মাতামুহুরীতে তলিয়ে যাওয়া ৫ ছাত্রের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার

আগের সংবাদ

কার্লাইল নাটক মধ্যপথে সমাপ্ত!

পরের সংবাদ

তিন সিটিতে নির্বাচনী প্রচারণা

প্রার্থীরা যেন সমান সুযোগ পান

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১৪, ২০১৮ , ১০:০৭ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১৪, ২০১৮, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

এই তিন সিটির নির্বাচন কেমন হয় তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ রাজনীতিরও অনেক কিছু। নির্বাচনটি সুষ্ঠু নির্বিঘ্ন গ্রহণযোগ্য হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে যা এ মুহূর্তে সবার কাম্য। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব হলো প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্ন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের প্রচার। পাশাপাশি উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা বলেছেন, নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারে বক্তব্যে আমরা আশ্বস্ত হতে চাই। স্থানীয় সরকারের নির্বাচন হলেও বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রাজনৈতিক গুরুত্ব অস্বীকার করা যায় না। স্থানীয় সরকারের এ সব নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তা যাচাই হয়ে যায়। নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন এর আগে কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে। আমরা আশা করব বিগত নির্বাচনগুলোর মতো রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও ইসি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন আস্থার পরিবেশ তৈরির পথে আরো এক ধাপ অগ্রসর হবে।

তিনটি সিটি করপোরেশনেই গত মঙ্গলবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৩০ জুলাই। তিন সিটি নির্বাচনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং তিন সিটির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নির্বাচনের আগে তিন সিটিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, নির্বাচনী এলাকায় সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারী রোধ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে টাকার খেলা, বহিরাগতদের আগমন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার ইত্যাদি বিষয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও তাগিদ দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকটিতে যে সব বিষয় আলোচিত হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটিই নির্বাচন তিনটিকে সুষ্ঠু করার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই তিন সিটির নির্বাচন কেমন হয় তার ওপর নির্ভর করছে ভবিষ্যৎ রাজনীতিরও অনেক কিছু। নির্বাচনটি সুষ্ঠু নির্বিঘ্ন গ্রহণযোগ্য হলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে যা এ মুহ‚র্তে সবার কাম্য। নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দায়িত্ব হলো প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন, প্রতিপক্ষের কোনো বাধা বিপত্তি এলে তাৎক্ষণিকভাবে তদারকি করতে হবে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কমিশন ইতোমধ্যে সে ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন। তাদের জন্য এটা একটা পরীক্ষা এবং সুযোগ নিজেদের যোগ্যতা দক্ষতা গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের। সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের যেমন, তেমনি অংশগ্রহণকারী প্রার্থী, ভোটার এবং সমর্থনদানকারী রাজনৈতিক দলগুলোরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।