বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও একটি নিদান

আগের সংবাদ

ম্যাগুয়েরের গোলে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড

পরের সংবাদ

কোটা সংস্কার আন্দোলন : ধৈর্য ও সহনশীলতাই কাম্য

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৭, ২০১৮ , ৮:১৪ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৮, ৮:১৫ অপরাহ্ণ

বিভুরঞ্জন সরকার

সাংবাদিক ও কলাম লেখক

যারা কোটা সংস্কারের আন্দোলনে আছেন, তাদের যেমন সংযত হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সরকারকেও সতর্ক থাকতে হবে। সরকার সমর্থকদের বাড়াবাড়ি যেমন পরিস্থিতি নাজুক করে তুলবে, তেমনি আন্দোলনকারীদের জেদ বা গোঁয়ার্তমিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। সব পক্ষেরই এখন ধৈর্য এবং সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তরুণ সম্প্রদায়কে ঢালাওভাবে সরকারের প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের পক্ষে রাখার উপায় খোঁজাই হবে নির্বাচনের বছরে সরকারের উত্তম কৌশল!

চলতি হাওয়া

কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও আন্দোলনকারীরা রাজপথ ছেড়েছিল। পরিস্থিতি যেভাবে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেভাবে শিক্ষার্থীরা রাজপথে বেরিয়ে আসছিল তাতে দেশে একটা অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হয়েছিল।

তখনই এটা অনেকেই বলেছিলেন এবং যার পেছনে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ এবং যুক্তি ছিল যে, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের পেছনে ‘রাজনীতি’ আছে। কোটা সংস্কারের দাবিটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণ যেমন ছিল বা আছে, তেমনি এই আন্দোলন যে মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের বিদ্বেষ ও ঘৃণা তৈরিতেও সহায়ক হয়েছে- সেটাও অস্বীকার করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি কোটা ব্যবস্থার সুযোগে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরোধিতা করার, তাদের হেয় করার, তাদের ‘মেধা-যোগ্যতা’ নিয়ে কটাক্ষ করার সুযোগ পেয়েছিল। ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াত কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত করার মতলব করেছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল, নেতৃত্বেও তারাই ছিল। সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও এই আন্দোলনে ছিল, সেটা বুঝে কিংবা না বুঝে।

এই আন্দোলন সম্পর্কে সরকারের যে সব বিষয়ে সচেতন ও সতর্কতা অবলম্বন জরুরি ছিল, সরকার সেগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে- সেটা বলা যাবে না। যে বিষয়গুলো স্পর্শকাতর, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না করে ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা বাড়ে। কোটা সংস্কার বা বাতিলের বিষয়টি নিয়ে সরকারকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা উচিত ছিল। গত ২ জুলাই আবার একটি অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম হওয়ার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে সাত সদস্যের যে কমিটি করা হয়েছে, সেটা আরো আগে করলে কি এবারের আন্দোলন-উত্তেজনা এড়ানো সম্ভব হতো না?

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও নতুন করে কোটাবিরোধীরা মাঠে নামলে এবার তাদের মোকাবেলায় ছাত্রলীগও মাঠে নেমে পড়ে। আন্দোলনকারীরা ছাত্রলীগের হাতে লাঞ্ছিত হয়। মারপিট, লাঠির আঘাত, কিল-ঘুষি-লাথি-চড়-থাপ্পড় কোনো কিছুই বাদ যায়নি। ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে আন্দোলনকারীদের প্রতিরোধের সিদ্ধান্তই সম্ভবত ছাত্রলীগ নিয়েছে। সে জন্য কোটাবিরোধীরা ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছেন। ‘প্রতিরোধ’ স্পৃহা যখন সামনে থাকে তখন আর শক্তি প্রয়োগের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। ফলে ঢাকায় একজন ছাত্রী প্রতিরোধকারীদের হাতে চরমভাবে অপমানিত হয়েছেন। তার শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে লাঞ্ছিত করতেও ছাত্রলীগ নামধারীরা কুণ্ঠিত হয়নি বলে ওই ছাত্রী নিজেই সবাইকে জানিয়েছেন। আর রাজশাহীতে একজন ছাত্রকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে প্রায় পঙ্গু করে ফেলা হয়েছে। ঢাকায় হামলার কথা ছাত্রলীগ স্বীকার করেনি। ঢাকার মারামারি কোটাবিরোধীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল বলে ছাত্রলীগ দাবি করলেও গণমাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এসেছে এবং সবাই তা জেনেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ছাত্রলীগের নামে ধিক্কার দেয়া হচ্ছে। আসলে যে সব খবর জানা যাচ্ছে তাতে ছাত্রলীগ এখন আর কারো সহানুভ‚তি পাওয়ার অবস্থায় নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ছাত্রলীগ এখন এক দুর্বৃত্তায়িত সংগঠনের নাম। অনেকেই বলছেন, ছাত্রলীগে এখন শিবির-ছাত্রদলের কর্মীরা ঢুকে পড়েছে এবং তারাই শিবিরীয় স্টাইলে ছাত্রলীগ চালাচ্ছে।

