কাঁঠালের পুষ্টিগুণ

আগের সংবাদ

বাবা হলেন গ্রানকভিস্ট

পরের সংবাদ

বড় দলগুলোতে একক প্রার্থী নেই তেমন তৎপরতা

প্রকাশিত হয়েছে: জুলাই ৭, ২০১৮ , ৫:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৮, ৫:০৩ অপরাহ্ণ

 

আগামী সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে এলেও বড় দলগুলোতে একক প্রার্থী থাকায় পাবনা-৫ (সদর) আসনে নির্বাচনী কার্যক্রম তেমন চোখে পড়ছে না। মনোনয়ন পাওয়া নিয়েও কোনো দলে নেই তেমন প্রতিযোগিতা। নেই শোডাউন-পাল্টাপাল্টি মিছিল-মিটিং, ফেস্টুন-ব্যানারও। জোটগতভাবেও কর্মসূচি নেই কোনো দলের। আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক প্রিন্স, বিএনপির শিমুল বিশ্বাস আর জামায়াতের ইকবালকে নিয়ে চলছে দলগত কার্যক্রম। তবে দলীয় কোন্দল না থাকায় ক্লিন ইমেজের প্রিন্সেই আস্থা আওয়ামী লীগের। বিএনপি-জামায়াতে রয়েছে মনোনয়ন দ্ব›দ্ব। বিএনপির গ্রæপিং এবং জামায়াতকে নিয়ে ত্রিমুখী সমস্যায় রয়েছে ২০ দলীয় জোট।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ দলের শীর্ষ নেতারা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরছেন। অপরদিকে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোটের নেতারা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করার চেষ্টা করলেও নির্বাচন নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করছেন না। তবে বিএনপি ও তাদের শরিক দলের নেতাকর্মীদের দাবি, পাবনায় হারানো আসনগুলো পুনরুদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তারা।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাংগঠকি সম্পাদক তরুণ নেতা গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে তার রাজনৈতিক ভিত আরো শক্ত হতে থাকে। তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকে প্রবীণ থেকে শুরু করে নতুন প্রজন্মের নেতাদের মধ্যেও। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে দলের জেলা কাউন্সিল হওয়ার পর সদর আসনে আওয়ামী লীগের অবস্থান অনেকটা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ওই কাউন্সিলে বিনা প্রতিদ্বিদ্বতায় গোলাম ফারুক প্রিন্স জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলে প্রকাশ্য কোনো কোন্দল না থাকায় এ আসনে মনোনয়ন নিয়ে দলীয় নেতাদের মধ্যে বিভেদ বা দূরত্ব সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা নেই বলেই মনে করেন দলটির সিনিয়র নেতারা। দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, বিনা টাকায় কর্মস্থান করে দেয়া, ক্লিন ইমেজ হওয়ায় নিজের দল ও সাধারণ মানুুষের মধ্যে রয়েছে গোলাম ফারুক প্রিন্সের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। তার দ্বারা কোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। সব দলের মধ্যেই রয়েছে সহাবস্থান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একমাত্র প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্সের মনোনয়ন প্রাপ্তি এক রকম নিশ্চিতই ধরে রেখেছেন দলের অনেক নেতাকর্মী। এ কারণে অন্যান্য সংসদীয় আসনে দলটির একাধিক প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাশার কথা শোনা গেলেও সদর আসনে জোরালোভাবে তেমন কারো নাম এখন পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে না। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করে কোনো নেতাকর্মীর বিলবোর্ড বা পোস্টারও তেমন চোখে পড়ছে না। ভেতরে ভেতরে কোনো নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও দৃশ্যমান রয়েছেন একজনই। বর্তমান এমপি গোলম ফারুক প্রিন্সের নির্লোভ, সততা, নিরপেক্ষতা এবং সব শ্রেণিপেশার ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক, কথা ও কাজের মিল থাকাসহ বিভিন্ন কারণে জেলার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে ব্যাপক। দলকে সুসংগঠিত করায় এ আসনে প্রিন্সের বিকল্প কেউ নেই বলে মন্তব্য করেন দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগের আরো মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন প্রমুখ। এরা দুজন এবং বর্তমান সাংসদ মিলে একসঙ্গে দলীয় ও সরকারের উন্নয়ন প্রচার কার্যক্রম নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। মোশাররফ হোসেন দুবার পৌর সভার চেয়ারম্যান এবং দুবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। বর্তমানে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি প্রতিনিয়ত দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে রয়েছে তার নিবিড় সম্পর্ক।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সাবেক ভিপি ও জিএস এবং জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সদর উপজেলার প্রত্যেক অঞ্চলে নিবেদিতভাবে দলীয় কাজ করে যাচ্ছেন। সোহেল হাসান শাহীনেরও রয়েছে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক।

