বেলজিয়ামের সামনে রেকর্ডের হাতছানি

আগের সংবাদ

বিয়ে সারলেন মিঠুন পুত্র

পরের সংবাদ

আ.লীগ ফের আশাবাদী পুনরুদ্ধার চায় বিএনপি

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ১০, ২০১৮ , ৪:৫১ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ১০, ২০১৮, ৪:৫১ অপরাহ্ণ

বীরগঞ্জ ও কাহারোল উপজেলা নিয়ে গঠিত দিনাজপুর-১ আসন। এ আসনে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে এই হারানো আসনটি ফিরে পেতে চায় বিএনপি-জামায়াত। তবে এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মনোরঞ্জন শীল গোপাল জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছেন। তার নির্বাচনী এলাকা বীরগঞ্জ-কাহারোলে নজিরবিহীন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে আবারো তাকেই এমপি হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী। জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিই আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন বলে জানান দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী। দলীয় নেতাকর্মীরা মনে করেন, এ আসনে মনোরঞ্জন শীল গোপালের বিকল্প কেউ নেই। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা বীরগঞ্জ-কাহারোলের মাটি ও মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হুক্কা মার্কা নিয়ে একবার, পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকেই ওই এলাকার মানুষের অসুখ-বিসুখ ও আপদ-বিপদে পাশে থেকে সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় ঠাঁই করে নিয়েছেন। এ ছাড়া সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় স্কুল-কলেজ, ব্রিজ-কালভার্ট, রাস্তাঘাট, মসজিদ-মাদ্রাসা ও মন্দিরসহ ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মনোরঞ্জন শীল গোপাল জানান, আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করার পর থেকেই আমার সরলতাকে দুর্বলতা মনে করে কতিপয় দলীয় নেতাকর্মী ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে নানা প্রোপাগান্ডা রটিয়ে আমার সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।
সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দলীয় বিরোধিতা কিছু থাকলেও এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপালের আকাশচুম্বী সমর্থন রয়েছে। তবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় জামায়াত প্রার্থী বর্তমান বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ তার প্রধান প্রতিদ্ব›দ্বী হবেন বলে এলাকাবাসী মনে করেন। এ ছাড়া বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বীরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনজুরুল ইসলাম মনজু। তিনি এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ ও মতবিনিময় শুরু করেছেন। তার সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের কারণে ইতোমধ্যেই তিনি যথেষ্ট জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
দিনাজপুর-১ নির্বাচনী এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় বর্তমান এমপি মনোরঞ্জন শীল গোপাল ছাড়াও আরো কয়েকজন মনোনয়ন প্রত্যাশায় মাঠে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতের একজন করে নেতার নাম শোনা যাচ্ছে, যারা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। তবে জোটভিত্তিক নির্বাচনে গেলে বিএনপির জোটের শরিক জামায়াতকে ছেড়ে দিতে পারে।
জানা যায়, এই আসনটিতে ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হন জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ আল কাফী। মেয়াদকাল শেষ হওয়ার আগেই তিনি মারা যান। ওই সময় উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি নির্বাচিত হন মনোরঞ্জন শীল গোপাল। একসময় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা করলেও পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০০৮ সালে নৌকা মার্কা নিয়ে পুনরায় নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনিই এমপি হন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে তিনি ছাড়াও রয়েছেন বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাকারিয়া জাকা, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু হুসাইন বিপু, বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম, বীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শিবলী সাদিক। এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ এডভোকেট হামিদুল ইসলাম, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আলতাফ হোসেন, বীরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিনুর ইসলাম এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ডা. মোফাখ্খারুল ইসলাম প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা যাচ্ছে বীরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র জামায়াত নেতা মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ ও বিএনপি নেতা মনজুরুল ইসলাম মনজুর। একসময় এ আসনটি জামায়াতের দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। তবে মাওলানা মোহাম্মদ হানিফ শক্ত প্রার্থী। যদিও জামায়াত থেকে এককভাবে প্রার্থী হতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করলেও তিনি জোটের প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। ইতোমধ্যে তিনি দলীয় লোকজনকে নিয়ে মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এরই মধ্যে এলাকা ছাড়া হওয়া নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করেন, মনজুরুল ইসলাম মনজু আওয়ামী লীগের জন্য বড় ফ্যাক্টর। বীরগঞ্জ-কাহারোলে তারও শক্ত অবস্থান রয়েছে। আগামী নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলের জনসমর্থন নিয়ে তিনি এলাকায় সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি সবসময় অগ্রণী ভ‚মিকাও পালন করেন। গত বন্যার সময় তিনি এককভাবে হাজার হাজার দুর্গত মানুষকে সাহায্য দিয়েছেন। কেউ তার কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি খালি হাতে ফেরান না এলাকায় এমন সুনামও রয়েছে তার।
পেশায় ব্যবসায়ী বিএনপি নেতা মনজুরুল ইসলাম মনজু বলেন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আমি একজন। আমি ছাড়া বীরগঞ্জ-কাহারোলে বিএনপির অন্য কোনো প্রার্থী নেই। যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।