গত ২ জুলাই বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তরিকুল ইসলামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর কয়েকজন ছাত্র, যাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে গণমাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নাম, সাংগঠনিক পরিচয় সংবাদপত্রে ছাপা হয়েছে। ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, ‘কোটা আন্দোলনের নামে সে দিন যারা এসেছিলেন, তাদের ভেতরে প্রচুর শিবির ঢুকে পড়েছিল। তারা পতাকা বহনের নামে লাঠি বহন করছিল। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে চেষ্টা করা হচ্ছিল কেউ যেন কোটা আন্দোলনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে না পারে’।

কোটা আন্দোলনে যদি শিবির ঢুকে থাকে, কেউ যদি ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি ‘অস্থিতিশীল’ করতে চায় তাহলে তা প্রতিরোধের দায়িত্ব ছাত্রলীগের ওপর কে চাপালো? বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তে ছাত্রলীগ মাঠে নেমে যা যা করেছে তাতে একদিকে যেমন ছাত্রলীগ নিন্দিত-ধিকৃত এবং সমালোচিত হচ্ছে, তেমনি একই সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তিও চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের পেছনে বিএনপি-জামায়াতের ইন্ধন আছে বলে সরকার মনে করছে। সুযোগ সন্ধানীরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করবে- সেটাই স্বাভাবিক। যে কোনো জনপ্রিয় আন্দোলনকে নিজেদের পক্ষে টানার কৌশল নতুন কোনো ব্যাপার নয়। ছাত্রাবাসের ডাইনিংয়ে ডাল পাতলা হলে সে জন্য কি আইয়ুব খানকে দায়ী করে স্লোগান-মিছিল হয়নি?

সময়ের কাজ সময়ে করলে মতলবাজ, সুযোগ সন্ধানীরা মতলব হাসিলের সুযোগ পায় না। কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনের ক্ষেত্রে সুযোগ সন্ধানীদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এই দাবিতে আন্দোলন অনেক দিন ধরেই চলছে। সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি দুনিয়ার অনেক দেশেই আছে। অনগ্রসর বা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য কোটা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আমাদের দেশে এটা নিয়ে অহেতুক জটিলতা এবং বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। কোটা পদ্ধতি তুলে দিলেও আমাদের দেশে সব ‘মেধাবী’ সরকারি চাকরি পাবেন না। চাকরি প্রার্থীর তুলনায় শূন্যপদ কম হওয়ায় সবার জন্য চাকরির ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য আন্দোলন না করে আমাদের শিক্ষার্থীদের মনোযোগ কেন শুধু কোটায় গিয়ে ঠেকলো, সেটা ঠিক বোধগম্য নয়। কোটা পদ্ধতিকে যেভাবে মেধাবিরোধী বলে প্রচার করা হয়েছে, সেটাও যথার্থ হয়েছে বলে মনে হয় না। আবার কোটা সংস্কারের আন্দোলন দমনের জন্য সরকার যেভাবে শক্তি প্রয়োগের পথ অনুসরণ করছে, সেটাও সমর্থনযোগ্য নয়। গত ক’দিনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাত্রলীগ এবং সরকার যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে তা কি সরকারের নীতিনির্ধারকদের নজরে পড়েছে?

ফেসবুকের কয়েকটি প্রতিক্রিয়া এখানে তুলে ধরা হচ্ছে সমালোচনার ধারাটি বোঝার জন্য। অত্যন্ত নরম ভাষার সমালোচনাগুলোই বেছে নেয়া হয়েছে। কেউ কেউ আরো তীর্যক ও আক্রমণাত্মক ভাষাও ব্যবহার করেছেন।

রাজশাহীতে একজন ছাত্রকে হাতুড়ি পেটা করা নিয়ে একজন লিখেছেন : ‘হাতুড়ি পিটিয়ে গণতন্ত্র মজবুত করা যায় না। এটা ভয়ের, আতঙ্কের জন্ম দেয়। ভয়ের সংস্কৃতির ভবিষ্যৎ ভয়াবহ হয়। ভয় দেখিয়ে জয় করার প্রবণতা হিতে বিপরীত হবে’। -নীরতেষ সি দত্ত

‘রগ কাটার পর এবার হাতুড়ি পেটা! জানি না এরপর আর কি অপেক্ষা করছে। সত্যি ভীষণ উদ্বিগ্ন বোধ করছি!’ -মোরশেদ শফিউল হাসান

ছাত্রী নিগ্রহের প্রসঙ্গে একজন লিখেছেন : ‘কোটা সংস্কারবাদীদের বিরুদ্ধে হামলা এবং বিশেষত ছাত্রীদের ওপর হামলা ও লাঞ্ছনার যে খবর ও প্রতিবেদন মিডিয়াতে আসছে তাতে হামলাকারী তরুণদের পরিচয় যাই হোক না কেন, তারা যে একটি হিংস্র, মানবিক মূল্যবোধহীন পশুতে রূপান্তরিত হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বলতে দ্বিধা নেই যে এ দানবদের সৃষ্টি করেছে এ দেশের রাজনৈতিক নেতারা, যাদের অধিকাংশই এখন চরম দুর্নীতিগ্রস্ত। নীতিহীন ও মূল্যবোধহীন মানুষ। উপরিকাঠামোর উন্নয়নের নিচে এ ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে বোধহয় আর চুপ করে থাকার উপায় নেই’। -হামীম ফারুক

‘আমরা সবাই কি অনেক বেশি ভদ্র হয়ে গেছি!

