহ নানাবিধ কারণে হজযাত্রায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সংবাদ মাধ্যমে। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত ও উদ্বেগের। হজ কার্যক্রম পরিচালনা করা সরকারের প্রতি বছরের নিয়মিত কাজ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এ সংকট সমাধানে আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না?

হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণা, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে প্রতি বছরই হজযাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তির মুখে। এবারো সেই বিপত্তি থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। চলতি বছর ১৪৪টি হজ এজেন্সির অনিয়মের কারণে সাড়ে ২৬ হাজার হজযাত্রীর পবিত্র হজ পালন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে- এমন খবর একটি দৈনিকে গুরুত্ব দিয়ে ছাপা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ২৬ হাজার যাত্রীর মধ্যে সাড়ে ১৩ হাজার জনকে বদলি কোটায় হজে পাঠানোর চেষ্টা করছে ৮৮টি এজেন্সি। তবে সৌদি সরকারের কড়াকড়ি আরোপের কারণে এবার বদলি কোটা বাড়াতে পারছে না ধর্ম মন্ত্রণালয়। গত বছরও বদলি কোটায় হজে গিয়ে ফিরে আসেননি ১৮৩ হজযাত্রী। এ জন্য ৪৩টি হজ এজেন্সিকে সৌদি সরকার কালো তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ করেছিল। গত সোমবার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ৫৬টি হজ এজেন্সিকে ডেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, চিহ্নিত এসব এজেন্সি হজযাত্রী রেজিস্ট্রেশনের সময় ভুয়া নাম এন্ট্রি করে রেখেছিল। এখন তারা এন্ট্রি করা নামের হজযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে কিংবা মারা গেছে জানিয়ে বা নিকটাত্মীয় দেখিয়ে অন্য হজযাত্রীদের পাঠানোর চেষ্টা করছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ বলছে, হজযাত্রীদের টিকেট কাটার জন্য সংশ্নিষ্ট এজেন্সিগুলোকে বেশ কয়েকবার জরুরি নোটিস দেয়া হয়। কিন্তু তারা এখনো টিকেট নিশ্চিত বা পে-অর্ডার করেনি। অথচ এ বছর সৌদি সরকার বিমানের আর কোনো স্লট বাড়াচ্ছে না। ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

প্রতিবারই হজের আগে উড়োজাহাজ সংকট, হজ এজেন্সির অনিয়মসহ নানাবিধ কারণে হজযাত্রায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় সংবাদ মাধ্যমে। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত ও উদ্বেগের। হজ কার্যক্রম পরিচালনা করা সরকারের প্রতি বছরের নিয়মিত কাজ। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এ সংকট সমাধানে আগে থেকে কেন ব্যবস্থা নেয়া হলো না? বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর লক্ষাধিক মুসলমান হজ পালন করতে যান। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এ বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হয়ে আসছে। সাধারণভাবে আমাদের দেশের হজযাত্রীরা বয়স্ক। হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণার শিকার হলে তাদের জন্য বিড়ম্বনাটা আরো বেশি। গত ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে হজ ফ্লাইট। এ বছর পবিত্র হজে যাচ্ছেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন ধর্মপ্রাণ মুসলমান। কাজেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের নির্লিপ্ত থাকার সুযোগ নেই। বস্তুত হজযাত্রা নিয়ে দেশে প্রতি বছরই কোনো না কোনো বিপত্তি ঘটায়। আগামীতে হজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সরকারকে আগেভাগেই সেই প্রস্তুতি নিতে হবে। হজযাত্রা নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করলে চলবে না। আমরা মনে করি, হজযাত্রীদের যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত দুর্ভোগ এড়ানোর জন্য সরকার সজাগ থাকবে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে হজ এজেন্সিগুলোর প্রতি নজরদারি বাড়াতে হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে হজযাত্রীদের যাত্রা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি এই সংকট সমাধানে ধর্ম মন্ত্রণালয়সহ সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি মনে করছি।