ডিআইজি মিজান ও তার স্ত্রীর সম্পদ বিবরণী চেয়েছে দুদক

আগের সংবাদ

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত নিহত

পরের সংবাদ

ফুটবল রাজত্ব ফিরে পাওয়া হলো না ইংল্যান্ডের

ইতিহাস গড়ে ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০১৮ , ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮, ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ

৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান হলো না ইংল্যান্ডের। সেই ১৯৬৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা এবার দাপটে শুরু করলেও গতকাল বুধবার সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে হেরে গেছে তারা। অন্যদিকে নতুন ইতিহাস গড়লো মড্রিচ-রাকিটিচরা। এ জয়ের ফলে ১৯৯৮ সালে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী ক্রোয়েশিয়া প্রথমবারের মতো ফাইনালের টিকেট অর্জন করল। ২০ বছর আগে ফ্রান্স বিশ্বকাপে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরে সেই বার তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়েটরা। ১৫ জুলাই লুজনিয়াকির ফাইনালে ফ্রান্সকে হারাতে পারলে কোচ জাতকো ড্যালিচের শিষ্যরা শিরোপা জয়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দশক আগের হতাশার বদলা নিতে পারবে।

প্রথম সেমিফাইনালে মঙ্গলবার রাতে বেলজিয়ামকে হারিয়ে রাশিয়া বিশ^কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে ১৯৯৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে কোচ দিদিয়ের দেশ্যামের শিষ্যদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে কারা তা নির্ধারণে গতকাল লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলতে নামে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়া। ইংল্যান্ডের জন্য এটি ছিল তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ। এর আগে ১৯৬৬ ও ১৯৯০ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে থ্রি লায়ন্সরা। যেখানে ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে শেষ চারের বাধা পার হয়ে ফাইনালে খেলেছে তারা। সেবার শিরোপাও জিতেছে ইংলিশরা। তবে ১৯৯০ সালের বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকেই ফিরে আসতে হয়েছিল তাদের। তাই দীর্ঘ ৫২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে স্বপ্নের ফাইনালের টিকেট পাওয়ার লক্ষ্যে এদিন ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল কোচ গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা। অন্যদিকে রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে কেবল একবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছে ক্রোয়েশিয়া। ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ওই বিশ্বকাপে অবশ্য ফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারেনি তারা। সেবার শেষ চারের লড়াইয়ে স্বাগতিকদের কাছে হেরেছিলেন ডেভর সুকাররা। ২০ বছর আগে পূর্বসূরীরা যা করতে পারেননি সেটি করে দেখানোর লক্ষ্যেই এদিন শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিলেন জাতকো ড্যালিচের শিষ্যরা।

দীর্ঘদিন ধরে লালন করে আসা স্বপ্ন পূরণের পথে এদিন ইংল্যান্ড কোচ গ্যারেথ সাউথগেট তার দলের লাইন-আপ সাজান ৩-৫-২ ফরম্যাশনে। যেখানে আক্রমণভাগে অধিনায়ক হ্যারি কেনের সঙ্গী ছিলেন রহিম স্টার্লিং। অন্যদিকে ৪-২-৩-১ লাইন-আপ নিয়ে খেলতে নেমিছিল ক্রোয়েশিয়া। লুজনিয়াকি স্টেডিয়ামে এদিন ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংলিশরা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে বল নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সের দিকে এগোনোর সময় ইংলিশ ফরোয়ার্ড ডেলে আলিকে অবৈধভাবে ফাউল করে ফেলে দেন লুকা মড্রিচ। ফ্রি-কিকের বাঁশি বাজান রেফারি। আর তাতেই সর্বনাশ ঘটে। ফ্রি-কিক নিতে আসেন ডিফেন্ডার কেইরান ট্রিপার। দুর্দান্ত এক শটে বল ক্রোয়েশিয়ার জালে পাঠান তিনি। শুরুতেই এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।

পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে থাকে ক্রোয়েশিয়া। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল হ্যারি কেনদের হাতেই। ২২ মিনিটে ইভান স্ট্রিনিচের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুন করার সুযোগ পায় ইংলিশরা। এ সময় ইভান স্ট্রিনিচের ভুল পাসে ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সের ভেতরে বল পান ইংলিশ ফরোয়ার্ড রহিম স্টার্লিং। তিনি বল বাড়ান গোলপোস্টের কাছাকাছি থাকা হ্যারি কেনের দিকে। তবে ইংলিশ অধিনায়ক তখন অফ সাইডে থাকায় এ যাত্রায় রক্ষা পায় মড্রিচরা।ম্যাচের ৩০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে ফাঁকা জায়গায় বল পেয়ে গোলপোস্ট লক্ষ্য করে শট

নেন হ্যারি কেন। কিন্তু তার দুর্বল শট সহজেই আটকে দেন ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক সুবাসিচ। এর ৫ মিনিট পর হ্যারি কেন বল দেন ডেলে আলিকে ও ডেলে আলি বল বাড়ান ক্রোয়েশিয়ার গোলপোস্টের কাছাকাছি থাকা জেসে লিঙ্গার্ডের দিকে। কিন্তু লিঙ্গার্ডের শট গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে ব্যবধান দ্বিগুন করতে ব্যর্থ হয় ইংলিশরা। এর কিছুক্ষণ পর ম্যাচে প্রথমবারের মতো গোলের সহজ সুযোগ পায় জাতকো ড্যালিচের শিষ্যরা। এ সময় ডানপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে ইংল্যান্ডের ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন আন্তে রেভিচ। কিন্তু তাকে আটকে দেন জন স্টোনস।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া ক্রোয়েশিয়ার খেলায় ছন্দ আসে দ্বিতীয়ার্ধে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্যে দিয়ে এগোতে থাকে ম্যাচ। ৬০ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে রাকিটিচের আচমকা নেয়া শট চলে যায় গোলপোস্টের ওপর দিয়ে। এর ৮ মিনিট পর ডানদিক থেকে ডিফেন্ডার সিমে ভ্রাসালকোর বাড়ানো ক্রসে দারুণভাবে পা ছুঁইয়ে বল ইংল্যান্ডের জালে পাঠিয়ে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ওইঙ্গার ইভান পেরিসিচ। ৩ মিনিট পর পেরিসিচের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে এগিয়ে যেত মড্রিচরা। এরপর ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে দুদলই আর কোনো গোলের দেখা না পেলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। অবশেষে ম্যাচের ১০৯ মিনিটে পেরিসিচের বাড়ানো বল থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে স্বপ্নের ফাইনালে নিয়ে যান স্ট্রাইকার মারিও মানজুকিচ।