রোনালদোর জুভেন্তাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক : পেলে

আগের সংবাদ

এবার সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড ও নরওয়ে দূতাবাসের নিন্দা

পরের সংবাদ

হজযাত্রা শনিবার শুরু

হাজিদের যেন দুর্ভোগ পোহাতে না হয়

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১১, ২০১৮ , ৭:৪২ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৮, ৭:৪২ অপরাহ্ণ

প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রী নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন। হজযাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতারকদের বিষয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই না, এ বছরও পবিত্র হজ নিয়ে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক।

আগামী শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট। এ বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি হজযাত্রী হজে গমন করবেন। তার মধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়, বাকিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরব যাবেন। প্রতি বছর বৃহৎ অংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করে থাকে। আর এই নিয়ে হজ এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। হজযাত্রীরা এজেন্সিগুলোর নানা প্রতারণার শিকার হন। অনেকে হজ ক্যাম্পে অবস্থান করেও হজে যেতে পারেন না। গত বছরও তেমন চিত্র আমরা দেখেছি। হজযাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাপক সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়ার পরও প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হজযাত্রীর দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শিকার হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। এমন চিত্র এবছর আর দেখতে চাই না। হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণা, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির কারণে প্রতি বছরই হজযাত্রীদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তির মুখে। গত বছর হজ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগে ৬৪টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৭টি এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছে সরকার। এজেন্সিগুলো এবার কতটা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করবে সেটা দেখার বিষয়। হজযাত্রীদের দুর্ভোগের আরেকটি বড় কারণ বাংলাদেশ বিমানের শিডিউল বিপর্যয়। গত বছর এই বিপর্যয় বড় শঙ্কার কারণ হয়ে উঠেছিল। প্রথম দিকে বিমানে যাত্রীই পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে। শেষ দিকে সৌদি আরব বিমানের জন্য অতিরিক্ত প্লট বরাদ্দ করায় কোনো রকমে পরিস্থিতি সামলানো গিয়েছিল। কিন্তু এ বছর তারা জানিয়ে দিয়েছে, কোনো অতিরিক্ত প্লট বরাদ্দ করা যাবে না। সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, এখনো বিমানের প্রায় ১৪ হাজার টিকেট অবিক্রীত রয়ে গেছে। ফলে এ বছরও শেষ দিকে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টিকেট বিক্রিতে এজেন্সিগুলো ভ‚মিকা রাখা জরুরি। একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব দায়ভার রয়েছে। তারা সঠিক, সুচিন্তিত ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। হজযাত্রীদের সেবা দিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিয়োজিত সংশ্লিষ্ট সবাই যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন কিনা, তা কঠোরভাবে মনিটর করাও দরকার। বিশেষ করে হজ এজেন্সিগুলোকে জোর মনিটরিংয়ে রাখতে হবে। দায়িত্বে গাফিলতি প্রমাণ হলে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি হজযাত্রী নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে আসছেন। হজযাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতারকদের বিষয়ে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। আমরা চাই না, এ বছরও পবিত্র হজ নিয়ে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক। কোনো প্রতারণার ঘটনা ঘটুক।