পাংশায় অস্ত্র-গুলিসহ দুই ‘চরমপন্থী’ আটক

আগের সংবাদ

কোটা আন্দোলনকারী নয়, ভিসির বাড়ি ভাঙচুরকারীদের ধরা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পরের সংবাদ

আবারো পুলিশ খুন, ঘাতকদের বিচারাধীন করা জরুরি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০১৮ , ৭:২৯ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮, ৭:২৯ অপরাহ্ণ

এভাবে পুলিশ সদস্য খুন হতে থাকলে ঘাতকদের উদ্দেশ্যই পূরণ হবে। আমরা মনে করি, অতীতের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলোর ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্বারোপ না করা, ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারাই তাদের সাহস বাড়িয়েছে, তাদের বেপরোয়া করেছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্যোদঘাটন ও ঘাতকদের বিচারাধীন করতে হবে।

অপরাধী চক্র দিনে দিনে কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে তার আবার প্রমাণ মিলল পুলিশের এক সদস্যকে হত্যার ঘটনায়। পুলিশ পরিদর্শক মামুন ইমরান খানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দি তার মরদেহ গত মঙ্গলবার গাজীপুরের কালীগঞ্জের একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেও যখন পুলিশকে খুন করার মতো ঘটনা ঘটছে, তখন বিষয়টি অত্যন্ত ভীতিপ্রদ। পুলিশ যদি নিজেরাই নিজেদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে জননিরাপত্তা বিধান হবে কী করে।

জানা গেছে, বন্ধু রহমত উল্লাহর সঙ্গে বনানীর একটি বাসায় আড্ডায় গিয়েছিলেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) পরিদর্শক মামুন ইমরান খান। সেখানে যাওয়ার পর বুঝতে পারেন চক্রের ফাঁদে পড়েছেন। চক্রটির লক্ষ্য ছিল রহমত উল্লাহকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ‘ব্ল্যাকমেল’ করা। কিন্তু মামুন সেখানে থাকায় তাদের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটে। চক্রের লোকজন তাদের দুই বন্ধুকেই বেদম মারধর করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ কর্মকর্তা মামুন মারা যান। মামুন হত্যা মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনার এমন বর্ণনাই দিয়েছেন। তারা বলছেন, হত্যার পর লাশ গুমের কাজে চক্রটির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন মামুনের বন্ধু রহমত উল্লাহ। রহমতের গাড়িতে করেই বস্তায় ভরে মামুনের লাশ গাজীপুরের কালীগঞ্জের উলুখোলায় একটি বাঁশঝাড়ে ফেলা হয়। এরপর সাত লিটার পেট্রল ঢেলে বস্তার ওপর আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। গত মঙ্গলবার গাজীপুরের কালীগঞ্জ থানার পুলিশ মামুনের পোড়া লাশ উদ্ধার করে। নিহতের স্বজনরা বলছেন, ঢাকায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন মামুন। গত রবিবার গাজীপুরে একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে যান। সেখান থেকে ঢাকায় ফিরেই অপহরণের শিকার হন তিনি। পুলিশ কর্মকর্তা মামুন ইমরানের বাড়ি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার রাজরামপুর গ্রামে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত। মামুন মালিবাগে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত ছিলেন। তিন মাস আগে এসবিতে যোগ দেন তিনি। এ ঘটনায় রহমতসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে বনানী থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। এর আগে দেখেছি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবল ভাঙতে পুলিশের ওপর হামলা করা হয়েছে। বিভিন্ন চেকপোস্টে একের পর এক পুলিশের ওপর হামলা হয়েছে, পুলিশ সদস্যরা আত্মরক্ষা করতে পারেনি, নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় পুলিশের পেশাদারিত্ব নিয়ে সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তখন। মামুন হত্যাকাণ্ডে বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে, যা খুবই স্বাভাবিক। এভাবে পুলিশ সদস্য খুন হতে থাকলে ঘাতকদের উদ্দেশ্যই পূরণ হবে। আমরা মনে করি, অতীতের ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলোর ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্বারোপ না করা, ঘাতকদের শনাক্ত করতে না পারাই তাদের সাহস বাড়িয়েছে, তাদের বেপরোয়া করেছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্যোদঘাটন ও ঘাতকদের বিচারাধীন করতে হবে।