বড় প্রযুক্তি হতে যাচ্ছে অগমেন্টেড রিয়েলিটি

আগের সংবাদ

রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলা

পরের সংবাদ

রোনালদোর চলে যাওয়া ও রিয়ালের ভাবনা

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০১৮ , ১:১৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮, ১:১৩ অপরাহ্ণ

ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে সফলতম ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদে ভাঙনের সুরটা বেজে উঠেছিল অনেক আগে থেকেই। উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশেষ আসরের গ্রুপপর্বের ম্যাচে টটেনহ্যামের কাছে হেরে যায় রিয়াল মাদ্রিদ। ওই হারের পরই ক্লাব ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালাদো। এরপর ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার নেইমারের রিয়ালে যোগ দেয়ার খবরে আরো জোরালো হয় রোনালদোর ক্লাব ছাড়ার বিষয়টি। এভাবে স্প্যানিশ ক্লাবটিতে চলতে থাকে নানান নাটকীয়তা। কখনো রোনালদোর রিয়াল ছাড়ার খবর, আবার কখনো শোনা যায় রিয়াল ছাড়ছেন গ্যারেথ বেল, এর মধ্যে যোগ হয় নেইমার ও এমবাপ্পের রিয়াল মাদ্রিদে নাম লেখানোর প্রসঙ্গটিও। তবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নয়, স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদে ভাঙনের শুরুটা হয় গত মাসের শুরুতে হঠাৎ করেই কোচ জিনেদিন জিদানের রিয়ালের কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার মাধ্যমে। এর এক মাস পর রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়লেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। রোনালদোর ক্লাব ছাড়ার পর কি ভাবছেন রিয়াল মাদ্রিদ কর্তারা সেটি নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে সর্বত্র।
টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জেতার পর সবাই ধারণা করেছিল আরো বেশ কয়েক বছর রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে দেখা যাবে জিনেদিন জিদানকে। কিন্তু সবার ভাবনাকে মিথ্যা প্রমাণিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বশেষ মৌসুমের শিরোপা জেতার এক সপ্তাহের মধ্যেই রিয়াল মাদ্রিদের কোচের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন তিনি। জিদানের উত্তরসূরি হিসেবে ইতোমধ্যে হুলেন লোপেতেগুইকে নিয়োগ দিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু সমস্যাটা সেখানেই শেষ হয়ে যায়নি। জিদানের রিয়াল ছাড়ার পরই ধারণা করা হয়েছিল বেশি দিন রিয়াল মাদ্রিদে থাকবেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। অবশেষে সে ধারণাটাই সত্যি হলো। মৌসুম শেষে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে এসেছিলেন তিনি। বিশ্বকাপ শেষে আর সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে ফেরেননি পর্তুগিজ সুপারস্টার। গতকালই ইতালিয়ান ক্লাব জুভেন্টাসের সঙ্গে চুুক্তি পাকাপোক্ত করেছেন রোনালদো। ইতোমধ্যে রোনালদোর এজেন্ট ও জুভেন্টাসের পক্ষ থেকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোতে রোনালদোর জুভেন্টাসে আসার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে সব মিলিয়ে ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল করেেেছন রোনালদো। স্প্যানিশ ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। ২০০৯ সালে রিয়ালে যোগ দেয়ার পর ক্লাবটিকে জিতিয়েছেন ৪টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ২টি লা লিগা, ২টি কোপা ডেল রে, ২টি স্প্যানিশ সুপার কাপ, ৩টি ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, ৩টি ক্লাব বিশ্বকাপ। এ ছাড়া রিয়ালে থাকাকালীন সময়েই চারবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন রোনালদো।
রোনালদোর চলে যাওয়াটা তাই ভাবনায় ফেলেছে রিয়াল মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষকে। ইউরোপের কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, রোনালদোর বিকল্প হিসেবে ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে দলে নিচ্ছেন রিয়াল মাদ্রিদ। তবে এমবাপ্পের যে বয়স তাতে রিয়ালের মতো একটি ক্লাবের আক্রমণভাগের নেতৃত্ব সামলানোটা তার জন্য অনেক কঠিন হবে। যে কারণে এমবাপ্পের পাশাপাশি ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নেইমারকেও দলে নেয়ার চেষ্টা করছে রিয়াল মাদ্রিদ এমনটিই জানিয়েছে ইউরোপের গণমাধ্যমগুলো। উল্লেখ্য নেইমার ও এমবাপ্পে দুজনই এখন ফরাসি ক্লাব পিএসজির আক্রমণভাগ সামলাচ্ছেন। আক্রমণভাগের এই দুই তারকাকে পিএসজি একসঙ্গে রিয়ালের কাছে বিক্রি করতে সম্মত হয় কিনা সেটাও এখন দেখার বিষয়।