১৮ যুগ্মসচিবের দপ্তর বদল

আগের সংবাদ

রাইফার মৃত্যু : অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

পরের সংবাদ

পোশাক শ্রমিকদের মজুরির প্রস্তাবনা ১৬ জুলাই

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৮, ২০১৮ , ১০:৩৬ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৮, ২০১৮, ১০:৩৬ অপরাহ্ণ

আগামী ১৬ জুলাই সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের কাছে প্রস্তাবনা দেবে মালিক ও শ্রমিক পক্ষ।

রবিবার রাজধানীর তোপখানা রোডের নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় বৈঠক শেষে বোর্ড প্রতিনিধিরা সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।

চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। বোর্ডকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

আজকের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন চার সদস্য বিশিষ্ট স্থায়ী নিম্নতম মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা জজ সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, মালিকপক্ষের প্রতিনিধি কাজী সাইফুদ্দীন আহমদ, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ফজলুল হক মন্টু। অস্থায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান ও শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি জাতীয় শ্রমিক লীগের নারী বিষয়ক সম্পাদিকা বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া।

বৈঠক শেষে বোর্ড চেয়ারম্যান সৈয়দ আমিনুল ইসলাম বলেন, মালিক ও শ্রমিক পক্ষ জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাবনার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারা অল্প কিছু সময় চেয়েছে। আমরা সময় দিয়েছি, যাতে ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা যায়। আগামী ১৬ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টায় মজুরি বোর্ডের পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, সেখানে তারা তাদের প্রস্তাবনা দাখিল করবেন।’

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মালিকের সক্ষমতা ও শ্রমিকের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী মজুরি নির্ধারিত হবে। ১৬ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছে আমাদের প্রস্তাবনা এর মধ্যেই আমরা তৈরি করে ফেলবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে শ্রমিক পক্ষের প্রতিনিধি বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, ‘আসলে প্রস্তাবনা জমা দেয়ার জন্য আমরা মোটামুটি তৈরি ছিলাম। গ্রেড নিয়ে একটু সমস্যা ছিল। সাতটি গ্রেড ছিল, কিছু কিছু সংগঠন আমরা এটিকে পাঁচটি গ্রেডে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছিলাম। শেষ মুহূর্তে গ্রেড নিয়ে একটু সমস্যা তৈরি হয়েছে। ৬, ৫, ৪ কে একটি গ্রেড করা হয়েছিল। এতে করে দেখা গেছে, ৬নং গ্রেডের শ্রমিকেরা যদি ৪নং গ্রেডের মতো বেতন পায় তাহলে শ্রমিক অঙ্গনে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে। যার জন্য মালিকপক্ষও যেহেতু সাবমিট করেনি, একটু সময় পাওয়া গেল। একপক্ষ দিলে তো আর কোনো আলোচনা হবে না। আমি আশা করি এই সময়ের মধ্যে আমরা সাবমিট করতে পারবো।

প্রসঙ্গত, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর। তিন হাজার টাকা মূল বেতন ধরে পাঁচ হাজার ৩০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি ঠিক করা হয়েছিল তখন। নতুন কাঠামোয় ওই বেতন তারা পাচ্ছেন ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে।

গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র নূন্যতম বেতন ১৬ হাজার টাকা ও গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নামের অপর একটি সংগঠন চলতি জুলাই মাসের মধ্যেই নূন্যতম বেতন ১৮ হাজার টাকা ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। মজুরি বোর্ডের বৈঠক চলাকালে নিম্নতম মজুরি বোর্ড কার্যালয়ের নিচে দুটি শ্রমিক সংগঠন সমাবেশ করে এ দাবি জানায়।