অজের নিয়ে আসছে ‘এলটিই’ (৪জি) সেবা

আগের সংবাদ

এলসিডি,এলইডি এবং ওএলইডি সম্পর্কে জেনে নিন

পরের সংবাদ

আ.লীগের ছয় ও বিএনপির দুই সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৯, ২০১৮ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৯, ২০১৮, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা-৪ (দীঘলিয়া-রূপসা-তেরখাদা) আসনের সব জায়গায় এখন ভোটের হাওয়া লেগেছে। নির্বাচন সামনে রেখে বড় দুই দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং শুরু করেছেন। এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের ৬, বিএনপির ২ এবং খেলাফত মজলিশের একক প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন ।
খুলনার দীঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলা নিয়ে খুলনা-৪ আসন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭২ এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৫৭ জন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৯ জন সম্ভাব্য প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। এসব প্রার্থী হলেনÑ প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, বর্তমান সংসদ সদস্য জেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক হুইপ এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ও স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক সাবেক ফুটবলার সালাম মুর্শিদী, সাবেক সংসদ সদস্য মোল্লা জালাল উদ্দীন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সুজিত অধিকারী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান জামাল। বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল এবং তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শাহ কামাল তাজ। খেলাফত মজলিশের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দীঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা উপজেলার ভোটারদের মধ্যে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজারে চলছে
আলোচনা। কেমন প্রার্থী আওয়ামী লীগ ও বিএনপির টিকেট নিয়ে নির্বাচনের মাঠে আসছেন। তবে এবার আগেভাগেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী তোড়জোড়। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের প্রচারণায় তৃণমূল কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্যম দেখা দিয়েছে।
খুলনা-৪ আসন বেশির ভাগ সময়ই ছিল আওয়ামী লীগের দখলে। গত ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা এ আসনে জয়লাভ করেন। তবে ২০০১ সালে জয়ের স্বাদ পান বিএনপি প্রার্থী খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মোল্লা জালাল উদ্দীন।
কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, দীঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তৃণমূল মানুষের মধ্যে রয়েছেন এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার ব্যাপক প্রভাব। মাঠপর্যায়ে দলের ভেতরে ও বাইরে বিপুল জনপ্রিয়তা থাকা সত্তে¡ও অসুস্থতাজনিত কারণে সুজাকে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে আনা হচ্ছে। একসময়ের দেশের সেরা ফুটবলার সালাম মুর্শিদীকে খুলনা-৪ আসনে এবার ক্ষমতাসীন দলের নৌকার মাঝি হয়ে উঠতে দেখা যাবে। মুর্শিদী দেশের শীর্ষ স্থানীয়দের ধনীদের একজন। খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটিতে সালাম মুর্শিদীর পৈতৃক বাড়ি। মুর্শিদী সম্প্রতি গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর দুই দফায় সভাপতি ছিলেন। প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সালাম মুর্শিদী একই সঙ্গে স্কয়ার হাসপাতালের পরিচালক। এনভয় গ্রæপের একাধিক ইউনিটের মালিক। প্রধানমন্ত্রী আগামী নির্বাচনে খুলনা-৪ আসনে সালাম মুর্শিদীকে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান দীঘলিয়া-রূপসা-তেরখাদা এলাকায় নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও খুলনার যে কোনো একটি আসন থেকে তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। অন্যদিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল এবং দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শরীফ শাহ কামাল তাজ। তবে এবার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন হেলাল। ঢাকা ও লন্ডন থেকে এরই মধ্যে সবুজ সংকেত পেয়ে ঘর গোছাচ্ছেন তিনি।