এদিকে বিএনপিতে রয়েছে দীর্ঘদিনের দ্ব›দ্ব। বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। এক গ্রæপের নেতৃত্বে আছেন দলের চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে প্রায় সব ইউনিট। শিমুল গ্রুপের নেতারা মূল বিএনপির ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে থাকেন। শিমুল বিশ্বাসের কর্মকাণ্ড নিয়ে সন্তুষ্ট নেতাকর্মীরা। ফলে এই গ্রুপের বাইরে যারা রয়েছেন তারা অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছেন। এ আসনে শিমুল বিশ্বাস ২০০৮ সাল থেকেই নির্বাচন করতে আগ্রহী। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা আবদুস সুবহানের কারণে তিনি মনোনয়ন পাননি। তবে সুবহান যেহেতু আর নির্বাচন করতে পারছেন না, তাই বিএনপি নির্বাচনে গেলে এবার মনোনয়ন শিমুলই পাবেন বলে আশা করছেন তার সহযোগীরা।
মূল বিএনপির বাইরে রয়েছে ‘বিএনপি রক্ষা কমিটি’ গ্রুপ। এই গ্রুপে তিনবার নির্বাচিত পাবনা পৌর মেয়র ও সাবেক জেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান মিন্টুর নেতৃত্বে রয়েছেন বেশ কিছু জনপ্রতিনিধিসহ নেতাকর্মী। মিন্টু গ্রুপ নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ ভ‚মিকা রাখবে।

শিমুল বিশ্বাস দলীয় মনোনয়ন পাবেন এমন কথা অনুসারীদের মুখে মুখে। তবে তিনি কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম করছেন না। এলাকায় না থাকায় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দেখা সাক্ষাৎও হচ্ছে কম। শিমুল বিশ্বাস নির্বাচনে মনোনয়ন পেলে কামরুল হাসান মিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হবেন। সে ক্ষেত্রে বেকায়দায় পড়বেন শিমুল বিশ্বাস। অপরদিকে জামায়াতের একটা বড় অংশ শিমুল বিশ্বাসের বিরোধিতা করার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, এ আসনে দীর্ঘদিন ধরে জামায়াত নির্বাচন করে আসছে এবং শিমুল বিশ্বাস একসময় বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এদিকে জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, জামায়াত যদি সারা দেশে দুটি আসনও পায় তা হবে পাবনা সদর ও সাঁথিয়া আসন। তাই জোট থাকাবস্থায় এ আসনে শিমুলের প্রার্থী হতে চাওয়াটা অবাস্তব। জামায়াত নেতা ও পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ইকবাল হুসাইনকে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে বলে ইতোমধ্যেই প্রচার শুরু হয়েছে। জেলা জামায়াতও নীতিগতভাবে মাওলানা ইকবাল হুসাইনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত কারাকন্দি জামায়াতের নায়েবে আমির মওলানা আব্দুস সোবহানের ছেলে নেসার উদ্দিন নান্নুর নামও শোনা যাচ্ছে। তবে তা তেমন জোরালো নয়।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক এমপি মকবুল হোসেন সন্টু, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আলহাজ মন্তাজ উদ্দিন ও জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের খান কদরও দলীয় টিকেট পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। তবে পার্টির কোনো কর্মকাণ্ড চোখে পড়ছে না। ইসলামী আন্দোলনের নেতা, শিক্ষক নেতা পাবনা কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আরিফ বিললা আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন।
এ আসনে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুস সুবহান আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বকুলকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার বিএনপি প্রার্থী বকুলকে পরাজিত করে এমপি নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুস সুবহান আওয়ামী লীগ প্রার্থী ওয়াজি উদ্দিন খানকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের উদীয়মান নেতা গোলাম ফারুক প্রিন্স ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে চারদলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহানকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম ফারুক প্রিন্স বিনা প্রতিদ্বিদ্বতায় নির্বাচিত হন।