নয়তো কেন সবাই এমন চুপচাপ, শান্তশিষ্ট হয়ে আছি?
আমরা বোধকরি লজ্জাশরমের মাথা খেয়ে বসেছি। নয়তো কীভাবে বোনের বয়সী বোনটিকে, মেয়ের বয়সী মেয়েটিকে নিজেরাই পশুরূপে লাঞ্ছিত করছি! অতঃপর যেন কিছুই হয়নি মনে করে দিব্বি চলছি ফিরছি। কেউ কেউ ফিট বাবুটি সেজে মঞ্চ কাঁপিয়ে কত কিছু বলছি। বলতে বলতে ভুলে যাচ্ছি, কি বলতে গিয়ে কি বলছি। প্রকারান্তরে আমরা আমাদের বীরাঙ্গনা মাকে নিয়ে উপহাস করছি। কোন জাদুর বশে আমরা এমন বশ হয়ে গেছি! সময়ের কোন কঠিন রোগে আজ আমরা এমন জরাগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। আমাদের মস্তিষ্ক, চক্ষু, কর্ণ, হৃৎপিÐ ক্রমশ সবকিছু খোয়াতে বসেছি। আজ মনে হয়, বিবেক-বুদ্ধির নাম যেন গল্পে শুনেছি। এখন কেবল স্বার্থের রুমালে চোখ বেঁধে নিজেদের সঙ্গে নিজেরাই যেন খেলছি কানামাছি। এই তো বেশ, ক্রমশ আমরা আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের দাঁতগুলো কেউ বোধ করি ভেঙে দিয়েছে হাতুড়ি দিয়ে। হচ্ছে না তাই সুস্পষ্ট উচ্চারণ, যা বলতে চাচ্ছি’। – আফরোজা বুলবুল।

প্রতিক্রিয়াগুলো নিঃসন্দেহে ঝাঁজালো কিন্তু অসঙ্গত নয়। আন্দোলনকারীদের গায়ে বিএনপি-জামায়াতের ট্যাগ লাগিয়ে দিয়ে সরকার হাত মুছে ফেলতে পারবে না। যারা ক্ষমতায় থাকেন, দায়-দায়িত্ব তাদেরই বেশি। সরকারবিরোধীরা সরকারকে চাপে রাখতে, বিপাকে ফেলতে সচেষ্ট থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মনে ক্ষোভ-অসন্তোষ থাকবেই। যেসব কারণে ক্ষোভ-অসন্তোষ দেখা দেয় সেগুলো দূর না করে সরকার দমন-পীড়নের পথে হাঁটলে তা ভালো পরিণতির দিকে যায় না। কোটা সংস্কার বা কোটা বাতিলের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান স্বচ্ছ হতে হবে। সরকারকে বিপাকে ফেলার ষড়যন্ত্র কেউ করছে না, কোটা আন্দোলন কোনো বড় ষড়যন্ত্রের অংশ নয়- এমন কথা বলা যাবে না। বিএনপি-জামায়াত ওৎ পেতে আছে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে। পানি ঘোলা করার কাজে সরকার যদি সহযোগীর ভ‚মিকা করে তাহলে আর দোষ দেয়া হবে কাকে? মানুষের মনোভাব বা প্রতিক্রিয়া সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। এগুলো কোনোভাবেই সরকারের পক্ষে যাচ্ছে না এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে শক্তিশালী করছে না। সংঘাত ও বৈরিতার পথ পরিহার করতে হবে সবাইকে। যারা কোটা সংস্কারের আন্দোলনে আছেন, তাদের যেমন সংযত হওয়া প্রয়োজন, তেমনি সরকারকেও সতর্ক থাকতে হবে। সরকার সমর্থকদের বাড়াবাড়ি যেমন পরিস্থিতি নাজুক করে তুলবে, তেমনি আন্দোলনকারীদের জেদ বা গোঁয়ার্তমিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। সব পক্ষেরই এখন ধৈর্য এবং সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। তরুণ সম্প্রদায়কে ঢালাওভাবে সরকারের প্রতিপক্ষ না ভেবে তাদের পক্ষে রাখার উপায় খোঁজাই হবে নির্বাচনের বছরে সরকারের উত্তম কৌশল!

বিভুরঞ্জন সরকার : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।