বাগেরহাটের রামপালে ট্রাক-মাইক্রোবাসের সংর্ঘষে নিহত ১

আগের সংবাদ

খালেদার রিভিউ আবেদন মুলতবি

পরের সংবাদ

জামায়াতের আচরণে ক্ষুব্ধ বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০১৮ , ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোটসঙ্গী জামায়াতের সাম্প্রতিক আচরণে ক্ষুব্ধ, বিস্মিত বিএনপি। ফস্কা গেরোয় পরিণত হতে চলেছে দল দুটির দীর্ঘদিনের গাঁটছড়া। নির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েন, ঐক্যফ্রন্ট গঠনে দ্বিমত, বিএনপির ভারতমুখী অবস্থানসহ বেশ কিছু ইস্যুতে যতœ করে গড়ে তোলা বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কের ইমারত এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে নিজ দলের প্রার্থিতা টিকিয়ে রাখাতে জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় জামায়াতের প্রতি বিএনপির নেতারদের ক্ষোভ এখন ছাইচাপা আগুনের মতো জ্বলছে।
বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপিকে চাপে রেখে নিজেদের হিসাব-নিকাশ মেলাতে চাইছে জামায়াত। যার সূত্র ধরেই সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দেয় জামায়াত। অনেক দেন-দরবারের পর রাজশাহী ও বরিশালে প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিলেও সিলেটে কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না জামায়াতকে। এ নিয়ে যথেষ্ট অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি। জোটসঙ্গী জামায়াতকে বুঝিয়ে সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে রাজি করাতেই গত ৪ জুলাই বুধবার দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোট নেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন বিএনপির নেতারা। কিন্তু জামায়াত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। জামায়াতকে বোঝাতে দলের সিনিয়র নেতাদের অপারগতা বুঝতে পেরে সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে লন্ডন থেকে টেলিফোনে জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অনুরোধ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। কিন্তু তাতেও চিড়ে ভিজেনি। সিদ্ধান্তে অটল থাকে জামায়াত।
অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থী নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে টানাপড়েনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কিন্তু ওই রাতেই জামায়াতের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বলা হয়, সিলেটে জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন। এতে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই। জামায়াতের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতারা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কৌশলে দলকে চাপে রাখতে চাইছে জামায়াত।
তারা মনে করছেন, ক্ষমতাসীনরা কোনো লাভজনক টোপ দিয়ে জামায়াতকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের দলে ভিড়াতে কূটকৌশল করছে। সেই ফাঁদে পা দিয়েই জামায়াত তাদের সিদ্ধান্তে অটল থাকছে। যার ফলে ভোটের মাঠে বড় প্রতিপক্ষ সরকারদলীয় প্রার্থীকে মোকাবেলা করার চেয়ে নিজ দল ও জোটকে মোকাবেলা করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বিএনপির। তবে জামায়াতের ৩ সিটি নির্বাচনে প্রচারণার জন্য তিনটি সমন্বয় কমিটির কোথাও রাখা হয়নি জামায়াতে ইসলামীকে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকার তার অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে জঙ্গিবাদ আর জামায়াতে ইসলামীকে পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তারাই আবার জামায়াতকে নিজেদের দলে টানতে কূটকৌশল করছে। তবে এ কৌশল সফল হবে না।
তবে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতারা ভোরের কাগজকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতকে কোনো এক পক্ষ দল থেকে সরাতে চাইছে, সেটা স্পষ্ট। তবে জামায়াত যদি সেই ফাঁদে পা দেয়, তার খেসারত তাদেরই দিতে হবে। এর আগেও ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ছিল, কিন্তু তারা কিছুই পায়নি। বরং বিএনপির সঙ্গে জোট করে তারা ২টা মন্ত্রিত্ব পেয়েছে। অথচ তারা এককভাবে কোনোদিনও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্নও দেখে না।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বিএনপির নীরবতায় থাকা জামায়াতের অসন্তুষ্টির কারণ হতে পারে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নেতারা বলেন, যুদ্ধারপরাধীদের বিচারে বিএনপির করণীয় বা দুঃখ প্রকাশের জায়গা যেটুকু ছিল তাতে কমতি ছিল না। বরং এ বিচারে জামায়াতের অনেক মধ্যম সারির নেতাই খুশি হয়ে সন্তুষ্টিও প্রকাশ করেছে আমাদের সামনেই। তা ছাড়া আমরা যতটুকু জানি, এ বিষয়ে জামায়াতের অনেক নেতাই সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন।
সিলেটে প্রার্থিতা বিষেয়ে তারেক রহমানের পর জোটের শরিক দলের কিছু নেতা অনুরোধ করলেও তা উপেক্ষা করে জামায়াত। এ বিষয়ে জামায়াতের প্রতিনিধি আব্দুল হালিমের সাফ জবাব, জোটের চেয়ে তাদের কাছে সংগঠন অনেক বেশি দামি। তাই সাংগঠনিক অবস্থান ধরে রাখতে তাদের ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই। তারা ভোটে থাকবেন। উল্টো ২০ দলের নেতাদের তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন, ১২টির মধ্যে একটি সিটিতে জামায়াত কি মেয়রপ্রার্থী পেতে পারে না? সিলেটে তাদের প্রার্থী অনেক ভালো। এমনকি জামায়াতের নেতারা জোটের ওই নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেন, জোটে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নির্বাচনের আসন বণ্টনের বিষয়টা স্পষ্ট হওয়াটা জরুরি।
সূত্র জানায়, জামায়াত নেতাদের এমন পরামর্শে বিভ্রান্ত হচ্ছেন ২০ দলীয় জোটের অনেক শরিক নেতা। এ নিয়ে জোটের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। যার জের ধরেই জোটের কয়েকজন নেতা জানান, সামনে নির্বাচন, এর আগেই বিএনপির সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে একটা সমঝোতা চান তারা। আর তা না হলে নির্বাচনের আগেই জোটের কয়েকটি দল বের হয়ে যেতে পারে। কারণ, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত যে আটটি দল রয়েছে এবার যে কোনো উপায়ে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান। তা না হলে এসব দল নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানোর ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
অন্যদিকে খালেদা জিয়ার অনেক দিনের স্বপ্ন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের বেলায়ও বাগড়া দিচ্ছে জামায়াতই। তাদের আশঙ্কা ঐক্য জোটের বাঘা বাঘা নেতাদের কাছে নিজেদের গুরুত্ব হারাবেন তারা। নির্বাচনে আসন বণ্টনের ক্ষেত্রেও বিএনপির পক্ষ থেকে ঐক্যজোটের নেতাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে, এমন ভাবনাও রয়েছে জামায়াতের নেতাদের। এমনকি ভারতবিরোধিতার বদলে বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে অনেকটাই ভারতমুখী। বিএনপির এ অবস্থানও পছন্দ করছে না জামায়াত।