রুচি বাড়াতে লটকন বেশ উপকারী

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

পরের সংবাদ

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১২, ২০১৮ , ৩:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১২, ২০১৮, ৩:৫১ অপরাহ্ণ

জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-১ আসন। এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীরা জনসংযোগ চালানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে লবিংও করছেন মনোনয়নের প্রত্যাশায়। বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এডভোকেট সামছুল আলম দুদু ছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেনÑ জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বর্তমানে সিনিয়র সহসভাপতি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় কারাবরণকারী নেতা এডভোকেট নৃপেন্দ্রনাথ ম-ল পিপি, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও
রেডক্রিসেন্টের ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট মোমিন আহমেদ চৌধুরী জিপি, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ খাজা শামছুল আলম, জয়পুরহাট সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও দোগাছী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, পাঁচবিবি পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও পাঁচবিবি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন এবং সাবেক প্যানেল মেয়র ও শ্রমিক নেতা নন্দলাল পার্শীও। মনোনয়ন প্রত্যাশী সবাই বলেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন তারা তা মেনে নেবেন এবং তার পক্ষেই কাজ করবেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন কারণে জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগ দ্বিধাবিভক্ত। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি ক্ষুদ্র অংশ নিয়ে দল পরিচালনা করছেন। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতিসহ কমিটির ৬৯ সদস্যের মধ্যে ৫০ জনের বৃহৎ অংশ নিয়ে অপর গ্রুপ পৃথকভাবে সাংগঠনিক কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও শুভাকাক্সক্ষীরা মনে করেন দলের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেলতে পারলে এ আসনে জয়লাভ করা তেমন কঠিন হবে না।
জয়পুরহাট-১ আসনটি বিএনপির হলেও ২০১৪ সালের নির্বাচনে না যাওয়া এবং জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতির কারণে তাদের ভোট অনেক কমেছে। অপরদিকে এ আসনটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। এ আসনে আদিবাসীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রায় ৮০ হাজার ভোটার রয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা এ আসনে একজন যোগ্য, নেতাকর্মীবান্ধব ও ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিলে নৌকা মার্কার বিজয় সুনিশ্চিত। আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকা-ের জন্য তাদের ভোট বেড়েছে বলে মনে করেন জেলা আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
গত সংসদ নির্বাচনে অংশ না নিলেও এবার বিএনপি এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিএনপির হাতছাড়া হওয়া আসনটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জয়পুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ ফজলুর রহমান এবার দলের মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়াও এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন সদ্য প্রয়াত জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোজাহার আলী প্রধানের ছেলে রানা প্রধান, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মমতাজ উদ্দিন ম-ল, জেলা সহসভাপতি অধ্যক্ষ শামছুল হক, জেলা সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নাফিজুর রহমান পলাশ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফুর ম-ল, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আমৃত্যু কারাদ-ে দ-িত সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলীমের ছেলে ফয়সল আলীম। জামায়েতের একক প্রার্থী হলেন দলের জেলা আমির ডা. ফজলুর রহমান সাঈদ। তারাও মাঠে ময়দানে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০১৩-১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় সহিংস ঘটনার কারণে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অনেক মামলা রয়েছে। এসব মামলা নিয়ে বিএনপির নেতারা অনেকটা নাজুক অবস্থায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে রয়েছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-বিবাদ। এসব কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি কতটা সফল হবে, তা নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যেই বেশ সংশয় রয়েছে।
আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনী জোট হলে জোটের প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করবেন বলে জানান জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক তিতাস মোস্তফা, জেলা জাতীয় পার্টির নেতা রিপন। আর জোট না হলেও জাতীয় পার্টির একক প্রার্থী হবেন তিনি। গত নির্বাচনের মতো এবারের নির্বাচনও মহাজোটের ব্যানারে হবে এমন প্রত্যাশার কথা জানান জেলা জাপার সভাপতি হেলাল উদ্দিন। সরকারের সাফল্য ও বহুমুখী উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ জয়পুরহাটের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনটি ধরে রাখার জন্য যেমন চেষ্টা করছে তেমনি বিএনপিও আসনটি উদ্ধারের চেষ্টায় মাঠে নেমেছে। জয়পুরহাটের এ আসনটি ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত একটানা দখলে রাখে বিএনপি। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনটিতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এডভোকেট সামছুল আলম দুদু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন পুরোদমে। জয়পুরহাট-১ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সাম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় নতুন মুখের সংখ্যা বেড়েছে। আবার উভয় দলের জন্য বর্তমানে বড় সমস্যা হচ্ছে অভ্যন্তরীণ কোন্দল। জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা নিয়ে ক্ষুব্ধ একটি অংশ দলীয় অফিসে অগ্নিসংযোগ করেছে। জেলা আওয়ামী লীগের মধ্যেও দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও জাসদসহ অন্য রাজনৈতিক দল থেকেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়া হবে বলে শোনা যায়।