যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট বিষয়ক মন্ত্রীর পদত্যাগ

আগের সংবাদ

গাজীপুর সদরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১

পরের সংবাদ

মুক্তি পেতে আরো ৪ মামলায় জামিনের অপেক্ষা খালেদার

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৯, ২০১৮ , ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৮, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ৪টি মামলা দায়ের করা হয় বিগত সেনা সমর্থিত এক-এগারোর সরকারের সময়ে। বাকি ৩২টি মামলা দায়ের করা হয় বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। হত্যা, সহিংসতা, রাষ্ট্রদ্রোহ, দুর্নীতি, আদালত অবমাননা মানহানিসহ নানা অভিযোগে এসব মামলা করা হয়। এর মধ্যে ৪টি মামলায় জামিন পেলে তার কারামুক্তি মিলতে পারে। মামলাগুলো সবই নিম্ন আদালতের। এগুলো হলো কুমিল্লায় নাশকতা ও বাসে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার অভিযোগে ৩০২ ধারায় (হত্যা মামলা) একটি, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, মানচিত্র ও জাতীয় পতাকাকে অবমাননার অভিযোগে ঢাকার আদালতে দায়ের করা একটি, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালনের অভিযোগে ঢাকার আদালতে একটি ও নড়াইলে মানহানির একটি মামলা।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হয় গত ৮ ফেব্রæয়ারি। সে দিন থেকেই তিনি পুরনো ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন। এ মামলা থেকে খালাস চেয়ে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য ছিল গতকাল রবিবার। এ জন্য হাইকোর্টের কজ লিস্টে (কার্যতালিকা) মামলাটি ১৩ নম্বরে ছিল। কিন্তু এ দিন আপিল শুনানি হয়নি। তার আইনজীবীদের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ‘নট টুডে’ আদেশ দেন।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী ও কায়সার কামাল সময় চেয়ে আবেদন করেন। কায়সার কামাল বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির যে নির্দেশনা তা পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ করা হয়েছে। এ কারণে সময় চেয়েছি।
অন্যদিকে এ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে আবেদনের শুনানি পিছিয়ে আজ সোমবার দিন ঠিক করেছেন হাইকোর্ট। গত ১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্র্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের দেয়া জামিন আপিল বিভাগেও একপর্যায়ে বহাল থাকে। কিন্তু হাইকোর্টের দেয়া চার মাসের জামিনের মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে থাকায় জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি চেয়ে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়ার আইনজীবী।
খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে করা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদন (রিভিশন) আপিল বিভাগে শুনানির কথা রয়েছে।
৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলাও চ‚ড়ান্ত ধাপে রয়েছে। এ মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। আগামীকাল ৯ জুলাই সোমবার পর্যন্ত এ মামলায় তার জামিন রয়েছে। ওই দিন শুনানি শেষে জামিনের মেয়াদ বাড়তে পারে। আর জামিন বাতিল হলে আরো একটি মামলায় জামিন আটকে যেতে পারে।
মোট ৩৬ মামলার মধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন, তদন্ত চলছে ১৪টি মামলার এবং আদালতের নির্দেশে ৩টি মামলার কার্যক্রম স্থগিত আছে। বিচারাধীন ১৯টি মামলার মধ্যে ১৪টির বিচার কার্যক্রম রাজধানীর পুরান ঢাকার বকশিবাজারের বিশেষ আদালতে রয়েছে। এ ছাড়া মহানগর হাকিম আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মানহানির বেশ কিছু মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তা ছাড়া রাজধানীর দারুস সালাম থানার নাশকতার ৮টি, যাত্রাবাড়ী থানায় নাশকতার ২টি ও রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলা মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালতে বিচারাধীন।
এদিকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি বিশেষ জজ-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এ ছাড়া নাইকো দুর্নীতি মামলা রয়েছে ঢাকার বিশেষ জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল কবিরের আদালতে। গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক এম আতাউর রহমানের আদালতে বিচারাধীন। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতির মামলাটি ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এস এম রুহুল এমরানের আদালতে। এ ছাড়া গুলশান ও দারুস সালাম থানার নাশকতাসহ ড্যান্ডি ডায়িং মামলাটি উচ্চ আদালতের আদেশে স্থগিত রয়েছে।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে সর্বমোট মামলা ৩৬টি। ৪টি মামলায় নিম্ন আদালতে আমরা জামিন পাইনি। হাইকোর্টে জামিনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ ব্যাপারে বিএনপি নেতা ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, দেশের উচ্চতম আদালত যেখানে খালেদা জিয়াকে জামিন দিচ্ছেন, সেখানে নানা কৌশলে ও ষড়যন্ত্র করে সেই আদেশকে অকার্যকর করে দেয়ার জন্য নিম্ন আদালতের একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ম্যাজিস্ট্রেট কে? এই ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাহী বিভাগের অধীনে কাজ করেন। তিনি বলেন, গত ১১ ডিসেম্বর যে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে বিচারকদের নিয়োগ-বদলি-শৃঙ্খলাসহ নিম্ন আদালতের সব কিছু এখন নির্বাহী বিভাগের কাছে চলে গেছে। যেটা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে থাকার কথা ছিল। এভাবে বিচার বিভাগকে সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচার বা সুবিচার সম্পূর্ণভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছে এই ধরনের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
মওদুদ বলেন, বিচারের অঙ্গনে যদি সুবিচার না পাওয়া যায় তাহলে রাজপথ ছাড়া তো অন্য কোনো বিকল্প থাকতে পারে না। তাই আইনের লড়াই চলবে, তারপরও যদি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা না যায় তাহলে রাজপথই হবে তার মুক্তির জন্য একমাত্র পথ।